স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও ভালোবাসা

পারিবারিক জীবন পর্ব-০১

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

মুফতি আশেক হাসান কাসেমী: আজ মুসলিম সমাজ ইসলামী রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করছে। এর ফলে দিনদিন বাড়ছে পারিবারিক দূরত্ব, শিথিল হচ্ছে দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক এবং উঠে যাচ্ছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা। স্বামী-স্ত্রীকে কেন্দ্র করেই একটি পরিবারের ভিত্তি রচিত হয়। এ সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে পরিবারের সুখ-শান্তি। এ জন্য ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য কতিপয় অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য বেঁধে দিয়েছে, যাতে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী থেকে আরো সুখকর ও মধুময় হয়ে ওঠে। ইসলামী শরী‘আহ স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করেছে। রাসূল সা. ইরশাদ করেন-
عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَجُلا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : مَا حَقُّ الْمَرْأَةِ عَلَى الزَّوْجِ ؟ قَالَ : أَنْ يُطْعِمَهَا إِذَا أُطْعِمَ ، وَيَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَى ، وَلا يَهْجُرَ إِلاَّ فِي الْبَيْتِ ، وَلا يَضْرِبَ الْوَجْهَ ، وَلا يُقَبِّحَ.

মু‘আবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো যে, স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার কী? বললেন, “যখন স্বামীকে খাদ্য দেয়া হবে তখন সে যেন স্ত্রীকে খাওয়ায়, যখন তার পরিধানের ব্যবস্থা হবে তখন স্ত্রীকে পরিধানের ব্যবস্থা করবে, ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ছেড়ে রাখবে না, চেহারায় আঘাত করবে না এবং গাল-মন্দ করবে না” [সুনান ইবন মাজাহ, বায়হাকী]।
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে:

عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: دَخَلَتِ امْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ، عَلَى عَائِشَةَ وَهِىَ بَاذَّةُ الْهَيْئَةِ، فَسَأَلْتُهَا: مَا شَأْنُكِ؟ فَقَالَتْ: زَوْجِى يَقُومُ اللَّيْلَ وَيَصُومُ النَّهَارَ فَدَخَلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ عَائِشَةُ ذَلِكَ لَهُ، فَلَقِىَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ، فَقَالَ: “يَا عُثْمَانُ، إِنَّ الرَّهْبَانِيَّةَ لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْنَا أَفَمَا لَكَ فِىَّ أُسْوَةٌ فَوَاللَّهِ إِنِّى أَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَحْفَظُكُمْ لِحُدُودِهِ لأنا.

‘উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ‘উছমান ইবন মায‘ঊন রা. এর স্ত্রী ‘আইশা রা. এর ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁকে খুব বিষন্ন মনে হলো। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার অবস্থা কী? মহিলা বললেন, আমার স্বামী সারা রাত ‘ইবাদাত করে এবং দিনে সাওম পালন করে। এ সময় মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলে ‘আইশা রা. তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করেন। পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উছমানের সাথে সাক্ষাত করে বলেন, “হে ‘উছমান, আমাদের ওপর সন্যাসী বিধান প্রদত্ত হয়নি, তোমার জন্যে আমার মধ্যে কি কোনো আদর্শ নেই? আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তাঁর বিধি-বিধান সংরক্ষণে আমিই বেশি তৎপর।” [মুসনাদ আহমাদ]।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে সম্মান করতেন, তাঁদের অনুভূতি-আবেগকে গুরুত্ব দিতেন, তাঁদেরকে জানাতেন নিজের ভালোবাসার কথা। তিনি বলেন, “তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে খাবারের লোকমা তুলে দাও, সেটাও একটা সাদাকাহ” [আল-বুখারী: ২৭৪২]।

দাম্পত্য জীবন সুখময় হতে হলে কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। যেমন-স্বামী তার স্ত্রীর জন্য নিজেকে স্মার্ট হিসেবে সাজসজ্জা গ্রহণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করবে। কেননা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন তিনি স্ত্রীদেরকে সালাম দিতেন এবং মিসওয়াক করে মুখ পরিস্কার করতেন [মুসলিম: ২৫৩]। তেমনিভাবে স্ত্রীরাও স্বামীর জন্য নিজের ঘরকে পরিস্কার রাখা, নিজকে অত্যন্ত পরিপাটি সাজসজ্জা-সুগন্ধী ব্যবহারের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে রাখা কর্তব্য। যাতে করে একে অপরকে দেখলে চক্ষু শীতল হয়ে যায়। ইবন্ আব্বাস রা. বলেন, “আমার স্ত্রী যেমন আমার জন্য সাজে, আমিও তেমনি তার জন্য সাজগোজ করি। আমি তার কাছে আমার অধিকার দাবী করতে পারি; তবে অবশ্যই তার অধিকার তাকে সমর্পণ করি। কেননা আল্লাহ বলেন, “স্ত্রীদেরও তাদের স্বামীর ওপর অনুরূপ ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে” [সূরা: ২, আল-বাকারাহ্: ১২৩]।
বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটি সুদৃঢ় বন্ধন রচিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা এর স্থায়িত্বকে পছন্দ করেন, বিচ্ছেদ অপছন্দ করেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ. “যেমন নারীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমন তাদের জন্যও অধিকার রয়েছে ন্যায্য-যুক্তিসংগত ও নীতি অনুসারে। তবে নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা রয়েছে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” [সূরা:২, আল-বাকারা: ২২৮]।

