চাঁদা না পেয়ে মাদরাসার জায়গা দখল করল চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২১

উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বগুড়ার শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসার জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদার টাকা না পেয়ে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন ও তার লোকজন মাদরাসার জায়গায় জোর করে টিনের ঘর তুলেছেন।

ঘটনাটি জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড শেরপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, উপজেলার খন্দকারটোলা মৌজায় মাদরাসার এক একর ৬৫ শতক জমি রয়েছে। একটু নিচু হওয়ায় এসব জমিতে পানি জমে থাকায় দীর্ঘদিন থেকে অনাবাদি হিসেবে পড়ে থাকে।

তাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মাদরাসার গভর্নিং বডি অধিবেশনে অনাবাদি এসব জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তবে জমি বিক্রির টাকায় সমপরিমাণ জমি ক্রয় ও অবশিষ্ট টাকায় অবকাঠামো নির্মাণের শর্ত জুড়ে দিয়ে জমি বিক্রির এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সে মোতাবেক যথাযথ নিয়ম মেনে জমি বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরই মধ্যে দশ থেকে ১২ শতক জমি বাদে বাকি সব জমিই বিক্রি হয়ে গেছে।

তবে খন্দকারটোলা গ্রামের বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন মসজিদ নির্মাণের নামে পাঁচ শতক জায়গা ক্রয়ের সব টাকা দাবি করেন বসেন। চাঁদা হিসেবে উক্ত টাকা না দিলে মাদরাসার জায়গা বেদখল দেওয়ার হুমকি দেন।

অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেন, ইউপি সদস্যের দাবি করা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

সেই সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন ওই ইউপি সদস্য ও তার লোকজন। এমনকি গত কয়েকদিন আগে মাদরাসার জায়গায় রাতের আঁধারে জোরপূর্বক টিনের ঘরও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খন্দকারটোলা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রতারণা করেছেন।

মাদরাসায় জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন সেটি অস্বীকার করছেন। তাই গ্রামের লোকজন সেখানে টিন দিয়ে নামাজ ঘর তুলেছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, মাদরাসার জায়গায় জোরপূর্বক ঘর তোলার সুযোগ নেই। তাই ঘটনাটি জানার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শেরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।

শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন