প্রকাশিত হয়েছে মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম সংকলিত বই ‘আকিদা : বিভ্রান্তি ও নিরসন’

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

শায়েখে চরমোনাই, বাংলাদেশের প্রতিথযশা আলেমেদ্বীন, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম লিখিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও চরমোনাই তরিকার আকিদা বিষয়ে একটি মৌলিক ও বিশেষ বই প্রকাশিত হয়েছে।

‘আকিদা : বিভ্রান্তি ও নিরসন’ নামের বইটি ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির প্রকাশনা সংস্থা মুজাহিদ প্রকাশনী।

বইটির সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন প্রথিতযশা একদল ওলামায়ে করাম। আকিদাগত বিষয়গুলোকে কুরআন হাদিসের মানদন্ডে খুঁটিনাটি আকারে দেখেছেন তারা। মূল সংকলনে ছিলেন মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম।

১৫২ পৃষ্টার হার্ডকভার ও উন্নত কাগজে ছাপানো বইটির প্রচ্ছদ মূল্য ধরা হয়েছে ১৪০ টাকা। আগত চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিলে বইটি বিশেষভাবে বিক্রি হবে এবং চাহিদার শীর্ষে থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও মুজাহিদ প্রকাশনীর নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রসহ অনলাইনেও বইটি বিক্রি হবে বলে জানা গেছে।

বইটিতে বিশেষভাবে চিশতিয়া সাবেরিয়া তরিকার সাথে সংশ্লিষ্ট চরমোনাই পীর সাহেবদের আকিদা ও তাদের চিন্তাধারা বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে। মোটকথা বইটিতে স্পষ্ট আকারে চরমোনাই আকিদা সম্পর্কে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

‘আকিদা : বিভ্রান্তি ও নিরসন’ বইটির ভূমিকাতেই বলা হয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এবং দারুল উলুম দেওবন্দ এর আকিদাগত চিন্তা ধারাই হলো চরমোনাই তরিকার সাথে সংশ্লিষ্টদের আকিদা। এর বাইরে কোন সংযোজন বিয়োজন তাদের নেই।

তারপরও বইটিতে বিষয়গুলো আরও বিশদভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোকপাত হয়েছে তারমধ্যে অন্যতম কয়েকটি আলোচনার বিষয়বস্তু হলো –

  • ‘আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে আকিদা’।
  • ‘আল্লাহ তায়ালা আকার নাকি নিরাকার’।
  • বহুল চর্চিত ‘ওয়াহদাতুল ওজুদ’।
  • ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর ব্যাপারে মৌলিক আকিদা’।
  • তিনি সর্বশেষ নবী।
  • নবীগণ নিষ্পাপ।
  • সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে মৌলিক আকিদা।
  • সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি।
  • সাহাবাদের মধ্যকার যুদ্ধ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত।
  • ওয়াল জামাতের আকিদা ইত্যাদি।

ইসলামের এসব মৌলিক আকিদাগত বিষয়গুলো সম্পর্কে চরমোনাই মরহুম পীর সাহেবরা সহ বর্তমান পীর সাহেবরা কী ধারণা রাখতেন তা স্পষ্ট আকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে বইটিতে।

এছাড়াও চরমোনাই তরিকা সম্পর্কে বিভ্রান্তির মধ্যে বিশেষভাবে যে দিকগুলো নিয়ে সমালোচনা হয়ে থাকে সে সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো –

  • তাবিজ মানেই শিরিক নয়।
  • কবরের প্রচলিত ওরশ করা জায়েজ নেই।
  • আউলিয়াদের কারামত সত্য।
  • ভেদে মারেফাত এবং কুফর : একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।
  • আকিদা প্রমাণের পদ্ধতি।
  • চরমোনাইয়ের কুফরি আকিদা : ‘আল্লাহর আন্দাজ নেই’।
  • মৃত্যুর সময় কি পীর স্বীয় মুরিদকে শয়তান থেকে বাঁচাতে পারবেন। ইত্যাদি।

চরমোনাই তরিকা নিয়ে উত্থাপিত এসব অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বইটিতে। বইটি পুরোপুরি পড়লে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তথা চরমোনাই এর তরিকা সাথে যারা জড়িত তারা শরিয়তের কোন বিষয়ে কোন আকিদা লালন করেন তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাবে। তাই চরমোনাই সম্পর্কে যাদের মধ্যে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ও সন্দেহ রয়েছে তাদেরকে বইটি পড়ার ব্যাপারে অনেক ওলামায়ে কেরামরা উৎসাহিত করেছেন।

  • বইয়ের ভূমিকাতে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম লিখেছেন –

