সতীর্থ খেলোয়াড়দের কোরআন তিলাওয়াত শেখান জাহানারা

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২১

জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি ও দলের সঙ্গে ম্যাচ-পরবর্তী টুকটাক আলোচনা শেষে নিজের রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাহানারা আলম।

নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সাক্ষাৎকার নিতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে।

সাক্ষাৎকারের মাঝেই হাজির হন এক সতীর্থ খেলোয়াড়। ফোনের ওপাশ থেকে শোনা গেল, ‘আপু কখন পড়াবেন?’ কৌতূহলী মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে খেলতে গিয়ে পড়ালেখার প্রসঙ্গ আসছে কেন? ‘জাহানারাকে কী পড়ানোর কথা বললেন সেই সতীর্থ?’

অনুমতি নিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর, শুরুতে খানিক ইতস্তত করলেন জাহানারা আলম। পরে খুলে বলেন, ‘পড়ানো’র বিষয়টি। তিনি মূলত সতীর্থ খেলোয়াড়দের কোরআন তিলাওয়াত শেখান।

ম্যাচের পর হোটেলে ফিরে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করেন তারা কয়েকজন। ওই সময়টা জানতেই জাহানারার কাছে এসেছিলেন সেই সতীর্থ খেলোয়াড়।

জাহানারা জানান, দলের মধ্যে যাদের আগ্রহ আছে, তাদের সবাইকেই কোরআন তিলাওয়াত শেখান তিনি। তার কথা, ‘আমি আসলে আমার সতীর্থদের কোরআন পড়াই।

সিনিয়র-জুনিয়র যাদেরই আগ্রহ আছে, যারা ইচ্ছুক…, তাদের সবাইকেই পড়াই। আমি নিজে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করি। আমি চাই তারাও কোরআন পড়ুক, নামাজ পড়ুক পাঁচ ওয়াক্ত। এজন্য আরকি, আমি এটা করি।’

ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকেই মূলত মহৎ এই কাজটি জাহানারা করছেন আরও আগে থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের লকডাউনে যখন ঢাকার বাসায় একা একা পরিবার থেকে দূরে ছিলেন, তখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তায় একজন সতীর্থ খেলোয়াড়কে কোরআন তিলাওয়াত শিখিয়েছেন।

নিজে নিয়মিত ধর্মকর্ম করার পাশাপাশি অন্যদের এভাবে শেখাতে পারাকে জীবনের অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলেন জাহানারা, ‘করোনা লকডাউনের সময় আমি হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওকলের মাধ্যমে একজনকে কোরআন পড়িয়েছি।

এছাড়া আরেকজনকে বাসায় নিজের হাতে কোরআন শিখিয়েছি। লকডাউনে এটা আমার সবচেয়ে বড় অর্জন, যে দু-একজনকে কোরআন শিখাতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজনকে আরবি পড়িয়ে এখন কোরআন ধরিয়েছি। এখন শুরুর দিকে একটু দেখিয়ে দিলে ভালো। একজন মোটামুটি এখন সুন্দরভাবে পড়তে পারে, তাকে আর দেখিয়ে দিতে হয় না।

আরেকজন এখন ক্যাম্পে আমার সঙ্গেই আছে, ওকে আমি একটু দেখিয়ে দেই। চেষ্টা করি প্রতিদিন আধঘণ্টা, একঘণ্টা সময় নিয়ে দেখিয়ে দিতে।’

এছাড়া জাতীয় দলের বাইরে থাকা একজনকেও আরবি পড়ানো শুরু করেছেন জাহানারা।

শিগগিরই তাকে কুরআন ধরানোর আশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এছাড়া ক্যাম্পের বাইরের আরেকজন ক্রিকেটারকে নতুন করে আরবি পড়ানো শুরু করেছি ভিডিওকলের মাধ্যমে। ইনশাআল্লাহ্ এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে তাকেও কুরআন ধরিয়ে ফেলতে পারব।’

জাহানারা নিজে চেষ্টা করছেন ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে জীবন চালাতে। বাকিদেরও দেন একই পরামর্শ। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সবসময় ধর্মীয় পোশাকে থাকা সম্ভব হয় না এ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের। এর বাইরে বাকি কাজগুলো ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে বলে জানান জাহানারা।

তার কথা, ‘আসলে আমার চিন্তাভাবনা হলো, পেশা আমার ক্রিকেট; তবে আমি জীবনযাপন করব ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক। হ্যাঁ! খেলোয়াড়ি পোশাকটা হতে পারে একটু আলাদা।

এর বাইরে আমি মনে করি, বাকি সবকিছু ঠিক আছে। অন্তত সে মোতাবেক চেষ্টা করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, কোরআন তিলাওয়াত করা, সত্য কথা বলা, সৎভাবে চলা… এগুলো করতে।’

মন্তব্য করুন