‘১৭ তরুণ প্রাণ শহীদ, বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই তাদের’

প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১

ফরহাদ মজহার: আমার একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ফেইসবুক বন্ধু Kai Kaus পোস্ট দিয়েছেন—

“বামদের সাথে নিয়ে যে লড়াই সে লড়াই আমাদের না। কারণ আমাদের লড়াই শুধু রাজনৈতিক না সাংস্কৃতিকও। রাজনৈতিক অধিকার অর্জন করতে গিয়ে আমরা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারি না”।

এই পোস্টের উত্তরে আমার মনে কিছু জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।

এক’ ‘বাম’ কি, আর ডানই বা কী? হেফাজতের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বারবার বলেছেন খুনি ও গণহত্যাকারী মোদীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডান ও বাম মিলে একসঙ্গে রাস্তায় লড়তে হবে। আলবৎ, আমি তাদের এই আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কিন্তু দুধের মধ্যে চনা মিশিয়ে দিলে সেই দুধ খাওয়া যায় না। তেমনি একই মুখে তারা সরকারকে বলছেন, মোদীকে আসতে দিয়েন না। না দিলে শেখ হাসিনা যতোদিন ইচ্ছা ক্ষমতায় থাকুন আমাদের আপত্তি নাই। আমরা কাউকে ক্ষমতায় বসাতে, কিম্বা ক্ষমতা থেকে নামাতে আসি নি।

এই রাজনীতিটা কি ডান? নাকি বাম?

দুই: সতেরোটি তরুণ প্রাণ ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে শহিদ এবং কয়েক শ মানুষ গুরুতর জখম হবার পরও, তার জন্য বিন্দুমাত্র দুঃখ কিম্বা অল্প বয়েসী ছেলেগুলোর জীবনের জন্য ন্যূনতম উদ্বেগ প্রকাশ না করে এগারজন ‘বিশিষ্টজন’ বিবৃতি দিয়েছেন: “সর্ব শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে” টুপি কোর্তা পরা মাদ্রাসার ছাত্রদের যেন দমন করা হয়। এর সাদা বাংলায় মানে হচ্ছে ছত্র লীগ ও পুলিশ যেন আরো মাদ্রাসার ছাত্রদের হত্যা করে। এরা আরো লাশ চান।
এরা ডান নাকি বাম?

আসলে ‘ডান’ কি, ‘বাম’ই বা কী — এই ভেদ একটু বুঝিয়ে দিন।

তিন: আর ‘আমরা’ মানে কারা? আরব ইরান তুরানের সংস্কৃতি আর্য সংস্কৃতির মতো ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’? নাকি আগ্রাসন না? কিম্বা আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আমামদের খোলনলচে পালটে দিলেও আমাদের হুঁশ হয় না। কেন? আসলেই। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ কি?

চার: এই যে আমরা কথায় কথায় আমরা/তোমরা করি তাহলে কোন্‌ লড়াই কার? কে কার বিরুদ্ধে কিসের জন্য লড়ছে? বামদের লড়াই কেন ইসলামপন্থিদের না? বামদের হাত কি তিনটা, নাকি চোখ চারটা? আর ইসলামপন্থিরা কি দেখতে উটের মতো? কিম্বা , বিপরীতে, ইসলামপন্থিদের লড়াই কেন বামদের না? আমরা কি একই রকম মানুষ না? আমাদের কি কোন সাধারণ স্বার্থ নাই। আমাদের কি সাধারণ শত্রু বা দুষমণ নাই, যাতে আমরা বুঝতে পারি পার্থক্য থাকলেও ‘মানুষ’ কিম্বা আল্লার সৃষ্ট শ্রেষ্ট রুহানি জীব হিশাবে জনগণের পক্ষে যারা লড়েন তাদের বিস্তর মৈত্রীর জায়গা আছে। সেই মৈত্রির ক্ষেত্রটা যদি আমরা খুঁজতে শিখি তাহলে বাইরের শত্রু কখনই আমামদের বিভক্ত ও পরাধীন করে রাখতে পারবে না। আমরা পার্থক্যকে ঐক্যের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেই কেন? স্টুপিড জনগোষ্ঠি বলে?

পাঁচ: রাজনৈতিক লড়াই আর সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে ফারাক কোথায়? যাহা বাহান্ন তাহাই তেপ্পান্ন। তাই না?

আমি সরল ভাবে প্রশ্নগুলো তুলছি আলোচনার জন্য। আপনাদের মত শুনতে চাই। আল্লার দোহাই কিম্বা আল্লা না মানলে মওলানা মার্কসের দোহাই, কাউকে গালিগালাজ করবেন না।

লেখাটি ফরহাদ মজহারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন