মাওলানা মামুনুল হক কি সত্যিই জনগণকে পেটাচ্ছিলেন ?

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২১

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা শায়খুল হাদিস মাওলানা মামুনুল হক হাতে লাঠি নিয়ে জনগণকে পেটাচ্ছেন এমন একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকে। কেউ কেউ দাবি করছেন তিনি সেলফি তুলতে আসা জনগণকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন।

ছবিটি নিয়ে পাবলিক ভয়েসের অনুসন্ধানে জানা গেছে – ছবিটি মূলত সিলেটের সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকার। যেখানে আজ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশেন শানে-রেসালত সম্মেলন ছিলো। সম্মেলনে হেফাজত প্রধান আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সহ হেফাজতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়েছিলেন। ঢাকা থেকে সকাল আনুমানিক এগারোটার দিকে হেলিকপ্টারে করে তারা দিরাই উপজেলা যান।

[ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে হেফাজত নেতারা সুনামগঞ্জের দিরাই যাচ্ছেন। ছবি : সংগ্রহীত]

কিন্তু হেলিকপ্টার সেখানে পৌঁছানোর পর উৎসুক জনতার ভিড় এবং লাগামহীন হইচইয়ের কারণে হেলিকপ্টার এবং হেফাজত প্রধান আল্লামা বাবুনগরী নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন। এছাড়াও মাহফিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শক্ত কোন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় হেলিকপ্টার করে মেহমানদের না নিয়ে শুধু আল্লামা বাবুনগরীসহ চলে আসেন এবং মামুনুল হকসহ অন্যান্যরা সেখানে আটকা পড়েন।

তখন সেখানের পরিস্থিতিতে মাওলানা মামুনুল হক নিজেই স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। হাতে লাঠি নিয়ে উৎসুক জনতাকে তাড়া করেন। যে ছবিই কেউ তুলে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়।

বিষয়গুলোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাওলানা মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠজন মাওলানা সালাউদ্দিন মাসউদ। এছাড়াও সম্মেলনের সেখানে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ফেসবুকে তাদের কমেন্ট, মন্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে উপস্থিত একজন পাবলিক ভয়েস এর সাথে আলাপকালেও বিষয়গুলো সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মাওলানা সালাউদ্দিন মাসউদ এ বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত লিখে জানান –

ছবিটির মূল ঘটনা হলো বাবুনগরী (আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী) হযরতের নিরাপত্তার স্বার্থে ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের চরম দায়িত্বহীনতা আর বিশৃঙ্খলায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন আল্লামাা মামুনুল হক।

কিছুক্ষণের মধ্যে এই ছবিটি ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে। আজ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘটনা এটি। মূলত সেখানে কি ঘটেছিল?

স্থানীয় আয়োজকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এতোটাই দুর্বল ছিলো যে, উৎসুক জনতা যখন হেলিকপ্টার ও আগত মেহমানদের উপরে উপচে পড়ছিলো, হেলিকপ্টার এবং আল্লামা বাবুনগরী হযরতের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে আল্লামা মামুনুল হক স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন।

কিন্তু উৎসুক জনতার খামখেয়ালির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাবুনগরী হুজুরসহ মেহমানদেরকে না নিয়েই হেলিকপ্টার উড়াল দিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এটা হলো এই ছবির মূল ঘটনা।

অবশেষে বাবুনগরী হযরত ও মামুনুল হক সাহেব প্রত্যন্ত দিরাই অঞ্চলে আটকা পড়েছেন। সড়কযোগে সেখান থেকে ফিরতে গেলে বাবুনগরী হযরতের যে কষ্টটা হবে, এটা ভাবতেও আমার কষ্ট হচ্ছে। তবে ঢাকা থেকে আরেকটি হেলিকপ্টার নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। আল্লাহ আসান করেন।

স্থানীয় আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও আবেগী হুজুগী জনতার আবেগের বলি হয়ে হযরতেরা কষ্ট পেলেন। বিষয়গুলো দুঃখজনক এবং আগামীতে যারা হযরতদের প্রোগ্রাম করবেন, বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আয়োজিত শানে রিসালাত সম্মেলনে যোগদান করতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে যারা গিয়েছিলেন তারা হলেন – আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল-হাবীব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক্ব, যুগ্ম মহাসচিব হাটহাজারী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনীর, হেফাজতের সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাওলানা শুয়াইব আহমদ।

মন্তব্য করুন