ভারতে কৃষক আন্দোলনের শততম দিন: মোদি বললেন, উপায় নেই!

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২১

ভারতের নতুন কৃষিনীতি বাতিলের দাবিতে কৃষক আন্দোলনের শততম দিন পূর্ণ হয়েছে শনিবার। আন্দোলনের এই মাইলফলক উদযাপনের জন্য দিল্লির কাছে ছয় লেনের একটি মহাসড়ক অবরোধ করেছে।

কৃষিনীতি বাতিলের জন্য নরেন্দ্র মোদীর সরকারেরর ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, তরুণ ও বৃদ্ধ কৃষকরা কার, ট্রাক ও ট্রাক্টর নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে তাদের এই আন্দোলন। কৃষকদের দাবি, এসব নীতির মাধ্যমে কৃষি খাত বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

মোদী বলে আসছেন, এই আইনগুলো দেশের বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতের সংস্কারের জন্য প্রয়োজন ছিল। তিনি কৃষক আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

পাঞ্জাব থেকে আসা ৬৮ বছরের কৃষক অমরজিৎ সিং বলেন, ‘মোদী সরকার এ আন্দোলনকে নিজেদের মর্যাদার ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে। তারা কৃষকদের বেদনা বুঝতে পারছে না।

বিক্ষোভ ছাড়া তারা আর কোনও পথ খোলা রাখেনি।’ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যের কয়েক লাখ কৃষক রাজধানী দিল্লির অদূরে ডিসেম্বর থেকে তীব্র শীতের মধ্যেও অবস্থান নিয়ে আছেন।

কৃষকদের এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছে। জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা তুনবার্গ, মার্কিন গায়িকা রিহানাসহ অনেক তারকা সমর্থন জানিয়েছেন। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি।

মোদী সরকার বিক্ষোভকারীদের সমর্থনকারীদের সমালোচনা করে আসছে এবং মানবাধিকার কর্মীরা কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ করেছেন।

বেশিরভাগ সময় আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ১৬ জানুয়ারি বিক্ষিপ্ত সহিংসতা দেখা গেছে। এতে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ওই দিনের ঘটনায় ভিন্নভাবে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরার জন্য আট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করেছে।

এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকারের আচরণ ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অপমান, সরকারের সমালোচকদের হয়রানি এবং বিক্ষোভের খবর প্রচারকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা।

দিল্লিতে শীত শেষে এখন গরম পড়তে শুরু করেছে। শনিবার অবরোধে জড়ো হওয়া কৃষকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।

পাঞ্জাবের ৫৮ বছরের আরেক কৃষক রাজা সিং বলেন, দুর্যোগপূর্ণ শীতও আমাদের আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে পারেন, তীব্র গরমও কিছু করতে পারবে না।

মন্তব্য করুন