নামাজ পড়তে দিতে চায় না ইসরায়েলিরা; দ্বিতীয় রাতে আহত ৮০ মুসলিম

প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

দ্বিতীয় রাতের মতো জেরুজালেমে পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা চলেছে, যাতে অনেক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা স্টান গ্রেনেড এবং জল কামান ব্যবহার করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার প্রতিবাদে সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনের মতো এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার রাতে আল-আকসা মসজিদের কাছে ইসরায়েলের পুলিশি সহিংসতায় দুইশ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি জনের অবস্থা গুরুতর। পাথর ছুড়ে প্রতিরক্ষা করতে গেলে  অন্তত 6 জন ইসরায়েলি পুলিশ আহত হয়েছে জানিয়েছে আল জাজিরা।

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই এলাকায় প্রায়ই মুসলিমদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তবে শুক্রবারের সহিংসতা ছিল এই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তীব্র।

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় যেসব দেশ ভূমিকা রাখে, সেই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ এই সহিংসতার ব্যাপারে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে।

শনিবারের সহিংসতার শুরু হয় জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে যখন ইসলাম ধর্মের পবিত্র রাত লাইলাতুল আল-কদর উপলক্ষে হাজার হাজার মুসলমান আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

এর আগে শনিবার মসজিদ অভিমুখে নামাজীদের নিয়ে যাওয়া অনেক বাস আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবারের বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

”তারা আমাদের নামাজ পড়তে দিতে চায় না। সেখানে প্রতিদিনই লড়াই করতে হচ্ছে, প্রতিদিনই সহিংসতা হচ্ছে। প্রতিদিনই সেখানে সমস্যার তৈরি হচ্ছে,” রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন সাতাশ বছরের মাহমুদ আল-মারবুয়া।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সবার প্রার্থনা করার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে তার দেশ। তবে একে ইসরায়েলের ‘পাপীদের আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস।

সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন