স্ত্রী দাসী নন, তাকে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকতে বাধ্য করা যাবে না

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

স্ত্রী একজন স্বতন্ত্র মানুষ, তিনি স্বামীর দাসী নন। তাই তাকে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য করা যায় না, মঙ্গলবার এমনই রায় দিল ভারতের শীর্ষ আদালত।

নিউজ ১৮ এর খবরে বরা হয়, এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের কাছে এমন রায়দানের আবেদন করেছিলেন, যাতে তার স্ত্রী তার সঙ্গেই থাকেন। এই মামলার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানায় স্ত্রী দাসী নন বা কোনও অস্থাবর সম্পত্তিও নন।

গতকালের ওই মামলায় শীর্ষ আদালতে বিচারপতি সঞ্জয় কিশন কাউল এবং বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তের এসসি বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, কোনও মহিলাকে নিজের সম্পত্তি বা দাসী ভাবা কতটা যুক্তিসঙ্গত? ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল গোরক্ষপুরের একটি পারিবারিক আদালত কর্তৃক গৃহীত হিন্দু বিবাহ আইন (এইচএমএ)-এর ৯ নং ধারায় এই ব্যক্তির পক্ষে পাশ হওয়া বিবাহবন্ধনের অধিকার পুনরুদ্ধারের রায়ের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে।

ওই মহিলা আদালতে জানান, ২০১৩ সালে বিয়ের পর থেকে পণের জন্য তার উপর নির্যাতন চালাত তার স্বামী। স্বামীই তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছিল। ২০১৫ সালে খোরপোশের জন্য মামলা করেন ওই মহিলা। গোরক্ষপুরের আদালত ওই ব্যক্তিকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার কথা বলেছিল। এরপরেই পারিবারিক আদালতে বিবাহবন্ধনের অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদন করেছিল ওই ব্যক্তি। আদালতে ওই ব্যক্তি জানায়, যখন সে একসঙ্গে থাকতে চায় তখন খোরপোশ দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে।

ওই মহিলার আইনজীবী অনুপম মিশ্র সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এড়ানোর জন্য এই ‘খেলা’ শুরু করেছে। অপর দিকে ওই ব্যক্তির আইনজীবী স্ত্রী’কে স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এর প্রত্যুত্তরেই শীর্ষ আদালত জানায়, ‘স্ত্রী কোনও কেনা সম্পত্তি নন, বা দাসীও নন।  তিনি যখন কোথাও যেতে চান না, তখন তাঁকে পণ্যের মতো কোথাও পাঠানো যায় না।’

মন্তব্য করুন