স্বামী স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্যে একাধিক দিক রয়েছে,

১. উভয়ের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য

২. স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

৩. স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কর্তব্য। আজ এ পর্বে আলোচনা করছি স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে।

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য

একজন স্বামী হিসাবে স্ত্রী ও পরিবারের ওপর তাঁর কী দায়িত্ব রয়েছে, আর তা কীভাবে সূচারুরূপে পালন করতে হয়, কীভাবে শান্তির ফুল ফোটাতে হয়, তার পূর্ণ শিক্ষা আছে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীতে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য, সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার স্বার্থে ইসলাম জীবন-সঙ্গী স্বামীর ওপর কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিকে এখানে প্রদত্ত হল:
১. দেন-মোহর পরিশোধ করা
মোহরানা স্ত্রীর একটি অধিকার এবং মোহরানা প্রদান স্বামীর জন্য একটি অবশ্য কর্তব্য বিষয়। আদায় না করলে মারাত্মক পাপ হবে। স্ত্রীদের মোহরানার অর্থ অথবা পিতা-মাতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদ কিংবা অন্য যে কোন সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা স্বামীর কর্তব্য। আর স্ত্রীর এসব সম্পদ স্বামী কখনো গ্রাস করবে না। স্ত্রী যদি খুশি মনে প্রদান করে তাহলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে, অন্যথা নয়। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী যাতে তার সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার পেতে পারে সে নিশ্চয়তা দেওয়া। স্বামী যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হয় তাহলে অভিযোগ, অনুযোগ না করে ধৈর্য ধারণ করবে। এমনকি যদি স্ত্রীর মোহরানা আদায় করতে স্বামী কষ্টবোধ করে তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় সময় বৃদ্ধি করে স্বামীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করবে। আর স্বামী অপারগ অবস্থায় মারা গেলে তা স্বেচ্ছায় মাফ করে দিবে। নারীর দেন মোহর পরিশোধ করা ফরয। এ হক তার নিজের, পিতা-মাতা কিংবা অন্য কারো নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَآتُواْ النِّسَاء صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা প্রফুল্ল চিত্তে স্ত্রীদের মোহরানা দিয়ে দাও” [সূরা: ৪, আন-নিসা: ৪]।
অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا
“তোমরা কীভাবে তা [মোহরানা] ফেরত নিবে? অথচ তোমরা পরস্পর শয়ন সঙ্গী হয়েছ এবং স্ত্রীরা তোমাদের নিকট থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে” [সূরা: ৪ নিসা: ২১]। এ চুক্তিপত্র ও মোহরানার কারণে ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কতক দায়-দায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। যা বাস্তবায়নের ফলে দাম্পত্য জীবন সুখী ও স্থায়ী হবে।
২. প্রয়োজনীয় ভরণ পোষণ প্রদান
স্ত্রীর ভরণপোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রসাধনী, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং এ সংক্রান্ত ব্যয় স্বামী নির্বাহ করবে। স্ত্রীর জন্য বিভিন্ন ধরনের উপহার বা উপটোকন দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণের ওপর আহার ও পরিধানের ব্যাপারে কোন বিধি-নিষেধ ছিল না। সামর্থ্য ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করা স্বামীর কর্তব্য। স্বামীর সাধ্য ও স্ত্রীর চাহিদার ভিত্তিতে এ ভরন-পোষণ কম বেশি হতে পারে। অনুরূপভাবে সময় ও স্থান ভেদে এর মাঝে তারতম্য হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا.
“বিত্তশালী স্বীয় বিত্তানুযায়ী ব্যয় করবে। আর যে সীমিত সম্পদের মালিক সে আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত সম্পদ হতেই ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, তার চেয়ে’ বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে প্রদান করেন না আল্লাহ অনতিবিলম্বে কষ্টের পর সহজ করে দেবেন” [সূরা: ৬৫, আত-তালাক: ৭]।
