মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত অর্ধেক ফিলিস্তিনির সাহায্য প্রয়োজন: জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২০২০ সাল ছিল বিপর্যস্ত বছর। ১৯৯৪ সালের পর এত খারাপ বছর তাদের জীবনে আর আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কের দপ্তর (এউএনএসসিও) থেকে বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিস্তৃত দীর্ঘ মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনের প্রায় অর্ধেক মানুষের জন্য মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। বিশেষ সমন্বয়ক টোর ওয়েনেসল্যান্ড বলেন, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি জনগণ ২০২০ সালে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। তবে আমি আশাবাদী যে, দাতারা অতীব প্রয়োজনীয় এ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসবেন।’

প্রতিবেদনে ২০২০ সালকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘বিপর্যয়ের বছর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফিলিস্তিনিদের প্রতিষ্ঠান ও তাদের অর্থনীতি করোনাভাইরাসের কারণে অবিস্মরণীয় সংকটের মধ্য দিয়ে পার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গত বসন্তে প্রথম লকডাউনের সময় প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি চাকরি হারিয়েছেন। চলমান লকডাউনে বড় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হয় এতে।

ওয়েনেসল্যান্ড বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে টিকা আসতে শুরু করে। টিকার প্রাপ্তি এবং ব্যবস্থাপনায় ফিলিস্তিনি সরকারকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ।’

তিনি আরও বলেন, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজা স্ট্রিপে টিকা সরবরাহে ইসরায়েলের লজিস্টিক সহায়তা দরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রায়োরিটি গ্রুপগুলোকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ প্রয়োজন, কিন্তু সে তুলনায় তহবিলের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ‘এটি চ্যালেঞ্জিং সময়। তবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নেতারা জরুরি সমস্যার সমাধান করে ফিলিস্তিনি জনগণকে একটি কঠিন বছর থেকে বেরিয়ে আনতে পারেন। এটি নিশ্চিত করতে আরও বেশি নমনীয় হতে হবে তাদের’, বলেন ওয়েনেসল্যান্ড।

মন্তব্য করুন