মাওলানা নুরুল ইসলামের বক্তব্যের ওয়াজাহাত করল হেফাজতে ইসলাম

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

চরমোনাই মাহফিলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদিস মাওলানা নুরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে কোনও সমস্যা দেখছেন না।

মাওলানা নুরুল ইসলামের দেওয়া ওই বক্তব্যের ওজাহাতও দাবি করেছেন অনেকে। এ নিয়ে আজ শনিবার  হেফাজতে ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি ওয়াজাহাত মূলক পোস্ট দেয়া হয়েছে। পাঠকের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। -এর সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ -এর মহাসচিব আল্লামা হাফিজ মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাফিজাহুল্লাহ সম্প্রতি এক সংক্ষিপ্ত সফরে চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলে পীর সাহেবদ্বয়ের আহ্বানে গমন করেন এবং সেখানে আয়োজিত উলামা মাশায়িখ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন।

আমরা সে বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা লক্ষ্য করছি। এ বিষয়ে আমরা সরাসরি তাঁর সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন; ইকদামী জিহাদকে অস্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহায়ে কিরামও এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। সীরাত অধ্যয়নকারীমাত্রই জানে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে উহুদ, খন্দক ব্যতীত অধিকাংশ জিহাদই ছিল ইকদামী। এমনকি তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযান ছিল গাযওয়ায়ে তাবুক। তাও ছিল ইকদামী।

বলতে দ্বিধা নেই, সেকালের রোম-পারস্যসহ ইসলামের বিশ্বব্যাপী অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ইকদামী জিহাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন সচেতন নবীপ্রেমিক দিবালোকের সূর্যের ন্যায় এমন সুস্পষ্ট বিষয়কে কীভাবে অস্বীকার করতে পারে।

আমার বক্তব্যের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল নাস্তিক মুরতাদসহ তাবত ইসলামবিদ্বেষীদের পক্ষ থেকে কখনো কোনো ধরনের আক্রমণ হলে অবশ্যই আমাদের নীরবে বসে থাকার সুযোগ নেই। আর তা ইসলামও আমাদেরকে বলে নি। এ কথাটি বোঝাতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে আমি আগ বাড়িয়ে কোনো নিরীহ মানুষকে হত্যার অনুমতি নেই মর্মে বক্তব্য প্রদান করি।

সেক্ষেত্রে আমার বক্তব্যে অনাকাঙিক্ষত কোনো ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এ বিষয়ে যারা হিতাকাঙ্ক্ষী মনোভাব নিয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ আমাদেরকে সীরাতে মুস্তাকীমের উপর আমৃত্যু অটল ও অবিচল রাখেন।

উল্লেখ্য, আল্লামা নূরুল ইসলাম শুধু একজন বরেণ্য আলেমই নন, তিনি এ দেশের আকাবিরে দীনের একান্ত স্নেহ ও আস্থাভাজন। তিনি মুফতীয়ে আযম আল্লামা ফয়জুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ’র গর্বিত ছাত্র। খতীবে আযম আল্লামা সিদ্দিক আহমাদ রহিমাহুল্লাহ’র একান্ত কাছের ব্যক্তিত্ব ও খলিফাও বটে। কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সংকটকালে তাঁর আপসহীন দূরদর্শী ভূমিকা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। আমরা এমন একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী আলিমে দীনের সুস্থতার সাথে দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।

মন্তব্য করুন