ফের ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা, ক্ষেপেছেন কাদের মির্জা

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

এম.এস আরমান, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানা ওসি ও ওসি তদন্তের প্রত্যাহার এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ১২ ঘণ্টার বেশি থানা ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তি কর্মসূচি হিসেবে দাবি না মানা পর্যন্ত প্রতিদিন থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ধর্মঘট ঘোষনা করেন কাদের মির্জা।

এসময় তিনি বলেন, আমি আমেরিকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওয়াদা করেছি বাকি জীবন সাহস করে সত্য কথা বলে যাবো। দেশে এসে আমার নিজ এলাকা নোয়াখালীর অপরাজনীতি ও মাদক নির্মূলে সোচ্চার কণ্ঠে প্রতিবাদ করায় আমি এখন অপরাজনীতি নেতাদের কাছে গলার কাঁটা। যারা মাদক ও নেশা ব্যবসায় জড়িত আজ তাদের কাছে আমি অনেক বড় শত্রু। আমি মাদক ও নেশা কে ঘৃনা করি তাই মাদকের প্রতিবাদ আমি চালিয়ে যাবো।আমাকে হত্যার চেষ্টা চলছে কিন্তু ভয় করি না, কারণ একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

ফেনীর দাগনভূঞা ও চট্টগ্রামে তার ওপর হামলা ও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযুক্ত করে বলেন,চট্রগ্রাম যাওয়ার সময় আমি প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়েছিলাম কিন্তু সহযোগিতা না করে প্রশাসন দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চলছে। আমাকে দমিয়ে দিতে বলেছেন ওবায়দুল কাদের কিন্তু ওরা আমাকে শেষ করে দেয়ার প্লান করে ফেলেছে। আর এই সবকিছুর সাথে জড়িত ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী।ওবায়দুল কাদের আগামীতে প্রেসিডেন্ট হলে উনার স্ত্রী হবেন এমপি/মন্ত্রী। আমার এসবের প্রয়োজন নেই। আমি কখনোই এমপি,মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় কোনো পোষ্টে যাবোনা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ফেনীর দাগনভূঞা ও চট্টগ্রামে তাঁর ওপর হামলা ও তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বসুরহাট রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি ফেনীর সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আরো ৫/৭ জনকে অভিযুক্ত করেন।

এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ চরকাঁকড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ফখরুল ইসলাম সবুজ টেকের বাজারে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ কাদের মির্জার কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে সবুজকে গ্রেপ্তার নাকরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কাদের মির্জা থানার সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন।

আবদুল কাদের মির্জার দাবি, দায়িত্বে অবহেলার জন্য নোয়াখালীর ডিসি খুরশেদ আলম খান, এসপি মো. আলমগীর, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ও ওসি তদন্ত মো. রবিউল হকের প্রত্যাহার ও কোম্পানীগঞ্জ চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা (সন্ত্রাসী) ফখরুল ইসলাম সবুজ ও তার আশ্রয়দাতা মিজানুর রহমান বাদল ও ফখরুল ইসলাম রাহাতকে গ্রেপ্তার করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

মন্তব্য করুন