ভারতের মাদ্রাসায় হিন্দুগ্রন্থ পড়ানোর প্রস্তাব: জমিয়তের নিন্দা

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

ভারতের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বেদ, গীতা, রামায়ণ ও মহাভারত পড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একাংশের সভাপতি ও সাবেকমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শায়খুল হাদীস মাওলানা ড.গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

আজ ৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নেতৃদ্বয় বলেন,ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করার নামে হিন্দুত্ববাদী সরকার সুকৌশলে মুসলমানদেরকে হিন্দু বানানোর গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। এর ফলাফল ভারতের জন্য শুভ হবে না।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ভারত হচ্ছে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। সে দেশে সংস্কৃতি রক্ষার নামে মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় হিন্দুগ্রন্থ পড়ানোর প্রস্তাব মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নামান্তর।ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র । প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুসলমানদের উপরে অন্য ধর্মের গ্রন্থ চাপিয়ে দেওয়া এটা অন্যায়।

নেতৃদ্বয় ভারতের সরকারকে মানবতার কল্যাণে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন : মাদ্রাসায় গীতা রামায়ণ পাঠদান; যা বলছেন ভারতীয় আলেমরা

প্রসঙ্গত : ভারতের মাদরাসার পাঠ্যক্রমে প্রাচীন ভারতের জ্ঞান-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি চর্চার দাবি হিসেবে বেদ, গীতা, রামায়ণ পড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, জাতীয় ওপেন স্কুলিং সংস্থার নতুন এই প্রস্তাবে এবার থেকে মাদ্রাসাতেও পড়ানো হবে বেদ, গীতা, রামায়ণ। প্রাথমিকভাবে ১০০ মাদ্রাসায় এগুলো পড়ানো শুরু করা হবে। পরবর্তীতে ৫০০ মাদ্রাসায় তা চালু করা হবে।

ভারতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাধীন শিক্ষা সংস্থা হলো এই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং।

নতুন প্রস্তাবে ১৫টি নতুন কোর্সের কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবে এই তালিকায় রাখা হতে পারে বেদ, যোগ, রামায়ণ এবং মহাভারত। থাকছে সংস্কৃত ভাষাও। এরই সঙ্গে থাকবে কিছু ভোকেশনাল স্কিলও। পড়ানো হবে ভগবত গীতাও।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর রমেশ পোখরিয়াল দাবি করেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিংয়ের নতুন এই প্রস্তাব মাদরাসা ও আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বুঝতে সাহায্য করবে।

মন্তব্য করুন