দাড়ি রাখায় চাকরি না দেয়ার অভিযোগ বিষয়ে আড়ংয়ের দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২১

দাড়ি থাকার কারণে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রিটেইল ব্র্যান্ড আড়ংয়ে চাকরি পাওয়া থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এক যুবক এমন অভিযোগ তোলার পর সোশ্যাল মিডিয়াসহ জনমনে আড়ংয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক চর্চা শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে সিলেটে আড়ংয়ের বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয় একদল বাসিন্দা।

এরপর ফেসবুকে প্রকাশিত আড়ংয়ের একটি ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত একজন চাকরিপ্রার্থীর অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত ভিডিও প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে।

আড়ংয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, একজন চাকরিপ্রার্থীর নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ব্যাপারটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি নিঃসন্দেহে আমাদের মূল্যবোধ পরিপন্থী।

আড়ং বয়স, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, অক্ষমতা বা জাতিগত উৎস নির্বিশেষে সবার জন্য মানবিক মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তির অধিকারগুলো সমুন্নত রাখে। আমাদের নিয়োগের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালনকে কখনোই বিবেচনা করা হয় না। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৩৮০০ জনেরও বেশি কর্মী রয়েছে এবং সব ধর্মের কর্মীরা শ্রদ্ধার সঙ্গে এবং প্রকাশ্যে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।

আড়ং আরও জানায়, আমাদের ভবিষ্যতের নিয়োগ বোর্ডগুলো পরিচালনায় আমাদের মূল মূল্যবোধগুলোর প্রতিফলন নিশ্চিত করতে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করবো এবং ইন্টারভিউ বোর্ড সংশ্লিষ্টদের শিষ্টাচারের বিষয়ে সংবেদনশীলতা আনতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সেসব চাকরিপ্রার্থী, যারা মনে করেন আমাদের কোনও একটি ইন্টারভিউ বোর্ডে যেকোনও বিষয়ে তারা যথাযথভাবে পরীক্ষিত হননি, তারা আমাদের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বলে জানানো হয় সেই বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আট মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায় এক যুবক, নিজেকে ইমরান হোসেন ইমন নামে পরিচয় দিয়ে বলছেন, তিনি আড়ংয়ে বিক্রয়কর্মীর একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, মুখে মাস্ক পরেই তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, সাক্ষাৎকারগ্রহীতারা তার সাথে সন্তুষ্ট বলে তার মনে হয়েছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে সাক্ষাৎকারগ্রহীতাদের চাহিদা মোতাবেক তিনি মাস্ক খোলেন এবং তার মুখভর্তি দাড়ি প্রকাশিত হয়ে পড়লে সাক্ষাৎকারগ্রহীতারা তাকে বলেন, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী তারা দাড়িওয়ালা ব্যক্তিদের বিক্রয়কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন না।

‘তারা বললো আপনি যদি ক্লিন শেভ করতে পারেন তাহলে আপনার জবটা আমরা এখানে কনফার্ম করতে পারবো ‘, সাক্ষাৎকারগ্রহীতাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ভিডিওটিতে বলেন এই যুবক।

এরপর বহু মানুষ আজ দিনভর এটিকে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন এবং তারা ‘বয়কট আড়ং’ হ্যাশট্যাগ ব্যাবহার করছেন।

ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সিলেটে আড়ংয়ের বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সিলেটের সচেতন আলেম সমাজের ব্যানারে একদল স্থানীয় অধিবাসী।

তাদের একজন মুখপাত্র শাহ মোমশাদ আহমেদ বলছেন, তারা বিক্ষোভ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে আছে দাড়ি রাখা নিয়ে আড়ংয়ের যদি কোন নীতিমালা থাকে সেটা পরিবর্তন করতে হবে, চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং এই ঘটনার জন্য সুস্পষ্টভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের ঘটনা না ঘটে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন – “তারা ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আড়ং এর পণ্য বর্জন করার আহবান জানাবেন”

মন্তব্য করুন