মাওলানা জসিমের উপর হামলা, নেপথ্যে কে : জানালেন হেফাজত নেতারা

হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

লালবাগ জামিয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য এবং সিনিয়র মুহাদ্দিস হেফাজতের সহকারী মহাসচিব, মরহুম মুফতী ফজলুল হক আমিনীর বড় জামাতা মাওলানা জসিম উদ্দিনের উপর একজন দুস্কৃতিকারী সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

হামলাকারী হিসেবে ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছে মাসুম আহমেদ ইমরান নামের একজন ব্যক্তি। একই সাথে সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের পক্ষ থেকে এ হামলার নির্দেশকারী হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’ নামে একজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে শাহিন হুজুর এ হামলার মূল নির্দেশদাতা।

এ ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী মাসুম আহমেদ ইমরানের জবানবন্দিতে নির্দেশদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’ এর নাম এসেছে বলে হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। তাই নির্দেশদাতা শাহিনসহ মূলহোতাদের গ্রেফতারের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে হেফাজত ঢাকা মহানগরী।

আজ রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারী মাওলানা মামুনুল হক।

হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হামলার নেপথ্যে থাকা ‘শাহীন হুজুর’ এর পরিচয় :

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয় – ‘গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড় কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামক এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’ এর নাম উল্লেখ করে দেয় পুলিশ।’

শাহিন হুজুর সম্পর্কে আরও বলা হয় – ‘শাহিন হুজুর’ নামক যে নির্দেশদাতার কথা হামলাকারী মাসুমের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে তার পরিচয় আমরা বের করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা গণমাধ্যমে শাহিনের পরিচয় প্রকাশ করে তাকে গ্রেফতারে সহায়তা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

শাহিনের পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত আকারে বলা হয় – শাহিনের স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। সে পরিবার নিয়ে লালবাগে একটি বাসায় ভাড়া থাকে। আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করে। বড় কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল আমাদেরকে আরো জানিয়েছেন, মাওলানা জসিমের উপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার শাহিন তার বাবা অসুস্থের অজুহাতে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে যায়। এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

আরও জানানো হয় – বিশ্বস্ত একটি সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, মাওলানা জসিমের উপর হামলার ঘটনার পর শাহিন দুইদিন লালবাগ কেল্লা’র মোড়ে তার এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই বাড়িতে বসবাসরত এক বাসিন্দা আমাদের জানিয়েছে, শাহিনকে প্রায়ই এ বাড়িতে মটর সাইকেল রাখতে দেখা যেত। তবে হামলাকারী মাসুম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে শাহিনকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

তদন্তকারীদের একটি সূত্র আমাদের জানিয়েছে, মাওলানা জসিমের উপর হামলার দিন শাহিন কেল্লারমোড়ের সে বাড়িতেই ছিল। তবে ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে শাহিন পলাতক। লালবাগের যে বাসায় শাহিন তার পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো সে বাসায় অভিযান চালিয়ে তার পরিবারের কোন সদস্যকেও খুজে পায়নি পুলিশ।

শাহিনের সাথে মাওলানা জসিমের ব্যক্তিগত কোন সম্পর্ক নেই। হত্যাচেষ্টার মত কোন ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোন বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরের মধ্যে কখনো ছিল না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারো নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সাথে আর্থিক লেনদেন করেছিল। অতএব, মূলত কারা শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল, শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

তবে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে ‘শাহিন হুজুরের’ সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। তার যে নাম্বার পাওয়া গেছে তা বন্ধ বলছে।

প্রসঙ্গত : গত ৯-ই ফেব্রুয়ারী লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে টার্গেট করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মাওলানা জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। অত:পর ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর এসেছে।

