আইআইইউসি, আবু রেজা নদভী ও জামায়াতচক্র এবং একটি ইতিবৃত্ত

প্রকাশিত: ২:২১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২১

“ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করার পর থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার চক আঁকতে শুরু করে, যা খোদ বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) আঁচ করতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশের বর্ণনা আগেই দিয়েছি। ফুলে-ফলে পল্লবিত হয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) যখন মহিরুহ ধারণ করে, তদুপরি উদ্যোক্তাদের অনেকেই পরপারে পাড়ি জমালে চট্টগ্রামের ‘জামাতিচক্র’ আস্তে আস্তে স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাদের নূন্যতম কোন অবদান নেই তাদের বসাতে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীতে।”

আবদুল্লাহ আল মারুফ

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপরিচিতি। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে সীতাকুন্ড উপজেলার কুমিরাতে ৪৩ একর জমির উপর নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষের অধিক বর্গফুট জায়গায় ৪০টি ভবনে আইআইইউসি’র শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চার শতাধিক শিক্ষক নিয়ে ১১ হাজার ছাত্র ছাত্রী অধ্যয়নরত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ওয়েবমেট্রিক র‌্যাংকিং এ বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে ২৫ তম স্থানে এবং ইউজিসির তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষ ৯ এর অন্যতম ও চট্টগ্রামে ১ম স্থানে অবস্থান করছে।

১৯৯৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা হয়েছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ভাড়া বিল্ডিংয়ে। যাঁদের অপরিসীম মেধা, শ্রম, ত্যাগের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম আজকের মহীরুহ পর্যায়ে তাঁদের সম্পর্কে খুব কম ধারণাই রাখেন আইআইইউসি’র বর্তমান ছাত্র-শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা! তাদের কাছে স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে, একটা ভুল ধারণাই জন্মেছে; আর সেটি হলো, জামাতে ইসলামীই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এটি তাদের দলীয় সম্পদ। বলার অপেক্ষা রাখেনা, প্রতিষ্ঠাকালীন এবং পরবর্তীতে অবকাঠামোগত ও শিক্ষার উন্নয়নে কোন প্রকার অবদান না রেখেও যারা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব সম্পদে পরিণত করেছে তারা নিজেদের কায়েমী স্বার্থ ধরে রাখতে আইআইইউসি’র প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি করেছে অত্যন্ত সুকৌশলে।

কিন্তু ইতিহাস তার আপন গতিতেই চলে। সময়ের ব্যবধানে সঠিক ইতিহাস বেরিয়ে আসেই।

উপরের কথামালার অবতারণার কারণ হলো, গত ৪ মার্চ আইআইইউসি’র মেয়াদোত্তীর্ণ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সরবরাহকৃত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেখে। উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর প্রথম বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে উনার এবং উনার ছেলে বায়তুশ শরফের বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীর গুণকীর্তন দেখে।

আমার সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য জানিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর যাত্রাকালীন থেকে শুরু করে অদ্যবধি দৃশ্যমান এবং পর্দার অন্তরালে এর প্রায় সকল ঘটনাপ্রবাহের প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা ওয়াকিবহাল ছিলাম। বলার অপেক্ষা রাখেনা, চট্টগ্রামে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।

এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুসলিম সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। দেশে প্রথম স্থাপিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এরশাদ সরকারের কোপানলে পড়ে গাজীপুর থেকে দেশের একপ্রান্তর কুষ্টিয়া-জিনাইদহে স্থানান্তরিত হলে চট্টগ্রামের তদানীন্তন শীর্ষস্থানীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখ চট্টগ্রামে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বায়তুশ শরফের তদানীন্তন মরহুম পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর ঐকান্তিকতায় সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে তদানীন্তন চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদের মধ্যে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মরহুম প্রফেসর ড.আবদুল করিম, চট্টগ্রাম ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের তদানীন্তন সভাপতি মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ শামসুদ্দিন, প্রিন্সিপ্যাল রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রফেসর ড. মঈনুদ্দিন আহমদ খান, মরহুম মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, মরহুম মুহাম্মদ বদিউল আলম প্রমুখ।

এই সেমিনারই নির্যাস ছিল আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে আহবায়ক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম” বাস্তবায়ন কমিটি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা শেষে গঠন করা হয় চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট। ট্রাস্টের সভাপতি করা হয় আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে।

