‘দুর্নীতিবাজদের বর্জন করে রাষ্ট্রে আলেম সমাজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে’

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২১

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্তÍ উদ্বেগজনক। ইসলামের নাম-নিশানা মুছে দিতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। ইসলামী শিক্ষা ও ইসলামী ব্যক্তিদেরকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। দুর্নীতিবাজদের বর্জন করে রাষ্ট্রে আলেম সমাজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সকল দল ও সামাজিক সংগঠনকে বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামের পক্ষে সম্পৃক্ত করার গুরুদায়িত্ব ওলামায়ে কেরামকে পালন করতে হবে।

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ চাটগামী, বগুড়া জামিল মাদারাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, বরিশাল খাজা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হালিম, শিবচর জামিয়াতুস সুন্নাহর প্রিন্সিপাল মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী, ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, খুলনা দারুল উলূম-এর মুহতামিম মুফতী মুশতাক আহমদ, জামিয়া ইউনুছিয়ার মুফতী আব্দুর রহীম কাসেমী, চাঁদপুরের মাওলানা খাজা মাঈনুদ্দীন, খুলনার মুফতী গোলামুর রহমান, খুলনার মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। বক্তব্য রাখেন ভাটারা জামিয়া সাঈদিয়ার মুহতামিম মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা কামাল উদ্দিন সিরাজসহ অর্ধশত ওলামা প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন ঘোষণা পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। সম্মেলনে মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী সভাপতি এবং মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন। কমিটির অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা আব্দুল হক আজাদ সিনিয়র সহ-সভাপতি, মুফতী ওমর ফারুক সন্ধিপী, আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ, ড. মুশতাক আহমদ, ড. আফম খালিদ হোসাইন, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী সহ-সভাপতি।

সম্মেলনে ঘোষিত ১৫ দফায় রয়েছে-

১. দেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মুলনীতি “সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা” নিশ্চিত করতে দেশের শাসনতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক মুল্যবোধকে ইসলামের আলোকে সাজিয়ে তুলতে সকলকে যার যার স্থান থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. উম্মাহর খেলাফতবিহীন কাল আর দীর্ঘায়িত হতে দেয়া যায় না। সেজন্য খেলাফত আলা মিন হাজিন নবুওয়াহ প্রতিষ্ঠায় উম্মাহর সকলকে বিশেষত উলামায়ে কেরামকে ঐক্যবদ্ধ বাস্তবমূখী কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

৩.বিভিন্ন চিন্তাধারার উলামায়ে কেরামের মাঝে বিদ্যমান দুরত্ব কমিয়ে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

৪. ওলামা-মাশায়েখ-আইম্মাসহ সকল ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৫. দেশের সকল মসজিদের খতিব ও ইমামদেন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মকর্তার মর্যাদা ও মুয়াজ্জিনদের ২য় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদানপূর্বক সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৬. দাওরায়ে হাদিস ও উচ্চতর মাদ্রাসাসমূহের শিক্ষকদের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের শিক্ষকদের সমতুল্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৭. দেশের সকল সরকারী বেসরকারী প্রাইমারী স্কুলে মুসলিম শিশুদের কুরআন শিখানোর জন্য একজন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারী নিয়োগ দিতে হবে।

৮. দেশে যে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল এবং সম্মেলনে কোন রকম প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানী করা যাবে না। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পুলিশ পারমিশনের হয়রানীমূলক ও অপমানকর বাধ্যবাধকতা তুলে নিতে হবে।

৯. দেশের সকল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন এবং মক্তব মাদরাসার শিক্ষকদের চাকুরী বিধি এবং বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

১০. উলামায়ে কেরামের নামে থাকা সকল ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

১১. ইসলাম, আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর অবমাননাকারীদের প্রতিহত করতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সাথে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংশোধন করে জনবান্ধন করতে হবে। এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

১২. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করে তাদেরকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

১৩. অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরাম এবং ইমামগণকে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

১৪. কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করা যাবে না মর্মে সংবিধানে ধারা স্থাপন করতে হবে। ১৫. দেশে সুশাসন, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। অতএব এ সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেয়া যায় না। ওলামায়ে কেরাম এখনও সচেতন না হলে স্পেনের পরিণতি বরণ করতে হবে।

মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, আমাদের সবাইকে হিংসা বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে উত্তম আখলাকের মাধ্যমে সকলকে কাছে টানতে হবে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশে আলেমদের জন্যে একটি সম্ভাবনার দুয়ার উম্মোচিত করেছে। ওলামায়ে কেরামের উচিত এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই জনবান্ধব আন্দোলনটিকে সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়া।

মন্তব্য করুন