সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২১

আব্দুল কাইয়ুম
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৮৩ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে দিনাজপুর এ অবস্থিত উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দিনাজপুর শহর থেকে ১০ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক এর পাশে ১৩৫ একর জায়গা জুড়ে সবুজে বিস্তৃত লাল-সাদা ইটের সাম্রাজ্য।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইন্সটিটিউট থেকে কৃষি কলেজে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষিত করা হয়।

হাবিপ্রবি’র প্রবেশের জন্য রয়েছে মেইন গেট সহ মোট তিনটি গেট।

হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে রয়েছে ৪ টি একাডেমি ভবন, অডিটোরিয়াম-১ ও অডিটোরিয়াম-২। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুব্যবস্থার জন্য ৪টি ছাত্র হল, ৩টি ছাত্রী হল এবং ১টি ইন্টারন্যাশনাল হল সহ মোট ৮টি হল রয়েছে।

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে হাতের বামে রয়েছে জিমনেসিয়াম,যেখানে ছাত্র ছাত্রীরা নির্ধারিত পৃথক পৃথক সময়ে শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখতে পারে। ডানে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিতরে সৌন্দর্যে আবদ্ধ ফোয়ারা চত্ত্বর। পাশেই রয়েছে টিচার স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি), যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার জন্যে সময় অতিবাহিত করার পাশাপাশি আড্ডা দিয়ে থাকে এবং শিক্ষকগণ নানা রকম কার্যক্রমসহ ক্লান্তি দূর করণের জন্য অবসর সময় পার করে থাকেন।

অপরদিকে জিমনেসিয়ামের পাশেই সুউচ্চ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ভবন। সামনের দিকে অতিক্রম করলে দেখা মিলবে প্রশাসনিক ভবন যার সামনে রয়েছে সৌন্দর্যে বিস্তৃত নানা প্রজাতির বাহারি রকমের ফুল। এছাড়া ডিভিএম গবেষণার জন্য রয়েছে একটি উট পাখির খামার, যা বাংলাদেশের প্রথম উট পাখি পালনের উপর বানিজ্যিকভাবে গবেষণা করছে। প্রত্যেক বছরই অসংখ্য দর্শনার্থী উট পাখি দেখার জন্য ক্যাম্পাস ঘুরতে আসে। এছাড়া এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য রয়েছে সুবিশাল এলাকা জুড়ে গবেষণা প্রকল্প মাঠ।

এছাড়া রয়েছে ২৫ হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দ্বিতলবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের যাতায়াত সুবিধার জন্যে বাস,মিনিবাস সহ ২৫ টিরও অধিক যানবাহন বিশিষ্ট রয়েছে পরিবহন শাখা। ইসলামিক ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরিবহন শাখার অদূরেই রয়েছে অত্যাধুনিক কারুকার্যে সজ্জিত কেন্দ্রীয় মসজিদ। এছাড়াও রয়েছে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত ডিভিএম মসজিদসহ প্রতিটি হলের অভ্যন্তরীণ মসজিদ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধার্তে রয়েছে ‘আবাসিক এলাকা’।

হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানার্জনের জন্য রয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদের নিকটবর্তী ‘হাবিপ্রবি স্কুল’। যেখানে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়ে থাকে।

ক্যাম্পাসের ময়না দীপ, বাবুই চত্ত্বর, এলিয়েন চত্ত্বর, গোল চত্ত্বর, ডি বক্স, ও বক্স প্রভৃতি জায়গায় মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীদের সাময়িক আড্ডা ও খোশগল্পে মেতে উঠতে দেখা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্তে রয়েছে ফ্রী ওয়াইফাই সু-ব্যবস্থা।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোর মধ্যে অন্যতম অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।

লেখক: আব্দুল কাইয়ুম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের  শিক্ষার্থী ।

মন্তব্য করুন