তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ সামরিক মহড়ার সফল সমাপ্তি

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেকার তিন সপ্তাহের যৌথ সামরিক মহড়া ‘আতাতুর্ক-১১, ২০২১’ শনিবার শেষ হয়েছে। মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা।

আফগান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তারবেলায় পাকিস্তান মিলিটারির স্পেশাল সার্ভিস হেডকোয়ার্টারে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি হয়।

পাকিস্তান আর্মির ইন্সপেক্টর জেনারেল (ট্রেনিং অ্যান্ড ইভাল্যুশন) লে. জেনারেল সাইয়েদ মুহাম্মদ আদনান এবং মেজর জেনারেল ইমরি তায়াঙ্ক-এর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কের স্পেশাল ফোর্স এবং পাকিস্তানি মিলিটারির এলিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের সৈন্যরা এ অনুশীলনে অংশ নেন।সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখযুদ্ধ, কর্ডন ও অনুসন্ধান, ফায়ার ও মুভমেন্ট টেকনিক, হেলিকপ্টার রিপেলিং, কম্পাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, জিম্মি উদ্ধার এবং ফ্রি-ফল অপারেশনের এ অনুশীলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে এ সহযোগিতা উল্লেখ করার মতো। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী তুরস্কে তৈরি মিলজেম করভেট পাওয়ার জন্য দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা কন্ট্রাক্টর আসফাত-এর সঙ্গে চুক্তি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি করভেট তৈরি হবে তুরস্কে, বাকি দুটি তৈরি হবে পাকিস্তানে। চুক্তিতে দেশ দুটির প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ও রয়েছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং তৎকালীন পাকিস্তানি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল জাফর মাহমুদ আব্বাসি ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে মিলজেম শ্রেণির প্রথম করভেটের মেটাল প্লেট কাটেন।

কয়েক দশক ধরে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্কের অনেক মানবিক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। ২০২০ সালে পাকিস্তানে এরদোয়ানের সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক খাতে দেশ দুটির মধ্যে অনেক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গত পাঁচ বছরে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে উপনীত হয়েছে।

মন্তব্য করুন