মৃত্যুর পরই সবাই একা : যমুনা গ্রুপের মালিকের কবরের ছবি ভাইরাল

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২১

সকাল থেকে বিভিন্ন আইডিতে একটি ছবি প্রচার হচ্ছিলো। ছবিটি একটি কবরের। কবরটি বাংলাদেশের প্রতাপশালী ব্যবসায়ী ও বিত্ত বৈভবের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের।

তিনি বাংলাদেশের বহুজাতিক কোম্পানী যমুনা গ্রুপের মালিক ছিলেন। তিনি গত বছরের ১৩ জুলাই ২০২০ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপলো) মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ১৪ জুন ২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

নুরুল ইসলাম বাবুলের কবরের ছবিটি দিয়ে ‘আল আমিন’ নামে একজন লিখেছেন –

“ছবিটা দেখে বুকটা ভীষন কেঁপে উঠল যমুনা গ্রুপের মালিকের কবর, যার একাউন্টে হয়তো এখনো পড়ে রয়েছে কয়েকশো কিংবা কয়েক হাজার কোটি টাকা। বিজনেস, যশ, সম্মান, প্রভাব, ক্ষমতা, অনুরাগী, সব সবকিছুই  ছিলো তার

আজ কেবলই একটা কবর,একদলা মাটি আর সাইনবোর্ডটা ছাড়া কিচ্ছু নেই, কেউ সাথে নেই, কিচ্ছু নেই। কবরটা আর আট দশটা কবরের মতোই সাধারন, একাকী, অতি সাধারন। এমনইতো হবার কথা, এমনই হয়, এমনই হবে সবার ক্ষেত্রে। মানুষ হয়ে কিসের তবে এতো অহংকার, ক্ষমতার দম্ভ, লোভ, সুপ্রিম পাওয়ার, কূটচাল, স্বার্থপরতা, রাগ, অভিযোগ, ভালোবাসা!

সাথে যায় না কিছুই। মানুষ তুমি বড্ড ভীষন একা। জীবন তুমি নেশা।”

একই পোস্ট হাজার হাজার কপি করেছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। মৃত্যুর পরে সবাই একা এমনটাই ফুটে উঠেছে তাদের লেখায়।

প্রসঙ্গত : নুরুল ইসলাম বাবুল (৩ মে ১৯৪৬ – ১৩ জুলাই ২০২০) একজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের একজন শিল্পোদ্যোক্তা ও যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম ৩ মে ১৯৪৬ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জের চুড়াইন ইউনিয়নের কামালখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আমজাদ হোসেন এবং মাতা জোমিলা খাতুন। বাবুলের স্ত্রী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও একাদশ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সালমা ইসলাম। ছেলে শামীম ইসলাম, রোজালিন ইসলাম, মনিকা ইসলাম এবং সনিয়া ইসলাম যমুনা গ্রুপের পরিচালক।

নুরুল ইসলাম বাবুল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। বস্ত্র, ইলেকট্রনিক, ওভেন গার্মেন্টস, রাসায়নিক, চামড়া, পানীয়, টয়লেট্রিজ, মোটরসাইকেল এবং আবাসন খাতে তার ব্যবসা ছিল। তিনি যমুনা ফিউচার পার্ক, বাংলা দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ও যমুনা টেলিভিশনের মালিক ছিলেন।

মন্তব্য করুন