যোগ্য উস্তাদের পরিচয়: মুফতি সাইদ আহমাদ পালনপুরী

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন ও শায়খুল হাদিস, হযরত মাওলানা মুফতি সাইদ আহমাদ পালনপুরী দামাত রাহ. বলেন, উস্তাদরা তিন প্রকার।

ক. আগত সবক মুতালাআ করে সবকে হাজির হয়ে বিভিন্ন শুরুহাতের বক্তব্য অগুছালোভাবে বলতে থাকেন৷ কী দিয়ে কথা শুরু করলেন? আর কী দিয়ে শেষ করলেন? ছাত্র উস্তাদ কেউ জানেনা।

খ. মুতালাআ করার পর মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি সারনির্যাস তৈরী করেন৷ প্রয়োজনে তা নিজে নোট করে ফেলেন৷ অপ্রয়োজনীয় কথা, নুকতা বা’দাল ওকু'(লেখকের বিভিন্ন অহেতুক মাকসাদ বয়ান করা) ও তালিবে ইলমের বোধগম্য বিষয় নয়, এমন কথাকে এড়িয়ে সহিহ ও তত্ত্বনির্ভর কথা তালিবে ইলমদের কাছে পেশ করেন।

গ. সময়কে অহেতুক কাজে নষ্ট করে,গল্প-সল্প ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের অযুহাতে শেষ করে সবকে যাওয়ার আগে এক নযর কিতাব ও হাশিয়া দেখে গিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাঠ দান করেন৷ আবার কেউ কেউ সবকে বসে হাশিয়া দেখা শুরু করেন।

তিনি বলেন,  তাদের অবস্থা হলো, কিছু মুতালাআ করে তালিবে ইলমদের সামনে গিয়ে উগড়ে দেয়। আশা করি, বুঝতে বাকী নেই দ্বিতীয় প্রকারের উস্তাদকেই বলা হবে যোগ্য উস্তাদ।

আর এমন উস্তাদকে প্রচুর মুতালাআ, মেহনত, রোনাজারী ও মুনাজাত করতে হয়। মনে রাখতে হবে, উস্তাদ যতবেশী যোগ্যতা সম্পন্ন হন তার ছাত্ররাও ততবেশী যোগ্যতা সম্পন্ন হয়। নিজের অযোগ্যতাকে ঢেকে রেখে যোগ্য উস্তাদ হওয়া যায় না। ছাত্ররাও বুঝে নেয় কোন উস্তাদ যোগ্য আর কে অযোগ্য?

তালিবে ইলমকে যোগ্য করে তুলতে হলে উস্তাদ ‘মাহিরে ফন’ (শাস্ত্রজ্ঞ) হতে হবে। যে ফনের পাঠ দান করবেন সে ফন ভাল করে আত্নস্থ না করে কেবল উর্দু বা বাংলা শরাহ দেখে কিতাব হল করে দরস দান করা যোগ্য উস্তাদের পরিচয় হতে পারে না, পারে না। সে ফনের মুহাক্কাক ও সাহিবে ফন লেখকের কমপক্ষে দশটি কিতাব আপনার মুখস্ত থাকতে হবে। আরবি যোগ্যতা আপনার শতভাগ থাকতে হবে।

ইলম অর্জন করুন দুনিয়া আপনার পদচম্বন অবশ্যই করবে। ইয়াহইয়া বিন মুআজ রাজি রাহ.-এর উক্তি অন্তরে বসিয়ে নেন, من اراد الدنيا فعليه بالعلم ومن اراد الاخرة فعليه بالعلم ইলম অর্জন করো ভাল করে দুনিয়াও পাবে আখেরাতও পেয়ে যাবে।

আর দুনিয়া না পেলে আফসোস কীসে? হিজরতের আগে ও মক্কা বিজয়ের আগে ইন্তেকালকারী সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা বেশী কেন? দুনিয়া ভোগ না করা তার অন্যতম কারণ। এজন্য মুহতামিম ও নাযিমে তা’লীমাতের সমালোচনা না করে আমরা মুতালআ শুরু করে দিলে আমরা মুতাবাহহির ফিল উলুম হলে আমাদের তালিবে ইলমরাও পড়াশোনা শুরু করবে।

যোগ্য হওয়ার জন্য তারা পাগলপারা হয়ে যাবে৷ মনে রাখতে হবে কানুন প্রয়োগ ও প্রহার করে ছাত্রদেরকে যে পরিমাণ যোগ্য করে তুলা যায়, উস্তাদরা যোগ্য, মুতালআ প্রেমিক ও মাহিরে ফন হলে আরো শতভাগ বেশি যোগ্য করে তুলা যায়।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

মন্তব্য করুন