১৯৯৫ সালের ১৯ এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের বোর্ড অব ট্রাস্টের উদ্যোগে চট্টগ্রাম স্টেশন রোডস্থ হোটেল মিসকায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর প্রদত্ত বক্তব্য এখনো হৃদয়ে দাগ কাটে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একটি রাজনীতি চক্রের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা আচঁ করতে পেরে নাকি রূহানী শক্তি দ্বারা অনুভব করতে পেরে কথাটি বলেছিলেন জানিনা। তিনি উক্ত সুধী সমাবেশে বক্তৃতার এক পর্যায়ে বলেছিলেন, “যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তা বাস্তবায়নে যেন ব্যত্যয় না হয়। আর আমার বক্তব্য স্পষ্ট, এই বিশ্ববিদ্যালয় উম্মাহর জন্য হলে আমি আছি আর কোন দল বা গোষ্ঠীর জন্য হলে আমি নেই”।

উল্লেখ্য, ঐ সময়ে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেবকে ট্রাস্টের সভাপতি করা হলেও যাবতীয় আর্থিক লেনদন হতো ট্রাস্টের তদানীন্তন সেক্রেটারী মরহুম বদিউল আলম সাহেবের স্বাক্ষরে। যাই হোক, ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) কর্তৃক ১৯৯৫ সালের জুন মাসে তিনটি ফ্যাকাল্টির আওতায় ৩টি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) ১৯৯৫ সালের ১৫ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনই করেননি, কম্পিউটারের দুস্প্রাপ্যের ঐ সময়ে তিনিই প্রথম কম্পিউটার প্রদান করেছিলেন।

চকবাজার কলেজ রোডে ভাড়া করা বিল্ডিংয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ট্রাস্টের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নুতন নতুন বিভাগ খোলাসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। দুরূহ, কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল এই কাজটির শুরুতেই প্রকট হয়ে দেখা দেয় বিশাল ফান্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা। বিশাল ফান্ড তৈরির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, দাতা সংস্থা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের অর্থানুকূল্যের কোন বিকল্প ছিলনা।

তদানীন্তন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এই কাজটির দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন আজকের নবগঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সম্মানিত সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর হাতে। আর দায়িত্বটি উনার স্কন্ধে অর্পনের ইঙ্গিত ছিল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর। তিনি প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে পুত্রতুল্য স্নেহ করতেন।

১৯৮৫ সালে নিজের বড় সন্তান, বায়তুশ শরফের বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীকে নাদওয়াতুল ওলামা লক্ষ্ণৌ’তে পড়াশোনার ব্যবস্থা গ্রহনের যাবতীয় আনজাম তুলে দিয়েছিলেন প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর হাতে। অত্যন্ত মেধাবী এবং আরবী ভাষায় বিশেষ পারঙ্গম এই কর্মবীর দায়িত্ব কাধে নিয়েই নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-এর উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আরব বিশ্বের কাছে অত্যন্ত প্রিয়মুখ তদানীন্তন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার ভারতের নাদওয়াতুল ওলামা লক্ষ্ণৌর রেক্টর সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভীর স্নেহধন্য ছাত্র হওয়ার সুবাদে প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, দাতা সংস্থা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সাথে বেশ চেনাজানা ছিল।

প্রফেসর ড. নদভীর মেধা, যোগ্যতা এবং আরব বিশ্বে তাঁর সুনামের কথা জানতে পেরে তদানীন্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা তাঁকে অধ্যাপনার পাশাপাশি বিদেশ বিভাগ ‘ফরেন এ্যাফেয়ার্স ডিভিশন’ এর প্রধানের দায়িত্ব অর্পন করেন। খুব কম সময়ের মধ্যেই দায়িত্ব পালনে তাঁর বিশেষ পারঙ্গমতা সকলের নজরকাড়ে। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, দাতা সংস্থা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের অর্থানুকূল্যে শুরু হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর প্রাণচাঞ্চল্য ও নবযুগের সূচনা। নতুন নতুন বিভাগ খোলাসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই কাজটিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব অর্পিত হলো তাঁর উপর। তিনি মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এবং সুদান, সোমালিয়া, নেপাল, চায়নাসহ বিভিন্ন দেশের স্টুডেন্ট ভর্তির পাশাপাশি আরব বিশ্ব থেকে তাদের বৃত্তির ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আর্থিক চাপ কমান। কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ তদানীন্তন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে ট্রাস্ট সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্যসহ প্রায় সব কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে কার্পন্য করেনি ঐসময়ে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করার পর থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার চক আঁকতে শুরু করে, যা খোদ বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) আঁচ করতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশের বর্ণনা আগেই দিয়েছি। ফুলে-ফলে পল্লবিত হয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) যখন মহিরুহ ধারণ করে, তদুপরি উদ্যোক্তাদের অনেকেই পরপারে পাড়ি জমালে চট্টগ্রামের ‘জামাতিচক্র’ আস্তে আস্তে স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাদের নূন্যতম কোন অবদান নেই তাদের বসাতে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীতে।

