করোনার দ্বিতীয় ঢেউ; মারা যাওয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি?

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই আগে থেকে স্থুলতা ও অসংক্রামক রোগে ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকেন বেশি, কোভিডে তাদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি।

গবেষণায় বলা হয়, শরীরচর্চা একেবারেই করতেন না, এমন কোভিড রোগীদের হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়েছে বেশি। তাদের মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশি থাকে।

ধূমপান, স্থূলতা ও দুশ্চিন্তাও কোভিডের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এগুলোর তুলনায় বেশি গুরুতর বলে গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। এর আগে করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বেশি বয়স, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগ আলোচিত ছিল। তবে তখনও শুয়ে-বসে থাকার অভ্যাসটি এর মধ্যে ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের একটি যৌথ মিশন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, চীনে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের উপসর্গ ছিল মৃদু।

তবে ষাটোর্ধ্ব যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসার ছিল তাদেরই মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। শুধু করোনায় আক্রান্ত এমন লোকজনের ক্ষেত্রে চীনে মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনার পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি।

যৌথ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের ৮ শতাংশ এবং ক্যানসারে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) ‘কোভিড-১৯ রোগীদের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিসমূহ নিরুপণ’ শিরোনামে একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। তাদের গবেষণা বলছে, যারা ১৪ দিনের মধ্যে মারা গেছেন তাদের মধ্যে করোনা ছাড়া তিন বা তিনের বেশি রোগে আক্রান্ত ছিল শতকরা ৩৩ দশমিক দুই শতাংশ, দুটি রোগ ছিল ২৭ দশমিক আট শতাংশ এবং একটি রোগ ছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর।

১৪ দিনের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ বা সিওপিডি ছিল। ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের ছিল ডায়াবেটিস এবং ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল উচ্চ রক্তচাপ। ১৭ দশমিক ৪ শতাংশের ছিল হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ। দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগে ভুগছিলেন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী।

আবার ২৮ দিনের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ৪০ শতাংশেরই ছিল শ্বাসতন্ত্রের জটিল সংক্রমণ। ৩৬ শতাংশের ডায়াবেটিস, ৩৬ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ, ১৬ শতাংশের হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ ছিল ১৬ শতাংশের।

মন্তব্য করুন