মানুষকে কষ্ট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের আন্দোলন সফল হবে না: ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

নাজমুল হাসান:

পূর্ব ঘোষিত কোনো কর্মসূচি ছাড়াই কোটা বাতিলের সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলন করছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। কিন্তু তারা গুটিকয়েক মানুষ তাদের দাবি পূরনের লক্ষ্যে চারপাশ ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দিছেন। এভাবে মানুষকে কষ্ট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের আন্দোলন কখনো সফল হতে পারে না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজিবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সুমন।

ফেসবুকে লাইভে এসে আজ তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যারা তাদের এ দেশের প্রতি অধিকার অনেক বেশি। তার মানে এই না যে রাস্তাটা বন্ধ করে এত মানুষকে কষ্ট দেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে? শাহবাগ এমন একটি জায়গা। যেটা আধাঘন্টা বন্ধ থাকলে, ঢাকা শহরের একটা অংশে সারারাত জ্যাম লেগে থাকবে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, রাজাকাররা আমাদের ৭১’সালে যন্ত্রনা দিছে। কিন্তু ২১’সালে এসে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা যদি কষ্ট দেন তাহলে তো মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষ একটা নেতিবাচক ধারনা পোষণ করবে। আপনারা তো অন্তত মানুষকে কষ্ট দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, শাহবাগ বন্ধ হওয়ার কারনে লিংকরোড , এ্যালিফ্যান রোড সহ সব রাস্তায় জ্যাম লেগে আছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে পাশেই শাহবাগ থানা। তারা অবশ্যই এ বিষয়ে জানেন। তারা যদি আগেই রাস্তাটা বন্ধ করে রেখে, একটা বাইপাস রাস্তা করে দিতেন, তাহলে আর সব রাস্তায় এত জ্যাম লাগতো না।

ব্যারিস্টার সুমনের প্রশ্ন এই বিবেকবোধটা আমাদের কবে তৈরি হবে? তারা তো মুক্তিযোদ্ধা না, তারা কিচ্ছু না। সাধারন মানুষকে কষ্ট দিয়ে আর কি আন্দোলন করতে হবে আপনাদের?

তিনি বলেন, আমার মতে আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে হলে সাধারন মানুষের মন জয় করতে হবে, তাদের বিবেকে জায়গা করে নিতে হবে। তাহলে মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলবে। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কেউ সফল হতে পারে না।

মানুষকে কষ্ট না দিয়ে এটা কি করা যেতো কিনা উপস্থিত একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাস্তাটা না আটকিয়ে তারা আন্দোলন করতে পারতো। আন্দোলন করার জন্য অনেকগুলো পন্থা রয়েছে । সেসব কায়দায়ও তারা আন্দোলন করতে পারতো।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আরও বলেন, তারা আসলে বুঝে এটা করতেছে কিনা তা আমার বুঝে আসে নাই। নাকি আদৌ না বুঝে এভাবে সাধারন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে তা আমি জানিনা। তারা বুঝলে এটা করতো না।

লাইভের শেষাংশে ব্যরিস্টার সুমন বলেন, উনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও বিশ্বাস করেন যে মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো প্রোগ্রাম বা আন্দোলন হওয়া উচিৎ না। যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিছেন, তারা শুধু দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য প্রাণ দিছেন।

আমি এ পর্যায়ে শুধু একটি কথা বলবো। আপনাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। আপনারা আন্দোলন করুন। আপনারা যে হোন না কেনো সাধারন মানুষকে কষ্ট দিয়ে কখনো কোনো আন্দোলন সফল হয়নি, ভবিষতেও হবে না। অনেক মানুষ জ্যামে বসে আছে, অনেক বাচ্চা বসে আছে। তারা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দীর্ঘনিশ্বাস এ আপনাদের আন্দোলন সফল হবে না। তারা যখন জানতে পারবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা রাস্তা আটকিয়ে এভাবে আন্দোলন করছে, তখন তারা বলবে এটা হওয়া উচিৎ না।

এদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা হয়। মানুষের কষ্ট হয় এমন আন্দোলন থেকে আপনারা বিরত থাকবেন এটাই আমার অনুরোধ।

মন্তব্য করুন