জামাতিকরণের শুরুতেই তারা টার্গেট করে প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে (বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জিয়া) বেড়ে উঠা এবং কওমী ঘরনার মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুবাদে জামাত-শিবিরের মতাদর্শ বিরোধী মনোভাবাপন্ন ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বারবার দলে বেড়ার আমন্ত্রণ শুধু ফিরিয়েই দেননি, নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়টি জামাতীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলে তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় নানামুখী ষড়যন্ত্র। একে একে কেড়ে নেওয়া হয় ট্রাস্ট সদস্যসহ সিন্ডিকেট সদস্যের পদ এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় অধ্যাপনার পদোন্নতি। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় গাড়ি এবং নিজ কার্যালয়ের পিয়ন। তাঁর ছাত্র সমতুল্য অনেক শিক্ষক, যাঁদেরকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানিয়েছিলেন তাঁদের সবাইকে পদন্নোতি দিয়ে প্রফেসর করা হলেও তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়, যদিও ২০১৫ সালে অবস্থা বেগতিক দেখে সসম্মানে প্রফেসর হিসেবে পদন্নোতি দিতে বাধ্য হয় চক্রটি।

 

 

তবে এককথা, বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য জুলুমের কোন মাত্রা অবশিষ্ট রাখেনি, যা তাঁর উপর প্রয়োগ করা হয়নি। ২০০৭ সালে কুয়েতের সাবেক ধর্ম উপমন্ত্রী ড. আদেল ফালাহ’র উপস্থিতিতে কুমিরাস্থ আইআইইউসি’র স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঞ্চে তাঁকে স্থান না দেওয়া এবং একই দিন বিকেলে হোটেল পেনিনসুলায় আয়োজিত রিসেপশন অনুষ্ঠানে ‘সংরক্ষিত চেয়ার’ এর ধোঁয়া তুলে সেখান থেকে তাঁকে উঠিয়ে দেওয়ার মতো হীনমন্যতায় খোদ ড. আদেল ফালাহ পর্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করেন। অন্যান্য আরব দাতা সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গও প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর প্রতি তাঁদের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের বিষয়টি জানতে পেরে আইআইইউসি থেকে একে একে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভবনটি নির্মিত হয়েছে আরব বিশ্বের হাতেমতাঈ হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আলী আল মুতাওয়া এর নামে তাঁর ছেলে আবদুল ইলাহ আল মতাওয়ার অর্থায়নে। আবদুল ইলাহ আল মুতাওয়া প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভীর বাসায় মেহমানও হয়েছেন। মুতাওয়া পরিবার ড. নদভীর প্রতি আইআইইউসি’র জামাতি ট্রাস্টের অন্যায় আচরণে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। কিন্তু এতেও তাদের টনক নড়েনা! কারণ, ততোদিনে তো ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে ব্যবহার করে তাদের ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী প্রতিষ্ঠিত এনজিও সংস্থা আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আনীত বিভিন্ন প্রকল্প সমূহে উদারতা দেখিয়ে নাম ফলক না বসালেও আইআইইউসি’র বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি ভবনে দাতা সংস্থার শর্ত মোতাবেক আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নাম ফলক স্থাপন করতে গেলে সেদিন আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রচন্ড বিরোধিতায় নেমেছিলেন। এখানে একটি উল্লেখ না করলে নয়; আর সেটি হচ্ছে, মাওলানা শামসুল ইসলামকে যখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ট্রাস্টের সেক্রেটারি করার প্রস্তাব আসে তখন দেশী এবং বিদেশী অধিকাংশ সম্মানিত ট্রাস্টি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। মাওলানা শামসুল ইসলামের পক্ষে সেদিন প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীই বিশেষ করে আরব ট্রাস্টি সদস্যদের অনেক বুঝিয়ে-সুজিয়ে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিভিন্ন পদ-পদবী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেওয়ার পরও ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে না যাওয়ায় কথায় কথায় তার বেতন-ভাতা কর্তন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ডেকে এনে ফুসলিয়ে কিংবা প্রভাবিত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সংগ্রহ করে একের পর এক শো’কজ নোটিশ দিতে থাকে। প্রতিটি শো’কজ নোটিশের দাঁতভাঙ্গা জবাবের পাশাপাশি একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে থাকেন তিনিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনে উড়ে এসে জুড়ে বসা জামাতিচক্র কর্তৃক তাঁকে অপমানের সাথে বিদায়ের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তাঁর শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ীরা সসম্মানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে আসার পরামর্শ দিলেও অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষটির দ্ব্যর্থহীন জবাব ছিল, “যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বশক্তি দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি সে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আমি কখনো চলে যেতে পারিনা, ষড়যন্ত্রকারীদের সময় মতো এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমিই বের করে ছাড়বো ইনশা আল্লাহ”।

