মোহাম্মদ নয়, কূটনৈতিক বিষয়ে সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বাইডেন

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অবস্থান একটু নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন যুবরাজ সালমান। তবে এখন থেকে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ করবে বাইডেন প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব জেন সাকি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

জেন সাকি বলেন, আমরা শুরু থেকেই পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কে আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। যুবরাজের প্রতি এই অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্যের পাশাপাশি জেন সাকি বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো ফোনালাপ করতে যাচ্ছেন বাইডেন।

সৌদিতে ৮৫ বছর বয়সী বাদশাহ সালমানের পর সিংহাসনের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজকে। ২০১৮ সালে ইস্তানবুলে কনস্যুলেটে যুবরাজের ঘনিষ্ঠ সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা নির্মমভাবে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করে।

এরপরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েন মোহাম্মদ বিন সালমান। সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের যে খ্যাতি তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন, তাও ম্লান হয়ে যায়।

মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে সৌদি আরবকে চাপ দিয়ে আসছে বাইডেন প্রশাসন। রাজনৈতিক বন্দিদেরও মুক্তি দিতে বলা হচ্ছে। যুবরাজের সঙ্গে বাইডেন কথা বলবেন কিনা;

প্রশ্নে জেন সাকি বলেন, সমমর্যাদার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এখানে বাইডেনের সমকক্ষ হলেন বাদশাহ সালমান। কাজেই যথাসময়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তবে কখন আলাপ করা হবে; এ নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে চাননি জেন সাকি।

এটাকে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কাজ করতে পছন্দ ছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের। সৌদি আরবের কার্যত নেতা মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।

মন্তব্য করুন