মসজিদে সরকারি অনুদান পাবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে স্বাধীন ভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারে সেজন্য সরকার অত্যন্ত সজাগভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

এজন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি মুসলমানদের মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয় উন্নয়নে সব সময় সরকারি অনুদান দেওয়া হয়।

কিন্তু কীভাবে, কোথায় যেতে হবে, কার কাছ থেকে অনুদানের টাকা পাওয়া যাবে অথবা অনুদান বরাদ্দ হলে কোথা থেকে সেই অনুদানের টাকা বা চেক আনতে হবে তা জানেন না অনেকেই।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের বাজেটেই বিভিন্ন ধর্মীয় উপসানালয়ের উন্নয়নের জন্য একটি বড় অংকের টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

বরাদ্দকৃত সেই অর্থ দেশের সব সংসদ সদস্যের (এমপি) মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প বা অন্য কোনও কারণে যদি এলাকার মসজিদ মন্দিরসহ অন্য কোনও ধর্মৗয় উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ভেঙে যায় তাহলে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার ওইসব ধর্মীয় উপাসনালয়ের মেরামত বা উন্নয়নের জন্য অনুদান ওই টাকা থেকেই দেন।

এর বাইরেও দেশের যে কোনও এলাকার মসজিদ, মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের মেরামত বা উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকেও অনুদান পাওয়া যায়। এ অনুদান দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মমন্ত্রী নিজে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রী না থাকলে প্রতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না থাকলে বিশেষ এ বরাদ্দ দিতে পারেন উপমন্ত্রী নিজে।

এর জন্য প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে রাজধানীতে অবস্থিত প্রশাসনের সর্বোচ্চ দফতর ‘বাংলাদেশ সচিবালয়ে’। সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য আপনাকে আগে থেকেই সংগ্রহ করতে হবে ‘পাস’।

সেই পাস গেটে প্রদর্শন করে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে আপনাকে যেতে হবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। সচিবালয়ের ভেতরে ৬ নম্বর ভবনের ১৫ তলায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ কর্মকর্তারা অফিস করলেও ধর্মমন্ত্রী ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বসেন সচিবালয়ের ৮ নম্বর ভবনের দোতলায়।

(৮নং ভবনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবন নামেই পরিচিত। কারণ ৪ তলা বিশিষ্ট ৮নং ভবনের দোতলা বাদ দিয়ে ভবনের পুরোটা জুড়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এ ভবনের ৪ তলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষ)।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংস্কার বা মেরামতের জন্য অনুদান পেতে আপনাকে যেতে হবে ৮নং ভবনের দোতলায় অবস্থিত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। সেখানে ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও কর্মকর্তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এই অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদন করার নির্দিষ্ট ফরম।

মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা তাদের পক্ষে যে কেউ সেই ফরমটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর পূরণ করতে হবে।

আবেদনপত্রে স্বাক্ষর থাকতে হবে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের। এরপর স্থানীয় সংসদ সদস্যের সই স্বাক্ষর ও সিলসহ সুপারিশ নিয়ে আবেদনপত্রটি (ফরমটি) জমা দিতে হবে আবারও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে।

যে কর্মকর্তার কাছ থেকে আপনি ফরমটি সংগ্রহ করেছিলেন, আবেদনপত্রটিও সেই কর্মকর্তার কাছেই জমা দেবেন। আপনার কাজ আপাতত এখানেই শেষ।

এরপর আপনার আবেদনপত্রটিসহ অন্য আবেদনপত্রগুলো (যদি জমা থাকে) একত্রিত করে কোনও এক সুবিধাজনক সময়ে তা মন্ত্রীর বরাবরে ফাইল হিসেবে উপস্থাপন করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা।

এরপর ধর্মমন্ত্রী তার নিজের পছন্দ বা ইচ্ছা অনুযায়ী অনুদান বরাদ্দ দিয়ে আপনার আবেদনপত্রের ওপর তা লিখে দেবেন। তবে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে বা তথ্যে কোনও ধরনের গড়মিল থাকলে সে আবেদনপত্র মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিতে পারে।

এরপর ফাইল ফেরত পাঠানো হবে শাখায়। ফেরত আসার পর শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল ওয়ার্ক শেষে মন্ত্রীর সুপারিশ সম্বলিত অনুদানের চেক তৈরি হবে আপনার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে। ওই চেকসহ আপনার অনুকূলে লেখা একটি চিঠি চলে যাবে আপনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবরে।

ইউএনকেও এই বিষয়ে নির্দেশনা সম্বলিত চিঠিও থাকবে একই সঙ্গে। আবদনপত্রে যেহেতু নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর রয়েছে সেই মোতাবেক ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা চিঠিতেও আপনার নাম ঠিকানা মোবাইল নম্বর থাকবে।

সেই সূত্রেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আপনাকে তার দফতরে আমন্ত্রণ জানাবেন অনুদানের চেক গ্রহণ করার জন্য। আপনি আপনার ইউএনওর দফতরে উপস্থিত হয়ে অনুদানের চেক গ্রহণ করবেন এবং আপনার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে হিসাব খোলা ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে টাকা নেবেন।

পরবর্তীতে সেই টাকা দিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের সংস্কার বা মেরামতের কাজ করাবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার প্রতিষ্ঠানের করা সংস্কার বা মেরামত কাজের হিসাব ও বিল ভাউচার সংরক্ষণ করবেন এবং নির্দেশনা মোতাবেক সেই বিল ভাউচার সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেবেন।

মন্তব্য করুন