সরকারেরও সব কর্মসূচি স্থগিত করা উচিত: ফখরুল

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

সরকারকে অবিলম্বে সব কর্মসূচি স্থগিত করে করোনার সংক্রমণ কীভাবে কমানো যায় সেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সিনিয়র একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তিনি তো আমাদের ওপরে রেগেই গেলেন। বললেন, এখনও কেন আপনারা এসব করছেন।

এখনই বন্ধ করেন। গোটা জাতি আজ ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে। আমরা মনে করি সরকারেরও উচিত হবে, এই মুহূর্তে সবকিছু বন্ধ করা।

আমরা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে করোনার ভয়াবহতায় মনে করছি এই মুহূর্তে সমাবেশ বন্ধ করা দরকার। যে কারণে আমাদের অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করছি। ৩০ মার্চের পরে আবার আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সারা দেশের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে সবাই মাস্ক পরবেন, দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

কোথাও ভিড় করবেন না, সমাবেশ বা অতিরিক্ত ভিড় করে নিজেদের বিপদের মধ্যে ফেলবেন না। দেশের মানুষকেও এই কাজগুলো করতে উৎসাহিত করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পত্রিকায় দেখেছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসছেন। নিশ্চয়ই আসবেন, বন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রী।

অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীরা আসবেন সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে, খুব ভালো কথা। কিন্তু তিনি কি কোনো চুক্তি সই করছেন? আমার জানা নেই। যেটা আমাদের সমস্যা, সেটা নিয়ে কোনো কথা হবে?

তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, সীমান্তে হত্যা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। কানেক্টিভিটিতে আমাদের পাওনা কী, সেটা সম্পর্কে আমরা জানতে পারবো না—এ বিষয়গুলো তো আমাদের প্রত্যাশা ছিল না।

সরকার দাবি করে সবচেয়ে বড় বন্ধু। এত ভালো বন্ধু যে, সম্পর্কটা নাকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো। রক্তের সম্পর্ক, তাহলে সেখানে আমরা আমাদের পাওনাটা পাচ্ছি না কেন?

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছেন তখন দেখতে হবে কী অর্জন হয়েছে? পাকিস্তান শোষণকারী ছিল, গণতন্ত্র না দিয়ে আমাদের হত্যা করেছে।

আজকে কী হচ্ছে? আজকে দেশের একটা রাজনৈতিক দল তারা দাবি করে যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে তারাই নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ তাদের হাতে আজকে আমাদের অসংখ্য মানুষ নিহত হচ্ছে, তাদের হাতে গুম হচ্ছে।

৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ভয়ভীতির একটা রাজত্ব তৈরি করেছে। পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্য নাই, শুধুমাত্র বিদেশি প্রভুদের সন্তষ্ট করার জন্য, তাদের তুষ্ট করার জন্য তারা আজকে সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কী অবস্থা সৃষ্টি করেছে দেখেন, আজকেই (বুধবার) দক্ষিণখানে একজন আওয়ামী লীগের নেতা একজন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে। সুনামগঞ্জে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানে কারা ধরা পড়ছে? মূল আসামি কে? যুবলীগের একজন নেতা।

মন্তব্য করুন