বলার অপেক্ষা রাখেনা, একসময়ে আইআইইউসি প্রসঙ্গে একটি কথা মুখে মুখে ছিল, আর সেটি হচ্ছে- ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী কর্তৃক সংগৃহীত ফান্ডকে মরহুম বদিউল আলম সাহেব যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের বন্দোবস্তসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকাম জেনারেটিং প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-কে শক্ত ভিত্তির উপরে দাঁড় করিয়েছেন। অবশ্য পরবর্তীতে এটি আইআইইউসি’তে নিষিদ্ধ বাক্যতে পরিণত হয়! এদের এই সমস্ত হীনমন্যতার কারণে ২০০৮/০৯ সালের পর আজ পর্যন্ত আইআইইউসি’তে বিদেশী অর্থায়নে কোন ভবন নির্মিত হয়নি, আসেনি কোন বিদেশী অর্থ সাহায্য। বিদেশ থেকে স্টুডেন্ট এবং টিচার্স স্কলারশিপ আসাও বন্ধ রয়েছে তখন থেকেই।

২০০৩/০৪ সালের পর কোন মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজন করতে পারেনি কোন সমাবর্তন অনুষ্ঠান। আগে দেড়/দুই বছর পরপর এজিএম অনুষ্ঠিত হলেও আ ন ম শামসুল ইসলাম গং বিগত ১৩ বৎসরে কোন এজিএম করতে পারেনি।

আইইউসি প্রতিষ্ঠার প্রপোজাল যার নামে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে এবং এর জন্য যিনি মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন সেই প্রফেসর ড. লোকমান সাহেবও তাদের হাতে যথাযথ সম্মান পাননি কেবল তাদের সাথে মতের অমিলের কারণে। তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে ঢাকা ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী বদিউল আলম সাহেবকেও ষড়যন্ত্র করে বের করে দিয়ে তাঁর পদটি শামসুল ইসলাম কৌশলে দখল করে নেয়। শামসুল ইসলামকে পরীক্ষা মূলকভাবে ছয় মাসের জন্য ই দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি দীর্ঘদিনের জন্য পদটি আঁকড়ে ধরেন। প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুদ্দিন সাহেবও তাদের হাতে যথাযথ সম্মান পাননি। দৃষ্টি শক্তি হারানোর পর চরমভাবে অবহেলিত হন ঐ চক্রটির হাতে।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, আইআইইউসি মেডিকেল কলেজ ট্রাস্টের অধীন দু’টি প্রতিষ্ঠান- (ক) ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও (খ) ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। ২০১০ সালের দিকে সরকার যথাযথ শর্তপূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সারা দেশে যে ১২ টি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছিল তম্মধ্যে এই দু’টিও ছিলো। এমন দুঃসময়ে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বরাবর ডিও লেটার প্রদান এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করে মেডিকেল কলেজ দু’টি খোলার ব্যবস্থা করেছিলেন। সুনির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের মুচলেকা দিতে হয়েছিলো প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভীকে। এতোসব অবদান রাখা সত্বেও আ ন ম শামসুল ইসলামদের কাছ থেকে প্রতিদান হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন উক্ত মেডিকেল কলেজ ট্রাস্টি থেকে ‘অব্যাহতি’!!

