বিরোধিতা সত্ত্বেও আসছেনই নরেন্দ্র মোদী : দুদিনে বাংলাদেশে যা যা করবেন তিনি

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি সত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস সূত্রে জানা গেছে – আগামিকাল ২৬ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন নরেন্দ্র মোদি। তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। ধানমন্ডি-৩২ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও শ্রদ্ধা জানাবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরদিন ২৭ মার্চ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানী উপজেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন। ইতোমধ্যে সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে  উলু ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে এবং ডঙ্কা ও কাঁসা বাজিয়ে মতুয়া ধর্মাবলম্বীরা নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করবেন বলে জানা গেছে।

একই দিন সাতক্ষীরায় হিন্দু মন্দিরও পরিদর্শন করবেন মোদি। এছাড়া বাংলাদেশ সফরে তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকগুলো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অন্যতম। এছাড়া তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসবে বলেও জানা গেছে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকাকেও নরেন্দ্র মোদির আগমনের জন্য সাজানো হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কিছু স্থাপনা সেজেছে বর্ণিল সাজে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বসানো হয়েছে তোরণ। সড়কের খুঁটি, ভবন ও দেয়ালে মোদির ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধক ভাস্কর্যগুলোতেও ফুলের সঙ্গে শোভা পাচ্ছে মোদির ছবি। বড় বড় করে বিভিন্ন জায়গায় লেখা হয়েছে, ‘স্বাগতম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশে সফর করেছেন। করোনার কারণে অনেক দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত না হয়ে পাঠিয়েছেন ভিডিও বার্তা। ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনের অনুষ্ঠানে এর আগে বিদেশি নেতারা অংশ নিয়েছেন। শেষ দিন (২৬ মার্চ) অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে সফর উপলক্ষে দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের নাগরিকদের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। ২৭ তারিখ রাতে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন নরেন্দ্র মোদি।

অপরদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আসা বিদেশি ভিভিআইপিদের (অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) চলাচলের সময় আগামীকাল ২৬ মার্চ ও পরদিন ২৭ মার্চ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কে কিছু সময়ের জন্য চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ রাখা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখা থেকে আজ বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নগরবাসীর সাময়িক এই অসুবিধার জন্য ডিএমপি দুঃখ প্রকাশ করছে।

তবে মোদির আগমন নিয়ে প্রতিবাদে মুখর আছে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী, বামপন্থীসহ জনগণের বড় একটি অংশ। মোদিকে একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা আখ্যা দিয়ে তার আগমনকে ভালোভাবে নেয়নি বাংলাদেশের জনগণ।

মোদির আগমন কেন্দ্র করে আজ ২৫ মার্চ মতিঝিলে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৭ জন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৮ জনকে। যাদের মধ্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা নামের একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকিদের ছাড়া হয়নি এবং পুলিশ নুরুল হককে খুঁজছে এখনও।

আরও পড়ুন : 

‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি’ : ছাড়া পেয়ে বললেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম

রাজধানীতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ১০

আমাদের আঘাত করা আর দেশকে আঘাত করা সমান : বক্তা রফিকুল ইসলাম

শাপলা চত্বরে মোদি বিরোধী মিছিল থেকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম গ্রেফতার

এছাড়াও একই দিনে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মোদিবিরোধী সমাবেশ করেছে সমমনা ইসলামী দল নামের একটি সংগঠন। ৭ টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত এই সম্মেলনে দেশের আলেম রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য রেখেছে বক্তব্য রেখেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক।

বায়তুল মোকাররমে চলছে মোদিবিরোধী সমাবেশ, আছেন মাওলানা মামুনুল হক

এছাড়াও দেশের বৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোদির আগমনকে লজ্জাজনক বলে একাধিক বিবৃতি দিয়েছে এবং প্রতিবাদ করেছে। এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মোদির আগমনকে তারা স্বাগত জানাবে না বলে জানিয়েছে। দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এ কথা বলেছেন। এছাড়াও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেছেন – মোদির লজ্জা থাকলে সে বাংলাদেশে আসবে না।

আরও পড়ুন : 

সুবর্ণজয়ন্তীতে সব মেহমানদের স্বাগত জানালেও মোদির বিষয়টি আলাদা: চরমোনাই পীর

মোদির লজ্জা থাকলে বাংলাদেশে আসবে না : মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম

দেশপ্রেমিক জনতার আপত্তি সত্ত্বেও মোদির আগমন ভাল লক্ষণ নয় : মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম

মোদির আগমন : আলেম-ওলামা ও হেফাজতের ভূমিকা

মোদির উপস্থিতি সুবর্ণজয়ন্তীকে কলঙ্কিত করবে: মাওলানা ইমতিয়াজ আলম

মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত মোদির হাত, তাকে দেশের মানুষ গ্রহণ করতে পারে না

মন্তব্য করুন