হেফাজত নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিনের উপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, হত্যার উদ্দেশ্যেই ৯ই ফেব্রুয়ারি মাওলানা জসিমকে ছুরিকাঘাতে জর্জরিত করা হয়েছিল। যা নিয়ে হেফাজতসহ দেশের একাধিক ইসলামি রাজনৈতিক নেতারা প্রতিবাদ বিবৃতি পাঠিয়েছেন এবং মূলহোতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। আজকে হেফাজত ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘটনার পিছনের দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, হামলায় আহত মুফতি জমিস উদ্দিন, মাওলানা শফিকউদ্দীন, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবের কাসেমী, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা সানাউল্লাহ খানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য : মুফতী আমিনী রহ-এর জামাতা মাওলানা জসিমের উপর হেফাজত কর্তৃক দাবি করা হামলার নির্দেশকারী শাহিন হুজুর যে মাদরাসায় চাকরি করেন সেই বড় কাটারা মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ মুফতী আমিনী রহ এর সন্তান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনীর হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। যিনি সম্পর্কে মাওলানা জসিমের স্ত্রীর আপন ভাই হন। তবে এসব নিয়ে তাদের কোন বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

মাওলানা জসিমের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে পাবলিক ভয়েসের অন্যান্য সংবাদ :

দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে হাসপাতালে হেফাজত নেতা মুফতি জসিম

মুফতী জসিম উদ্দিনের ওপর  হামলার নিন্দা জানালেন আল্লামা মাহমূদুল হাসান

লালবাগের মুফতী জসিমের উপর হামলাকারীদের দ্রুত পাকড়াও করুন : মুফতী ফয়জুল করীম

মাওলানা জসিমের উপর হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করুন: আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

মুফতি জসিমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা আল্লামা মামুনুল হকের

হাসপাতাল থেকে বাসায় মুফতি জসিম; অপরাধীকে গ্রেপ্তারে নেই প্রতিক্রিয়া

হেফাজত নেতা মুফতি জসিমকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

সংবাদ সম্মেলনে পড়া হেফাজতের লিখিত বক্তব্য :

আসসালামু আলাইকুম,
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে আগত সকল সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি সালাম ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, আপনারা সকলেই অবগত আছেন, গত ৯ই ফেব্রুয়ারী লালবাগ থেকে বাসায় ফেরার পথে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জসিম উদ্দিন। তিনি লালবাগ জামেয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শূরা সদস্য ও সিনিয়র মুহাদ্দিস। নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে টার্গেট করে ছুরিকাহত করা হয়েছিল।

হামলার একদিন পর মাওলানা জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। অত:পর ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় হামলাকারী সনাক্ত হয় ও তার ছবি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীর নাম মাসুম আহমেদ ইমরান। সে টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে থাকে। হামলার ঘটনার চারদিন পর দক্ষিণখান থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে মাসুমের গ্রেফতারের খবর এসেছে।

গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মাসুম জানায়, বড় কাটারা মাদরাসার ‘শাহিন হুজুর’ নামক এক ব্যক্তি তাকে এ কাজের জন্য টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী লালবাগ থানা থেকে কোর্টে পাঠানো ফরওয়ার্ডিংয়ে হুকুমদাতা হিসেবে ‘শাহিন হুজুর’ এর নাম উল্লেখ করে দেয় পুলিশ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, হেফাজত নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিনের উপর হামলার ধরণ ও হামলাকারীর স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, হত্যার উদ্দেশ্যেই ৯ই ফেব্রুয়ারি মাওলানা জসিমকে ছুরিকাঘাত জর্জরিত করা হয়েছিল। ডাক্তারের ভাষ্যমতে, ছুরিটি নিচের দিকে কিডনি ও উপরের দিকে হার্টের একদম কাছ ঘেঁষে গিয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় একটুর জন্য ছুরির আঁচড় পড়েনি। তাই আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে বেচে গিয়েছেন মাওলানা জসিম।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এহেন বর্বরোচিত হামলার আজ বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি মূলহোতাদের কেউ। গ্রেফতারকৃত মাসুম পুলিশের কাছে তার নির্দেশদাতা ‘শাহিন হুজুর’এর নাম স্বীকার করার পর পেরিয়ে গেছে দুই সপ্তাহ। এভাবে দিনের পর দিন হত্যাচেষ্টার মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাওলানা জসিম। তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। শাহিনকে গ্রেফতার করা না হলে মূল কালপ্রিটরা এরপর শুধু মাওলানা জসিমকে নয়, আরো সিনিয়র কোন আলেমকেও হত্যার প্রচেষ্টা করতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, ‘শাহিন হুজুর’ নামক যে নির্দেশদাতার কথা হামলাকারী মাসুমের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে তার পরিচয় আমরা বের করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা গণমাধ্যমে শাহিনের পরিচয় প্রকাশ করে তাকে গ্রেফতারে সহায়তা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

