যে কারণে কওমি অঙ্গনে অল্প সময়ে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২১

বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা এখন তরুণ প্রজন্মের সমালোচনার শিকার হচ্ছেন বেশি। এই প্রবণতা হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে কওমি অঙ্গনে, যার কারণে এই প্রজন্ম অল্প সময়ের ব্যবধানে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। জানি না এর শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

মনে রাখা দরকার, সবার চিন্তা-চেতনা কখনো এক হবে না। নানা চিন্তা ও মতের মাঝেও মুরুব্বিরা মৌলিক বিষয়ে এক। তাদের মাঝে রয়েছে বৈচিত্রের মাঝের ঐক্যের সেতুবন্ধন। এই কথা সবাই স্বীকার করে। তাহলে এই সেতুবন্ধনকে কারা ভেঙে দিতে চাচ্ছে?

আমার মনে হয়, চিন্তা ও মতের বৈচিত্র থাকার প্রয়োজন আছে। কোনো কিছুই এক গতিতে চলে না, নদীতেও সময়তে জোয়ার ভাটা আসে। তাই সবাইকে এক সুরে কথা বলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেউ কড়াভাষায় কথা বলবে, কেউ নরম হয়ে কথা বলবে। কেউ দ্রুত পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া দেখাবে, কেউ রয়ে সয়ে পর্যবেক্ষণ করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এটা খুব স্বাভাবিক চিন্তা।

কিন্তু বর্তমানে এক শ্রেণির লোকজন এই চিন্তা ও মতের বৈচিত্রকে মানতে নারাজ। তারা সবাইকে তাদের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে চিন্তা-ভাবনা করাতে চান! এটাই মূল সমস্যা। ইসলামে এই ধরনের প্রবণতাকে ‘উগ্রবাদী’ বলা হয়ে থাকে।

কাজের পদ্ধতিগত মতানৈক্য ও চিন্তার বিভিন্নতা থাকতে পারে। এটা দেখতে আলাদা হলেও মূলত আকিদার জায়গা থেকে আলাদা নয়।

উসামা মুহাম্মাদরা মূলত এই মতানৈক্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। তারা বৈচিত্রের মাঝেও ঐক্যের জায়গাটাকে একেবারে বিনাশ করে দিতে চায়। যার কারণে এখন কেউ তাদের ফরম্যাটে কথা না বললেই সে প্রবীণ ব্যক্তি হয়ে যায় তাদের সমালোচনাক্ষুব্ধ অভিযোগের শিকার। এই প্রবণতার আবিষ্কারও বোধহয় তারাই করেছেন। দুই বছর আগেও এই ধরনের প্রবণতা কওমি অঙ্গনে ছিল না, আর এখন মুরুব্বিদের কোনো অবদানই সমালোচনার বাইরে নেই।

এই প্রবণতা থেকে এখনই বেরিয়ে না এলে ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি অন্ধকার জায়গায় দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

লেখক: রেদওয়ান হাসান, মুদাররিস যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা

মন্তব্য করুন