চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর কথা ব‌লে গাছ কাটছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২১

নাজমুল হাসানঃ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট বানানোর কথা বলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল এক ফেসবুক লাইভে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এমন একটি মন্ত্রণালয় যারা ব্যবসা ছাড়া কিছু বুঝে না। সুযোগ পাইলে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ির ছাদেও একটা ফুড কর্ণার বানিয়ে দিবে। তারপর বলবে এতে প্রচুর ব্যবসা হবে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, কুরবানির গরু যেভাবে জবাই করা হয়, কয়েকদিন পরে উন্নয়নের নামে এ গাছগুলো কাটা হবে। কি উন্নয়ন করা হবে? গাছ কেটে রেস্টুরেন্ট বানানো হবে। তাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায়। যেখানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাছের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য সেভাবেই একটি বাড়ির নকশা করা হয়। দেশেও গাছ রক্ষার জন্য স্বাধীনতা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে উদ্যানের মাটির নিচে। তাই এ সামান্য রেস্টুরেন্ট বানাতে নির্দয়ভাবে গাছ কাটা মেনে নেওয়া যায় না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের বক্তেব্যে কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বেড়ায়।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বাংলাদেশে যত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা পয়দা হয়েছে তার বেশিরভাগ অভিযোগ এই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালযয়ের বিরুদ্ধে। আর এরাই কিনা দায়িত্ব নিছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের। বঙ্গবন্ধু বেচে থাকলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ গাছ কাটতে দিতো না। সবকিছুর একটা সীমা আছে। এ গাছগুলোকে বাচিয়ে রেখেও উন্নয়ন করা যেতো।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘গাছ যখন লাগানো হয় একটা সময় গাছ কাটতে হয়। এটা হচ্ছে নিয়ম। গাছ কাটলে কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ব্যবসা হয়, ইনকাম হয়। কিন্তু কোন জায়গায় গাছ কাটবেন? কোন জায়গার গাছ কাটলে ব্যবসা হয় সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘গাছ কাটলে যে চিৎকার-চেঁচামেচি এটা না, পরিবেশের জন্য যদি কখনও কখনও ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, গাছ কাটতে হয়। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কেটে এই ধরনের উন্নয়ন আসলে মেনে নেয়ার মতো না।

তিনি বলেন, উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। আর এ উন্নয়নের নামে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় রাতের আধারে রেস্টুরেন্ট বানানোর নামে উদ্যানের অর্ধ-শতাব্দীর শতাধিক পুরনো গাছ কেটে উজাড় করছে। তারা নিজেরাই জানে এ কাজটি ঠিক না।

জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবগুলো প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৭ টি রেস্টুরেন্ট স্থাপন করার কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত বিভাগ। তাদের দাবি, এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও রয়েছে। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আখতার জানান, নিয়ম মেনেই গাছ কাটছেন তারা।

রমনা পার্ক-সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বলা হয় ঢাকার ফুসফুস। সবুজে ঘেরা পাখ-পাখালির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত এ উদ্যানে নগরবাসীর কাটে স্বস্তির সময়। অথচ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রকৃতির রূপ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান! রেস্টুরেন্ট বানানোর নামে উদ্যানের অর্ধ-শতাব্দীর শতাধিক পুরনো গাছ কেটে উজাড় করছে।

মন্তব্য করুন