…..হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহি., রশিদ আহমদ গাংগুহী রহি., কাশেম নানুতুবী রহি., মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রাহি., আশরাফ আলী থানবী রহ., আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ., হোসাইন আহমদ মাদানী রহ., খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহ., সহ প্রমূখদের আকিদা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। কাউকে তো তাকফিরও করা হয়েছে। উপমহাদেশে যাদের দ্বারা তাসাউফের খেদমত বিস্তৃত হয়েছে আল্লামা রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে তার খলিফাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উজানির ক্বারী ইব্রাহিম সাহেব রাহিমাহুল্লাহ। তিনি খেলাফত দিয়েছিলেন চরমোনাইয়ের সৈয়দ ইসহাক সাহেব রহ. কে।

আল্লাহ তায়ালা সৈয়দ ইসহাক রহমাতুল্লাহ এর মাধ্যমে দ্বীনের বিশাল খেদমত নিয়েছেন। বর্তমানে চরমোনাই দরবার তার রেখে যাওয়া আমানত। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে অনেকেই চরমোনাই নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়। বিশেষ করে সৈয়দ এছহাক সাহেব রহ. এর কিছু বইকে কেন্দ্র করে তাদের আকিদা নিয়ে নানা অপপ্রচার করা হয়।

এখানে একটি কথা স্পষ্ট করি যে, রশিদ আহমদ গাংগুহী রহমতুল্লাহি আলাইহী এবং আকাবিরে দেওবন্দের আকিদাই হলো চরমোনাইয়ের আকিদা। চরমোনাই দরবার কখনো কোন আকিদা লালন করে না।

বইটি লোখার বিষয়ে ভূমিকাতে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন – অনেকদিন থেকে মনের তামান্না ছিলো আকীদা বিষয়ক কিছু কথা লেখার। আল্লাহ তায়ালার তৌফিকে আপনাদের সামনে বিক্ষিপ্ত কিছু কথা পেশ করতে পেরেছি।

বই সাজানো বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে একজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন – বইটি সাজাতে তথ্য দিয়ে, পরিশ্রম করে, সময় দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তরুণ আলেম স্নেহাস্পদ মুফতি রেজাউল করিম আবরার।আল্লাহ তায়ালা তার আমল এবং হায়াতে বরকত দান করুক। তিনি সময় না দিলে বইটি হয়তো আলোর মুখ দেখতে না।

  • বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয় এর সাথে সংযুক্ত থাকা তরুণ আলেম, বিদগ্ধ আলোচক মুফতি রেজাউল করিম আবরার বইটি সম্পর্কে বলেন –

মুফতি সৈয়দ ফয়জুল কারীম শায়খে চরমোনাই হাফি. এর আকীদা বিভ্রান্তি ও নিরসন বইয়ের প্রথম পাঠক আমি৷ খুত্তা তৈরী থেকে শুরু করে শেষ অবদি শায়খ আমাকে শরীক রেখেছিলেন, এটা আমার জন্য বিশেষ পাওনা৷

বইটিতে আকীদার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে৷ প্রথমত, আল্লাহর ব্যাপারে, আল্লাহর আসমা ওয়া সিফাতের ব্যাপারে এবং ইসতাওয়া আলাল আরশের ব্যাপারে অত্যন্ত গোছালোভাবে আহলুস সুন্নাহর আকিদা আলোচনা করা হয়েছে৷

উপমহাদেশে হকপন্থি সুফীদের ব্যাপারে অনেকে ভ্রান্ত ওয়াহদাতুল ওজুদের আকিদা চাপিয়ে দেন৷ দেওবন্দি ধারার কোন শাখাই এ অপবাদ থেকে মুক্তি পায় নি৷ সুখের কথা হলো, ওয়াহদাতুল ওজুদের আকিদা নিয়ে বইয়ে অত্যন্ত দিলকাশফ আলোচনা করা হয়েছে৷ এ ব্যাপারে দেওবন্দিদের আকিদাও অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধ্যায়ে গিয়ে খতমে নবুওয়ত, ইসমতে আম্বিয়া, হায়াতুন নবি সংক্রান্ত আকিদাগুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷

হাজির নাজির প্রসঙ্গ এসে অনেকে দেওবন্দি এবং বেরলবিদের এক করে ফেলেন৷ বইয়ে কুরআন, সুন্নাহর আলোকে হাজির নাজির আকিদা অত্যন্ত শক্তভাবে খণ্ডন করা হয়েছে৷

এরপর কবর কেন্দ্রিক, তাবিজ ইত্যাদি ব্যাপারে মৌলিক আকিদাগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে৷

সর্বশেষ দীর্ঘ একটি অধ্যায়ে ভেদে মারেফতের উপর কৃত আপত্তি এবং ভেদে মারেফতের কিছু কথাকে আকিদা বানিয়ে যে সমালোচনা প্রচলিত, সেগুলোর স্বরুপ সন্ধ্যান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে৷

ইসলামে আকিদার অবস্থান সবার শীর্ষে৷ আমল কবুল হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ আকিদা লালন করা শর্ত৷ আমি আশা করি অত্যন্ত চরমোনাই তরিকার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন, তারা বইটি পড়বেন৷

  • সম্পাদনা ও বিন্যাস : হাছিব আর রহমান।

মন্তব্য করুন