মাওলানা মামুনুল হকের ব্যবহার করা দেড় কোটি টাকার গাড়িটি একজন ব্যবসায়ীর

প্রকাশিত: ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২১

হেফাজতের ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া বাংলাদেশের শায়খুল হাদিস, আলোচিত ইসলামি ব্যাক্তিত্ব মাওলানা মামুনুল হক দেড় কোটি টাকা দামের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করছেন ও এ নিয়ে ফেসবুকে বিতর্ক হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করেছে সোনার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের একটি নিউজ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পোর্টাল ডিবিসি নিউজ ৭১।

নিউজে দাবি করা হয়েছে মাওলানা মামুনুল হক ২০১৬ মডেলের বিলাসবহুল একটি গাড়ি হাঁকিয়ে মাহফিলে গিয়েছেন যে গাড়িটির বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা যার বাজারমূল্য। সূত্র হিসেবে ফেসবুকে গাড়ির বিভিন্ন ছবি আপলোড দেয়া কার হাব বিডির নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নজন এই গাড়িটির বিষয়ে মাওলানা মামুনুল হক বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে দাবি করে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। যেখানে মামুনুল হককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের একটি চেষ্টাও তারা করেছেন।

কিন্তু পাবলিক ভয়েসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে – বাস্তবে গাড়িটি মাওলানা মামুনুল হকের নয়। বরং এটি একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়ি। যিনি মামুনুল হকের একজন ভক্ত। গত ২ ফেব্রুয়ারি মাওলানা মামুনুল হক সিলেটের ছাতকে দুটি মাহফিলে গিয়েছিলেন। সেখানের ঐ ব্যবসায়ী মাওলানা মামুনুল হককে তার গাড়ি দিয়ে বহন করে নিয়েছেন তার বরকত নেয়ার জন্য।

এমনকি গাড়িটি সেদিনই উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এবং উদ্বোধনের নিয়তেই এই গাড়িতে তাকে উঠানো হয়েছিলো। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে ছাতকের ওই বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর নাম জনাব এখলাছ খান।

মাওলানা মামুনু্ল হক ব্যক্তিগতভাবে এ গাড়ি ব্যবহার করেন না বরং তার ব্যক্তিগত গাড়িটি প্রিমিও মডেলের।

তথ্যগুলো পাবলিক ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পরিচিত মুখ মাওলানা সাইফ রাহমান। এমনকি যে ছবিটি সবাই প্রচার করেছে ও কারহাব বিডির ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়েছে সেটি মাওলানা সাইফ রাহমানের মোবাইলেই তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও সেদিন পুরো সময়টাই তিনি মাওলানা মামুনুল হকের সাথে ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

মাওলানা সাইফ রাহমান এ বিষয়ে আরও বলেন – গত ২ ফেব্রুয়ারি মাওলানা মামুনুল হক সাহেব সিলেটের হোটেল ডালাসে তার সাংগঠনিক প্রোগ্রাম শেষ করে তিনি নিজের গাড়িতে না উঠে ঐ ব্যবসায়ীর দামি গাড়িটিতে উঠেন সিলেটের গহরপুরের সুলতানপুরের উদ্দিশ্যে যাওয়ার জন্য। সেখানে শাহ সুলতান রহ. সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বাদ মাগরিব বয়ান ছিলো কার। ছাতকের এই ব্যবসায়ী গাড়িটা নতুন কিনেছেন। মামুনুল হক সাহেবের বরকত পাওয়ার জন্য তিনি তার গাড়িতে মামুন সাহেবকে তুলেন। তারপর এই গাড়িতে করেই তারা সুলতানপুর যান। এরপর সুলতানপুর বয়ান শেষে এই গাড়িতে করেই সিলেটের ছাতক দারুল উলুম মাদরাসার উদ্যোগে ছাতক পৌরসভা সংলগ্ন মাঠে বয়ান করেন তিনি।

মাওলানা সাইফ রাহমান দাবি করে বলেন – কোন যাচাই ছাড়া “মামুনুলের দেড় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি : ফেসবুকে বিতর্কের ঝড় যে কারণে” শিরোনামে ‘ডিবিসি নিউজ ৭১’ যে নিউজ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা এটাকে লুফে নিয়ে ছবি দিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তাদের ব্যাপারেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

তিনি পাবলিক ভয়েসকে আরও বলেন – নিউজে বলা হয়েছে, কোন গাড়ি কোম্পানি থেকে নাকি তারা খবর নিয়েছে। গাড়ি কোম্পানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এটি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট মিথ্যা কথা!

যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন – আপনারা মিথ্যা বানোয়াট তথ্য কেন ছড়াচ্ছেন, আল্লাহ মালুম। একজন মানুষকে বিতর্কিত করতে শেষপর্যন্ত মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে কেন আপনাদের! সত্য কিছু তুলে ধরুন। জাতিকে জানান। অযথা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দিনশেষে ক্ষতি তো আপনাদেরই হচ্ছে।

তিনি বলেন – মামুনুল হক এরকম গাড়ি একসাথে পাঁচটা রাখার ক্ষমতা রাখেন। ডানে বামে সামনে পেছনে। তাঁকে হাদিয়া দেয়ার মানুষের অভাব নেই। কিন্তু তিনি যেটা করেননি, সেটা কেন আপনারা ফলাও করে প্রচার করছেন, বুঝে আসেনা। সুতরাং সত্য সমাগত, মিথ্যা বিতাড়িত।

প্রসঙ্গত : ধোলাইপাড়ে স্থাপিত হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নিয়ে সারাদেশে চলমান বিতর্কে মাওলানা মামুনুল হকের একাধিক বক্তব্য গণমাধ্যমে নজর কেড়েছে। সেখানে বিভিন্ন ভাবে তার বক্তব্য নিয়ে নিউজ শিরোনাম হচ্ছে। এবং এ নিয়ে মাওলানা মামুনুল হকসহ দেশের আরো দুজন প্রথম সারির আলেমদের জড়িয়ে একটি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করেছে বিতর্কিত সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি। যেখানে মাওলানা মামুনুল হক, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে রাষ্ট্রদ্রোহ বক্তব্য দেয়ার অঅভিযোগ আনা হয়েছে। যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী পহেলা এপ্রিল পিবিআই কর্তৃক দাখিল করার কথা রয়েছে। যদিও মাওলানা মামুনুল হক একাধিকবার পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তার কোনো বক্তব্য বঙ্গবন্ধু বা আওয়ামী লীগ বিরোধী নয় বরং ওলামায়ে কেরাম সম্মিলিতভাবে যে কোন ভাস্কর্য বা মূর্তি স্থাপনের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

মন্তব্য করুন