মহিলা মাদরাসায় মেয়েদের কন্ঠে পুরুষরা গজল শোনা সঠিক নয়

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

মাইকে, সাউন্ডবক্সে মহিলা মাদরাসায় বা কোথাও গাইরে মাহরাম পুরুষের জন্য মেয়েদের হামদ, না’ত, গজল ইত্যাদি শোনা সঠিক নয় বলে স্পষ্ট ফতোয়া দেয়া হয়েছে দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ থেকে।

এ বিষয়ে দেওবন্দের দারুল ইফতায় একটি প্রশ্ন করা হয়েছে। যা নিন্মরুপ :

প্রশ্ন – : মহিলা মাদরাসার বার্ষিক জলসা/মাহফিলে মহিলা মাদরাসার মেয়েদের পর্দায় রেখে মাইকে হামদ-না’ত বলা এবং তা গাইরে মাহরাম পুরুষদের জন্য শোনা জায়েজ হবে কি না।

উত্তর : বালেগা মেয়েদের দ্বারা মাইকে তাকরির করানো, হামদ-না’ত, গজল ইত্যাদি পড়ানো এবং তা গাইরে মাহরাম পুরুষদের শোনানো সঠিক নেয়।

দেওবন্দের দারুল ইফতার প্রশ্নসংখ্যা হিসেবে এ প্রশ্নের নাম্বার 6,03,883. এবং উত্তর নাম্বার 6,03,883.।

ফতোয়ায় প্রশ্নের বিষয় ছিলো মহিলাদের কন্ঠ কি সতরের অন্তর্ভুক্ত? এ বিষয়ে একই ফতোয়ায় তিনটি প্রশ্ন ও তার উত্তর একত্রিত করে দেওয়া হয়েছে কারন এই তিনটি বিষয় একটা আর একটার সাথে সম্পৃক্ত।

প্রশ্ন – ১ : মহিলাদের কন্ঠ কি সতরের অন্তর্ভূক্ত?

উত্তর – ১ : এ বিষয়ে অধিক বিশুদ্ধ কথা হলো – মেয়েদের কন্ঠ সতরের অন্তর্ভূক্ত নয় তবে সতর্কতার জায়গা থেকে অপরিচিত বা গাইরে মাহরাম পুরুষের সামনে মেয়েদের কন্ঠ প্রকাশ করা উচিত নয়। কারন এতে ফিতনার ভয় থাকে। এ জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মেয়েদের কণ্ঠ অপরিচিত গাইরে মাহরাম কারো সামনে প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রশ্ন – ২ : মহিলা মাদরাসায় ক্লাশ চলাকালীন সময়ে পর্দার মধ্যে থেকেই মাইকে কিতাবের ইবারত পড়ানো, তাদের কাছ থেকে হামদ-না’ত ইত্যাদি পরিশুদ্ধ করার জন্য শোনা কি জায়েজ আছে?

উত্তর – ২ : (শুধুমাত্র দরসের জন্য হলে) এটি সতর্কতার খেলাফ অবশ্যই।

প্রশ্ন – ৩ : মহিলা মাদরাসার বার্ষিক জলসা/মাহফিলে মহিলা মাদরাসার মেয়েদের পর্দায় রেখে মাইকে হামদ-না’ত বলা এবং তা গাইরে মাহরাম পুরুষদের জন্য শোনা জায়েজ হবে কি না।

উত্তর – ৩ : বালেগা মেয়েদের দ্বারা মাইকে তাকরির করানো, হামদ-না’ত, গজল ইত্যাদি পড়ানো এবং তা গাইরে মাহরাম পুরুষদের শোনানো উচিত নয়।

দলিল হিসেবে দেওবন্দের এ বিষয়ক ফতোয়ায় রদ্দুল মুহতার এবং ইমদাদুল ফতোয়ার রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়েছে।

قال ابن عابدین: قولہ وصوتہا معطوف علی المستثنی یعنی أنہ لیس بعورة ح قولہ علی الراجح عبارة عن البحر عن الحلیة أنہ الأشبہ وفی النہر وہو الذی ینبغی اعتمادہ ولا یظن من لا فطنة عندہ أنا إذا قلنا صوت المرأة عورة انا نرید بذلک کلامہا؛ لأن ذلک لیس بصحیح ، فإنا نجیز الکلام مع النساء للأجانب، ومحاورتہن عند الحاجة إلی ذلک ولا نجیز لہن رفع اصواتہن ولا تمطیطہا ولا تلیینہا وتقطیعہا الخ (رد المحتار: ۷۸/۲، ط: زکریا، مطلب فی ستر العورة، امداد الفتاوی: ۱۹۷/۴، ط: کراچی)

মন্তব্য করুন