ইসরায়েলকে শক্ত শিক্ষা দিতে চান এরদোগান, কথা বললেন পুতিনের সঙ্গে

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২১

ফিলিস্তিনে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি তাণ্ডবের নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলকে একটা শক্ত শিক্ষা দেওয়া।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যেই বুধবার ফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এরদোগান।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিদ্যমান সহিংসতা নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা পরিষদের এখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত।

ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা বিবেচনা করতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এদিকে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বুধবার তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের দিকে যখন হাজার হাজার রকেট ছুটে যায় তখন তাদেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান বাইডেন।

হামাস বলছে, ফিলিস্তিনিদের বলপূর্বক তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা।

তবে নিজ বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি বাইডেন। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও কোনও কথা বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব উপেক্ষা করে ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষা’র বয়ান হাজির করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, গাজায় বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী। বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এর আগে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতেও আল আকসা মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হামলে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী।

গত কয়েক দিনে গাজায় দখলদার বাহিনীর হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে নিজ বাড়িতেই বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন এক সন্তানসম্ভবা নারী ও তার শিশু সন্তান। নিহতদের মধ্যে ১৭ শিশুও রয়েছে। এমন তাণ্ডবের মধ্যেই উদযাপনহীন রক্তাক্ত এক ঈদ পার করছেন ফিলিস্তিনিরা।

আইএ/

মন্তব্য করুন