তো শুরুতেই বলছিলাম, ইতিহাস তার আপন গতিতেই চলে। ইতিহাস বিকৃতিকারীরা সাময়িকভাবে নিজেদের সফলকাম ভাবলেও প্রকৃত ইতিহাস একদিন স্বরূপে প্রতিভাত হয় স্বমহিমায়। যাঁদের অপরিসীম ত্যাগ, মেধা আর পরিশ্রমের বদৌলতে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠে আজকে মহিরুহ রূপ ধারণ করেছে সেইসব মহান ব্যক্তিবর্গের অবদানকে অস্বীকার করে আইআইইউসিকে দলীয় সম্পদে পরিণত করে যারা দীর্ঘদিন এটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল আজ তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত।

বিগত দুই দশকে আইআইইউসি’র বিভিন্ন কনভোকেশন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, সভা- সেমিনার এবং প্রকাশিত জার্নাল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ঐসব মহান ব্যক্তিদের কোন মূল্যায়ন তো করা হয়-ই নি, এমনকি তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতিটি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। উদ্দেশ্য একটিই, নতুন প্রজন্মের সামনে আইআইইউসি’কে জামাতের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধারণা দেওয়া। তাই তো শুরুতে বলেছিলাম, গত ৪ মার্চ গত আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) ও তাঁর সন্তান বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীর প্রতি হঠাৎ ‘মুহাব্বত’ উতলে উঠার কথা।

বায়তুশ শরফের ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার (রাহ.) ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির বিভিন্ন সভা-সেমিনারের ছবি এবং নথি পত্র পেয়ে রীতিমতো বিস্ময়-বিহ্বল। ভাবতেই আশ্চর্য হই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও স্বপ্ন দ্রষ্টাদের কিভাবে স্মৃতির অতল গহবরে হারিয়ে ফেলা হয়েছে। যে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে নিয়ে আ ন ম শামসুল ইসলাম গংদের দীর্ঘদিন ধরে তুচ্ছতাচ্ছিল্য সেই শামসুল ইসলাম প্রদত্ত বক্তৃতার একটি ভিডিও দেখে তো আরো বিস্ময়াভিভূত। ২০০৬ সালে আইআইইউসি’র বিদেশ বিভাগের পরিচালকের পদ থেকে বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত ফেয়ার ওয়েল অনুষ্ঠানে মাওলানা শামসুল ইসলাম বক্তৃতার এক পর্যায়ে বলেছিলেন, “আইআইইউসি’র প্রতিটি ইট, দেওয়ালে রয়েছে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর অবদান”। সেই প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী যখন জামাতিচক্রের হাত থেকে আইআইইউসি’কে বের করে এনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সন্তানদের মূল্যায়ন পূর্বক স্বাধীনতা স্বপক্ষীয় সুযোগ্য, সুদক্ষ বিশেষায়িত ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সরকার থেকে অনুমোদন নিয়ে আসলেন তখন বায়তুশ শরফের মরহুম পীর আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) ও তদীয় পুত্র বর্তমান পীর সাহেবের প্রতি তাদের অপরিসীম(!) শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দেখে বিস্ময়াপন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আজ থেকে দুই দশক পূর্বে আইআইইউসিতে এতো বিল্ডিং, এতো অবকাঠামো, এতো ছাত্র-ছাত্রী এবং জৌলুশ না থাকলেও একদল নিবেদিতপ্রাণ ডাইনামিক বোর্ড অব ট্রাস্টির সুযোগ্য পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক দ্বারা পাঠদানের ব্যবস্থা করে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের শীর্ষ তিনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, তেমনি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ ফান্ড সংগ্রহ করে নিজস্ব ভূমিতে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। আ ন ম শামসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কোটারী চিন্তা, সংকীর্ণতা, দলীয় মনোবৃত্তি সম্পন্ন মানসিকতার কারণে আইআইইউসি থেকে স্বনামধন্য শিক্ষকগণ চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিদেশি শিক্ষক ও ছাত্রের অপ্রতুলতার কারণে আন্তর্জাতিক মান বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা আশা করবো নবগঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর মাননীয় সভাপতি প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি’র সুযোগ্য পরিচালনায় আইআইইউসিতে ফিরে আসবে নতুনভাবে প্রাণচাঞ্চল্য এবং আরো আশা করবো আইআইইউসি ছেড়ে চলে যাওয়া স্বনামধন্য শিক্ষকমন্ডলীদের, যারা বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং গবেষণা কর্মে নিয়োজিত তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আইআইইউসি’কে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।

পরিশেষে বলবো, আইআইইউসি একটি জাতীয় সম্পদ; কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটি চট্টগ্রামবাসীর অহংকার ও গৌরবের। উম্মাহর স্বার্থে উদ্যোক্তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। সুতরাং আইআইইউসি প্রতিষ্ঠার অভিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কাজে সহযোগিতা করা আপনার আমার সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক: আবদুল্লাহ আল মারুফ।

[লেখাটি আইআইইউসির বর্তমান বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। লেখাটির ইতিহাসকেন্দ্রীক তথ্যসূত্রের দায় পাবলিক ভয়েস নেবে না।]

মন্তব্য করুন