৩. স্ত্রীর প্রতি স্নেহশীল ও দয়া-পরবশ থাকা
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অগাঢ় ভালোবাসা ও প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য স্ত্রীর সাথে গম্ভীর হয়ে না থেকে হাসিমুখে রসালো পরিবেশ অব্যাহত রাখা যেতে পারে। স্ত্রীর প্রশংসা করা এবং তাঁর জন্য মহান মাবূদের কাছে দু‘আ করা। স্বামী এক নাগাড়ে ছয় মাসের বেশি দিন প্রবাসে থাকা অনুচিত। এতে স্ত্রীর অধিকার ক্ষুন্ন হয়। স্ত্রীর প্রতি রূঢ় আচরণ না করা। স্বামী হিসেবে সকলের জানা উচিত, নারীরা মর্যাদার সম্ভাব্য সবকটি আসনে অধিষ্ঠিত হলেও, পরিপূর্ণ রূপে সংশোধিত হওয়া সম্ভব নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী। কারণ, তারা পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্ট। পাঁজরের উপরের হাড়টি সবচাইতে’ বেশি বাঁকা। (যে হাড় দিয়ে নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে) তুমি একে সোজা করতে চাইলে, ভেঙে ফেলবে। আবার এ অবস্থায় রেখে দিলে, বাঁকা হতেই থাকবে। তাই তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও, এবং তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ কর” [বুখারি]।
৪. স্ত্রীর ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশীল হওয়া
স্ত্রীকে জীবন সঙ্গিনী, প্রিয়তমা সাথী হিসেবে গ্রহণ করে নিজের সুখ-শান্তি, আনন্দ বেদনায় সমানাধিকার দান করা। বিভিন্ন গল্প, কৌতুক, হাসি-তামাশায় অংশ নিবে। স্ত্রীর সাথে বৈধ খেলা-ধুলা, দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া সুন্নাত। মাঝে মধ্যে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া [মুসলিম: ২৪৪০]। হাতে ধরে ধরে তাদেরকে হেফাযত ও সুপথে পরিচালিত করা। কারণ, তারা সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল, স্বামীর যে কোন উদাসীনতায় নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর ফেতনা হতে খুব যতœ সহকারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “আমার অবর্তমানে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে’ বেশি ক্ষতিকর কোন ফেতনা রেখে আসিনি” [আল-বুখারী: ৪৭০৬] । নারীদের আত্ম-সম্মানবোধের প্রতি লক্ষ্য করে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَتَعْجِبُوْنَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ؟ وَاللهِ لَأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ، وَاللهِ أَغْيَرُ مَنِّيْ ـ
“তোমরা সা’আদ এর আবেগ ও আত্মসম্মানবোধ দেখে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ। আমি তার চেয়ে’ বেশি আত্মসম্মানবোধ করি, আবার আল্লাহ আমার চেয়ে’ বেশি আত্মসম্মাণবোধ সম্পন্ন” [মুসলিম: ২৭৫৫]।
৫. একাধিক স্ত্রী থাকলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা
কারও যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে হবে। আর ন্যায় বিচার করতে না পারলে একাধিক বিয়ে করার অনুমতি ইসলামী শরী‘আহ দেয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবিদেরকে তিরস্কার-ভর্ৎসনা করতেন না। তাদের সাথে রূঢ় ব্যবহার করতেন না। কোন কথা মনের বিপরীত হলে তাদের প্রতি মনযোগ কিছুটা কমিয়ে দিতেন। তিনি খুশি মনে মুচকি হাসতে হাসতে ঘরে প্রবেশ করতেন। তিনি সকল স্ত্রীদেরকে সমান চোখে ও সমান অধিকার দিতেন।
পরিশেষে নির্ঘাত বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বলতে হয়, কোন পরিবার সমস্যাহীন কিংবা মতবিরোধ মুক্ত নয়। এটাই মানুষের প্রকৃতি ও মজ্জাগত স্বভাব। এর বিপরীতে কেউ স্বীয় পরিবারকে নিষ্কণ্টক অথবা ঝামেলা মুক্ত কিংবা ফ্রেশ মনে করলে, ভুল করবে। কারণ, এ ধরাতে সর্বোত্তম পরিবার কিংবা সুখী পরিবারের একমাত্র উদাহরণ আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার। সেখানেও আমরা মানবিক দোষ-ত্রæটির চিত্র দেখতে পাই। সুতরাং অন্য পরিবারের অবস্থান পবিত্রতা কোথায় ?তাই সুখী পরিবার বাস্তবায়নে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো মেনে চলতে হবে। চলবে……………

লেখকঃ- সাহিত্যিক ও ইসলামিক স্কলার
পরিচালক: খিদমাহ এ্যারাবিক একাডেমি
যাত্রবাড়ী, ঢাকা-১২০৪

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন