তালিবানের হামলা থেকে বাঁচতে আফগানে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২১
তালেবান। ছবি : আনাদুলু এজেন্সি।

নিরাপদে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য আফগানিস্তানে অতিরিক্ত শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, আমেরিকা এবং ন্যাটো জোটের সেনাদের তালিবান যোদ্ধাদের হামলা থেকে রক্ষা করতে সেখানে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া সৈন্য এবং বেসামরিক ঠিকাদারদের পাহারায় শক্তিশালী বোমারু বিমানও মোতায়েন করা হবে।

গত ১ মে আফগানিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এর মাধ্যমে একটি অন্তহীন যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।

২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে উপস্থিতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর। আগামী সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখের পর্যন্ত সেনা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন এক সময়ে সেনা প্রত্যাহার শুরু হল যখন দেশটিতে নতুন করে সংঘর্ষ বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার দিন কয়েকের মধ্যেই আফগানিস্তানে তালিবান হামলা বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর তালিবানের সঙ্গে আলোচনাকালে নির্ধারিত সময়সীমা ১ মের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে না পারার পর থেকেই তালিবান আফগানিস্তান জুড়ে হামলা শুরু করেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, তারা বিদেশি সৈন্যদের ওপর টার্গেট না করতে কোনো চুক্তি দ্বারা আবদ্ধ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫শ সেনা ও ১৬ হাজার বেসামরিক ঠিকাদারদের সুরক্ষায় ছয়টি বি-৫২ দীর্ঘ রেঞ্জের বোমারু বিমান এবং ১২টি এফ-১৮ যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

জেনারেল মিলি আরও বলেন, তালিবান বিদ্রোহীরা সরকারি স্থাপনায় প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০টি হামলা করছে। কিন্তু গত ১ মে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং জোট সেনাদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হয়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুসারে সৈন্য প্রত্যাহার হচ্ছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেলমান্দ প্রদেশের পাশাপাশি আফগান নিরাপত্তা বাহিনী গত এক সপ্তাহ ধরে গজনি ও কান্দাহারসহ আরও অন্তত ছয়টি প্রদেশে তালিবান হামলা মোকাবিলা করেছে।

হেলমান্দের প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান আতাউল্লাহ বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন দিক থেকে তালেবান হামলা হয়েছে। তারা লস্কর গহর উপকণ্ঠে চেক পয়েন্টগুলোতে হামলা করেছে এবং কয়েকটি চেকপয়েন্ট দখলও করে নিয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাল্টা বিমান হামলা এবং এলিট কমান্ডো বাহিনীও মোতায়েন করে। এরপর তালিবান পিছু হটেছে। তবে লড়াই থামেনি। বৃহস্পতিবারও লড়াই চলেছে। এতে শতশত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। নতুন এই সময়সীমা অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। তালিবান গোষ্ঠী বাইডেনের ঘোষিত সেনা প্রত্যাহারের ১১ সেপ্টেম্বর সময়সীমা মেনে নেয়নি। বাইডেনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচকরা বলছেন, সেনা সরিয়ে নিলে তালিবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করবে।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের দুই থেকে ছয় শতাংশ কার্যক্রম শেষ করেছে। বেধে দেওয়া সেপ্টেম্বরের সময়সীমা মাথায় রেখে তারা এ পর্যন্ত ৬০ পরিবহন বিমানের সমপরিমাণ মালামাল সরিয়ে নিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, সৈন্য প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১৪ এপ্রিলের ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৩০০টি উপকরণ ধ্বংস করে ফেলার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশের দুইটি সামরিক স্থাপনা আফগান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএ/

মন্তব্য করুন