মোদির আগমন নিয়ে রাজপথ কর্মসূচি দেবে না হেফাজত, শাল্লার ঘটনায়ও নেই সম্পৃক্ততা

হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৭:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২১

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর আয়োজনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন “স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজত কোনো রাজপথ কর্মসূচি দেবে না তবে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করা হবে।”

এছাড়াও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

একই সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় হেফাজতের কোন দায় নেই এবং হেফাজতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না।

আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন হেফাজত নেতারা এসব কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নরেন্দ্র মোদির মতো একজন ব্যক্তি আসুক এটা আমরা চাই না। আমরা দেশের অধিকাংশ মানুষের সেন্টিমেন্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিকট নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ বাতিলের আহ্বান জানাই।

”স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনে এমন কাউকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা উচিত হবে না, যাকে এদেশের মানুষ চায় না বা যার আগমন এদেশের মানুষকে আহত করবে। কারণ নরেন্দ্র মোদী একজন মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে সারা বিশ্বে পরিচিত।”

আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, মুসলমান হিসেবে ঈমানি দায়িত্ব ও দেশ প্রেমের দায়বোধ থেকেই নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং সেখানে অন্যায়ভাবে মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তে আমাদের হৃদয়ে রক্তপাত হয়। এছাড়াও কাশ্মীরে মুসলিম নির্যাতন এবং নাগরিকত্ব আইনসহ প্রতিটি মুসলিমবিরোধী সিদ্ধান্তের মূলহোতা এই নরেন্দ্র মোদি।

বছর খানেক আগে তার অনুসারীদের হাতে দিল্লিতে মুসলমানদের রক্তের বন্যা বয়ে গেছে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মিনার ভেঙে সেখানে হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া পতাকা টানানো হয়েছে।

মোদির আমন্ত্রণপত্র বাতিলের জন্য রাজপথে সংঘাতমূলক কর্মসূচি না থাকলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী না আসার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন কিংবা প্রতিবাদ জানানো অনেক কিছু। তবে এ ইস্যু নিয়ে আমরা কোনো সংঘাতে যাচ্ছি না। এমনকি রাজপথেও আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। বলেছেন – মাওলানা মামুনুল হক। যদিও আগে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক কোনোভাবেই নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছিলেন।

অপরদিকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে শাল্লা উপজেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের ওপর হামলার দায় চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বা মামুনুল হকের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, বরং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ওই ঘটনায় আটক করা হয়েছে। শাল্লা উপজেলার হামলার সঠিক বিচার দাবি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে সবাইকে থাকার জন্যও আহ্বান জানান হেফাজতে ইসলামের এই নেতা।

সাংবাদিক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা মহানগর হেফাজত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত : আগামী ২৬শে মার্চ দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। নরেন্দ্র মোদী সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলেন ২০১৫ সালের জুন মাসে।

মন্তব্য করুন