মাদ্রাসা শিক্ষকের দায়ে মাদরাসা বন্ধ হলে স্কুল শিক্ষকের কারণে স্কুল বন্ধ করবেন?

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২১

আবদুল জাব্বার

আমি ১৯৮৯ সালের দিকে ২য় শ্রেনীতে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  পড়তাম। দীর্ঘ ৩ মাইল হেটে আসতে হতো, আবার ৩ মাইল হেটে যেতে হতো। আমার মতো দূর দূরান্ত থেকে হেটে আসা ছাত্ররা ক্লান্ত হয়ে যেতো।  সেই স্কুলে প্রায়শই আমাদের  একজন শিক্ষক বাংলা পড়াতে গিয়ে সবাইকে বেত দিয়ে অমানবিক পিটাতেন। তিনি আগের দিন কোন ছড়া বা কবিতা বা অন্য কোনো পড়া দিয়ে রাখতেন। পরের দিন সবাইকে সেই পড়া ওনার সামনে বলতে হতো।

এতে অনেক ছাত্রই আগের দিনের দেয়া পড়া স্যারের সামনে বলতে পারতোনা। অনেকে স্যারকে দেখেই পড়া ভুলে যেতো। আমি ক্লাশের প্রথম বেঞ্চের ছাত্র হওয়ার কারণে নিয়মিত পড়া শিখে আসতাম এবং স্যারের সামনে পড়া বলতাম। স্যার যখন দেখতেন কিছু ছাত্র পড়া পারছেনা শুরু হত সব ছাত্রের উপর অমানবিক বেত্রাঘাত। যে পড়া আদায় করতে পারেনি তার উপর যেমন বেত্রাঘাত আবার যে আদায় করেছে তার উপরও। এভাবে আর স্কুলে ভালো লাগছিলোনা। কোন স্যারকে বলার সুযোগ সাহস কোন ছাত্রের ছিলো না। আমি আমাদের স্যারের অমানবিক বেত্রাঘাতের কথা আব্বাকে বলি এবং স্কুলে আর যাবো না সাফ জানিয়ে দেই। ঠিক এর ক’দিন পরে সেই স্কুল ছেড়ে আমিসহ আমরা ক’জন পাশে মাদ্রাসায় ভর্তি হই। আমার মেঝো ভাই আমাদেরকে ভর্তির ক্ষেত্রে সাহায্য করেন।

এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় যে স্যারকে দেখলে জিজ্ঞাস করতাম, স্যার আপনি অকারণে সব ছাত্রদেরকে মারতেন কেন? আমার ধারণা হয়ত তিনি আমার কাছে ক্ষমা না চাইলেও সেই অবুঝ ছাত্রদের উপর অকারণে বেত্রাঘাতের ঘটনা স্বরণ করে লজ্বা পেতেন।

সে যাই হোক, বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্রের জীবনে অনেক স্মৃতি বিস্মৃতি আছে। এখনো অজো পাড়া গায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় গৎবাঁধা কিছু মুখস্থ বুলি শেখানোকে  প্রকৃত শিক্ষা মনে করা হয়ে থাকে।  শিক্ষা পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ব্যতিত কোন ছাত্রকে যদি কেউ শিক্ষিত করতে চায়, প্রকৃত পক্ষে সেটা হবে বোকামী। যা আজ দেশের সর্বত্র বিরাজমান।

কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা মেনে নেয়া যায়না। গত ক’দিন আগে হাটহাজারীতে একটি মাদ্রাসায় একজন ছাত্রের উপর একজন শিক্ষকের অকথ্য নির্যাতনের ভিডিও বিবেকবান মানুষ মাত্রই কষ্ট পেয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে মিডিয়া পাড়ায় খুব জোড়ালো আলোচনার ঝড় বইছে। কোন কোন ব্যক্তি/ মিডিয়া শিক্ষকের শাস্তির পাশাপাশি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ার দাবি করছেন।

আমি এহেন দাবীদার বুদ্ধিজীবীদের জিজ্ঞেস করতে মন চায় ভিকারুন্নেসার শিক্ষক পরিমল ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে ভাকারুন্নেসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো?

ঢাবিসহ সারা দেশের শীর্ষ শিক্ষালয় গুলো অসংখ্য ছাত্রী শিক্ষকদের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সরকারী দলের ছাত্রসংগঠন  রাতের আধারে বিরোধী মতের  ছাত্রদের উপর অমানবিক নির্যাতনের করে হত্যা ও পঙ্গু করেছে।
তখন কি শিক্ষাপ্রতিষ্টান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো?

জাবির তৎকালীয় ছাত্রলীগ নেতা মানিক  ধর্ষনের সেঞ্চুরি পালন করেছিলো। তাতে কি জাবি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো?

সুতরাং এসব অবান্তর ও অযৌক্তিক  কথা বলে লাভ নেই। যাদের ইসলাম নিয়ে মসজিদ মাদ্রাসা নিয়ে চুলকানী আছে শুধু এসব আওয়াজ তারাই  তুলে। শিক্ষাপ্রতিষ্টানে ছাত্ররা শাসন ও আদরের মাঝে মানুষের মত মানুষ হবে এটি স্বাভাবিক। যখন শাসন বা আদরের মাত্রা বেশী হয় তখন একজন ছাত্রের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। তখন সে গোল্লায় যায়। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করে পরিচালিত হয় তখন অঘটন ঘটে। তাই অঘটনের অনুঘটক  যেই হোক তার উপযুক্ত শাস্তি  নিশ্চিত হলেই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।

লেখক : আবদুল জাব্বার। সভাপতি : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মন্তব্য করুন