নিরীহ আলেমদের মুক্তি দিন: আল্লামা মাহমুদুল হাসান

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

দেশব্যাপী আলেম ওলামাদের মুক্তি ও মাদারাসা খুলে দিতে সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মজলিসে দাওয়াতুল হক এর আমীর মহীউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান, শায়েখে যাত্রাবাড়ী। আজ শুক্রবার জামিয়া ইসলামিয়া দারুল মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী মাদরাসা মসজিদে প্রদত্ত জুমআর বয়ানে তিনি এ আহ্বান জানান।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান, সারাদেশে নিরীহ আলেম ওলামাদের হয়রানি বন্ধ, মাদরাসা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অপরাধীদের বিচার করার কথা বলেন।  এসময় তিনি কওমী মাদরাসা ছাত্র শিক্ষকদেরও বিশেষ নসীহত প্রদান করেন। প্রদত্ত বয়ানের আলোচিত অংশ তুলে ধরা হলো….

কওমী মাদরাসার ছাত্ররা, বাবারা- পড়াশুনা শেষ করে ভালো আলেম হও তারপর রাজনীতি করো। কেউ ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ার হয়, ব্যারিস্টার হয়। সবাই আগে পড়াশুনা করে তারপর প্রাক্টিস করে। তোমরা আগে আলেম হও। জিহাদ কী, কীভাবে করতে হয় শিখো আগে তারপর মাঠে নামো। ছাত্ররা, বাবারা- বদনামি করো না। আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবে? আমি যতদিন আছি- আমার বন্ধুবান্ধব নিয়ে (মোকাবেলা করবো) কোনো সরকার ইসলাম শেষ করার চিন্তা করেনি করবেও না। সরকারের ইসলাম বিরোধী কোনো কাজ হলে আমরা প্রতিবাদ করবো। সমালোচনা করবো। কিন্তু কারো পক্ষ হবো না। এমন পক্ষ হবো না যাতে মসজিদ, মাদরাসা বন্ধ হয়ে যায়।

এক বছর আগের কথা বলছি। মসজিদে ৫/৬জন নামাজের কথা বলা হলো। যারা আইন কন্ট্রোল করে তাদের বড় বড় অফিসার আছে যারা হুজুর হুজুর করে জীবন দিয়ে দেয়। অনেকে আব্বাও ডাকে। বলেছিলাম, ‘এই যে আইন করলেন মসজিদে, কেন?’ ‘‘বলে হুজুর, পুরো রমজান মাসে কোনো মসজিদে পুলিশ যাবে না। জুমা পড়বেন পুলিশ যাবে না। তারাবীহ পড়বেন পুলিশ যাবে না।’’  ‘বললাম আইন করলে কেন?’। ‘‘বলে, হুজুর আমাদেরকে এগুলো লিখতে হবে’’।

‘এই যে আজকে গতবছরের চেয়ে লোক বেশি নাকি কম? আপনাদের তো তিন ফুট দূরে দূরে বসার কথা ছিলো? এখানে শত শত পুলিশ আছে, ওসি-ডিসিরা আছে কেউ আপনাদের কিছু বলেছে? হ্যাঁ, দু’একটা সমস্যা হয়েছে। একশ জায়গায় তো হয়নি। সেটা তো দেখবেন। প্রশাসনের সবাই কি মুসলিম? অমুসলিম (মুসলিম বিদ্বেষী) আছেনাহ?’

কওমী মাদরাসার ছাত্ররা……!
তোমরা দাওরা পড়ো। জিহাদ বাব আছে। জিহাদ কী, কীভাবে করতে হয় শিখো। কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে জিহাদ নয়। জিহাদের জন্য মারকাজ দরকার, ট্রেনিং দরকার, অস্ত্র দরকার, নেতৃত্ব দরকার। আছে তোমাদের? জিহাদের সামান তৈরি করো। জিহাদের প্রধান সামান মুসলমানদের আল্লাহওয়ালা বানাতে হবে। সারা বিশ্বের মুসলিম দেশের লিডাররা সব তাগুতের দালাল। জিহাদের কেন্দ্র বানাও তারপর জিহাদ করো।

সরকারকে বিনীত অনুরোধ করে বলছি, নিরীহ আলেম-তলাবাদের হয়রানি করবেন না। নিরীহ আলেমদের ছেড়ে দিন। অপরাধীদের সাথে ইনসাফ করুন (ন্যায়বিচার)। রমজান মাস কুরআন তেলাওয়াতের মাস। মাদরাসাগুলো বন্ধ। হেফজখানাগুলো বন্ধ। কুরআন তেলাওয়াত বন্ধ হয়ে আছে। খুলে দিন। কুরআন তেলাওয়াত চালু হবে। আমাদেরও লাভ, আপনাদেরও লাভ।

আমার তো ধারণা এই রমজান শেষ হওয়ার আগে করো না শেষ হয়ে যাবে। রাগ করে হোক আর যাই হোক মাদরাসাগুলো বন্ধ করেছেন এবার খুলে দিন। কুরআন তেলাওয়াত করতে দিন। আল্লাহ আপনাদের ভালো করবেন। হাফেজদের ছেড়ে দিন। ছোট ছোট ছাত্রদের ছেড়ে দিন।

‘‘কতগুলো মানুষ মারা গেলো। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় মারা গেলো। দু’জন ছাত্র ছিলো। বাকীরা কারা? ছোট ছোট হাফেজ ছাত্রদের বয়স ১৫ বছর। ৩০/৩৫ বছরের লোক মারা গেলো তারা কারা? তাহলে মাদরাসা কেন বন্ধ থাকবে?’’।

আজ (৩০ এপ্রিল) শুক্রবার যাত্রাবাড়ী মাদরাসা মসজিদে প্রদত্ত জুমাআর বয়ান
অনুলিখন, শাহনূর শাহীন।

মন্তব্য করুন