যুদ্ধে আজারবাইজানের কাছে পরাজয়ের পর আর্মেনিয়ায় অস্থিরতা

নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

আর্মেনিয়ায় আরও ঘনীভূত হয়েছে রাজনৈতিক সংকট। সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফকে চাকরিচ্যুত করা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরমেন সারকিসিয়ান। খবর আল-জাজিরা

নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজানের কাছে অসম্মানজনক পরাজয়ের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর গত নভেম্বরে রুশ মধ্যস্থতায় একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। এটি ছিল মূলত আজারবাইজানের বিজয়ের দলিল। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।

এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর এটাকে অভ্যুত্থান-চেষ্টা বলে অভিহিত করে তা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি চিফ অব জেনারেল স্টাফ অনিক গাসপারিয়ানকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শনিবার সারকিসিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, এ চাকরিচ্যুতিতে তার সমর্থন নেই। প্রেসিডেন্টের দপ্তর বলেছে, ‘প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে এ খসড়া ডিক্রিটি আপত্তিসহ ফেরত দিয়েছেন।’

এতে আরও বলা হয়, বারবার ব্যক্তি বদলের মাধ্যমে এ রাজনৈতিক সংকটের সুরাহা আসবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গাসপারিয়ানকে চাকরিচ্যুত করার দাবি তিনি আবার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে কোনো ভূমিকা রাখবে না। হেড অব জেনারেল স্টাফকে চাকরিচ্যুত করার আবেদনটি প্রেসিডেন্টের কাছে আবার পাঠাচ্ছি। আশা করছি, প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে তিনি এতে স্বাক্ষর করবেন।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ানের অবস্থান শক্ত নয়। এমনিতেই তিনি নিজের পদ ছাড়ার ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে আছেন। যেদিন প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ফেরত দিলেন, সেদিনই রাজধানী ইয়েরেভানে পার্লামেন্টের বাইরে তৃতীয় দিনের মতো পাশিনিয়ানের পদত্যাগ দাবিতে প্রায় পাঁচ হাজার বিরোধী কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ করেন। কেউ কেউ শিবির বানিয়ে রাতও কাটাচ্ছেন সেখানে।

মন্তব্য করুন