শাহিনের পরিচয়ঃ শাহিনের স্থায়ী ঠিকানা লালমনিরহাট। সে পরিবার নিয়ে লালবাগে একটি বাসায় ভাড়া থাকে। আশরাফুল উলুম বড় কাটারা মাদরাসার কিতাব বিভাগে শিক্ষকতা করে। বড় কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইফুল ইসলামকে শাহিনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, মাদরাসায় চাকরির সময় শাহিন তার নাম পরিবর্তন করে মুশাহিদ রাখে। মাওলানা সাইফুল আমাদেরকে আরো জানিয়েছেন, মাওলানা জসিমের উপর হামলার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার শাহিন তার বাবা অসুস্থের অজুহাতে মাসরাসা থেকে ছুটি নিয়ে যায়। এরপর সে আর মাদরাসায় ফেরেনি।

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, মাওলানা জসিমের উপর হামলার ঘটনার পর শাহিন দুইদিন লালবাগ কেল্লা’র মোড়ে তার এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই বাড়িতে বসবাসরত এক বাসিন্দা আমাদের জানিয়েছে, শাহিনকে প্রায়ই এ বাড়িতে মটর সাইকেল রাখতে দেখা যেত। তবে হামলাকারী মাসুম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে শাহিনকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

তদন্তকারীদের একটি সূত্র আমাদের জানিয়েছে, মাওলানা জসিমের উপর হামলার দিন শাহিন কেল্লারমোড়ের সে বাড়িতেই ছিল। তবে ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে শাহিন পলাতক। লালবাগের যে বাসায় শাহিন তার পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো সে বাসায় অভিযান চালিয়ে তার পরিবারের কোন সদস্যকেও খুজে পায়নি পুলিশ।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা, শাহিনের সাথে মাওলানা জসিমের ব্যক্তিগত কোন সম্পর্ক নেই। হত্যাচেষ্টার মত কোন ক্ষোভ বা শত্রুতা তো দূরের কথা, সামান্য কোন বৈরী সম্পর্কও তাদের পরস্পরের মধ্যে কখনো ছিল না। তাই এ কথা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহিন কারো নির্দেশেই মাওলানা জসিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনির সাথে আর্থিক লেনদেন করেছিল। অতএব, মূলত কারা শাহিনকে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল, শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই সেই মূলহোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, প্রশাসনের কাছে শাহিনের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পরও তাকে গ্রেফতার না করে কালক্ষেপণ করার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। আমরা আশংকা করছি, কোন কুচক্রী মহলের ইশারায় তাকে গ্রেফতার না করে মূলহোতাদের বাচানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হত্যাচেষ্টা মামলার পর প্রাথমিক তদন্ত ও প্রশাসনিক তৎপরতা সন্তোষজনক থাকলেও মাসুমের গ্রেফতার ও শাহিনের নাম প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তদন্তের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত স্থবিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, যদি কারো প্রভাবে অথবা ইশারায় তদন্ত মাঝপথে থেমে যায় তাহলে হেফাজতে ইসলাম মাওলানা জসিমকে হত্যাচেষ্টাকারী, সন্ত্রাসী গডফাদারদের বিচারের দাবীতে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

পরিশেষে আজকের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগত সকল সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি আবারো অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সময় ও শ্রম ব্যয় করে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে আমাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনার জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ আমরা আশা করি, আমাদের বক্তব্য আপনারা যথাযথভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করবেন।

প্রতিবেদন :পাবলিক ভয়েস ডেস্ক।
সম্পাদনা ও বিন্যাস : হাছিব আর রহমান।

মন্তব্য করুন