বিএনপির মনোনয়ন পেতে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন কাদের মির্জা

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

এম.এস আরমান, নোয়াখালী: মির্জা কাদের চিকিৎসার কথা বলে আমেরিকায় গিয়ে বিএনপি-জামাতের পলাতক নেতাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্ এর একটি হোটেলে ভিডিও কনফারেন্সে তারেক রহমানের সাথে মিটিং করেন। ভবিষ্যতে মওদুদ আহমদের অবর্তমানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করার শর্তে সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন  লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অপরাজনীতি ও সত্য বচনের নামে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কটুক্তি এবং উনাদের নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারসহ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া রাস্তার মাথায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

কাদের মির্জা প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,সভাপতি মন্ডলির সদস্য কর্ণেল ফারুক খান এমপি, স্থানিয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ফরিদপুরের এমপি নিক্সন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এমপিসহ জাতীয় সংসদের আরো অসংখ্য এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল হক, সাবেক মেয়র মীর নাছির, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ফেনী জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারী এমপি, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দীন মাহমুদ লিপটন, ফেনী পৌরসভা মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজিসহ আমরা এ স্টেজে যারা আছি তাদের সকলের বিরুদ্ধে সত্য বচনের নামে অশালিন ভাষায় মিথ্যাচার করে আমাদের সরকার, আমাদের দল এবং নেতাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সত্য বচন নামধারী কাদের মির্জা ও তার পুত্র তাশিক মির্জার নেতৃত্বে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফের বাড়িতে হামলা ও তার পুত্রকে কিডনাপের চেষ্টা করে।শুধু তাই নয় গত ঈদুল ফিতরের দিন সরকারী মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নূর এ মাওলা রাজু আমার সাথে দেখা করাকে কেন্দ্রকরে গভীর রাতে তুলে নিয়ে তাশিক মির্জা নির্মমভাবে নির্যাতন করে। সত্যবচন নামধারী কাদের মির্জার এ চরিত্র নতুন কিছু নয়। স্থানীয়ভাবে রাজনীতি করতে গিয়ে তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই নেমে আসতো নির্যাতন।এমনকি হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করতোনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনকে দ্রুত কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তার করে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ করার অনুরোধ জানান মিজানুর রহমান বাদল।

এদিকে আবদুল কাদের মির্জার ফের ডাকা হরতালের সমর্থনে বের করা মিছিল পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর সড়কে বসে পড়েন কাদের মির্জা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার লোকজন হরতালের সমর্থনে কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে পিকেটিং করার চেষ্টা করে। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মির্জা কাদের ও তার লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে তারা গালমন্দ করে এবং মিছিল করতে করতে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও র‌্যাব মিছিলে লাঠিচার্জ করে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, হরতালের নামে অশান্তি বা সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের বাড়িতে দলিয় নেতাদের নিয়ে আলোচনা সভার পূর্বে বিক্ষোভ মিছিলে কাদের মির্জার গ্রুপের বাধাকে কেন্দ্রকরে সংঘর্ষে অনতত ২০ জন আহত ও বার্তা বাজারের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মুজাক্কির সহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়।

মন্তব্য করুন