শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

ইবি প্রতিনিধি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) হল খোলার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি তুলে ধরেন।

আন্দোলনকারীরা তাদের লিখিত বক্তব্যে বলেন, ” শিক্ষামন্ত্রীর ঘােষণার পর ইতােমধ্যে ইবিতে সব ধরণের পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটি চরম হটকারী সিদ্ধান্ত। কারণ ইতােমধ্যে অনেক বিভাগের পরিক্ষা চলছে, কিছু বিভাগে পরিক্ষার তারিখ ঘােষণা করা হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে এসে মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিক্ষা বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতাে একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের এমন খেলো আচরণ শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। এমন হটকারী সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখান করছি। এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রাখছি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাকি করুন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে সেটা আর বজায় থাকবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে কোনাে সিদ্ধান্ত নিলে সেটার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে। “

সেই সাথে তারা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন-

প্রথম দফা- স্থগিতকৃত সকল পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে হবে।

দ্বিতীয় দফা-  আগামী ১ মার্চের পূর্বে হল ও ক্যাম্পাস যদি না খুলে দেওয়া হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা ১ তারিখে হলে ঢুকতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত দাবিগুলো পাঠ করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জিকে সাদিক। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে সেখানে হল খোলা ও চলমান পরীক্ষা চালুর রাখার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল দুপুর ২ টার দিকে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো উত্থাপন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, “এটি একটি জাতীয় ইস্যু, আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের এ দাবির সাথে একমত। আমিও চাই শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষা দিক এবং ক্লাস রুমে ফিরে আসুক। কিন্ত সরকারের নির্দেশনার বাহিরে গিয়ে আমি একা কিছু করতে পারিনা।

তিনি আরও বলেন, সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অবশ্যই ভেবে চিন্তে বৃহৎ স্বার্থে নিয়েছেন সুতরাং আমাদের উচিত হবে সেটার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। তারপরেও যদি চলমান পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করেন তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সেটা শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করবো।”

মন্তব্য করুন