সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে কালো পতাকা মিছিল

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

এম.এস আরমান,নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দীন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীর মাইজদীতে সাংবাদিকদের কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১ মার্চ) সকাল ১০ টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাচ ধারণের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানান কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। তবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।

নিহত মুজাক্কিরের ভাই নূর উদ্দিন জানান, মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় আমার বাবা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। আমরা যেহেতু ওইদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না তাই মামলায় অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তরও করা হয়। আমরা পিবিআই টিমের কাছে আশাবাদী তারা দ্রুত মুজাক্কির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করবেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মামলটি গভীরভাবে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলসহ প্রতিটি বিষয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয় নিয়ে বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর ররহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজাক্কিরকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করাহয়।

পরে চিকিৎসাদীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে তার মৃত্যু হয়। মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে পুলিশের মামলা দুটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

মন্তব্য করুন