সারাদেশে ‘শিবিরের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত : বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১
ছাত্রশিবিরের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ছবি : পাবলিক ভয়েস।

বাংলাদেশের আলোচিত-সমালোচিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে আজ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল শোভাযাত্রাসহ বেশকিছু প্রকাশ্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তারা।

  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শাখায় সংগঠন ঘোষিত মোট ১২ টি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মসূচিগুলো হলো –

১. সারাদেশে শাখা ও থানা পর্যায়ে আলোচনা সভা এবং বর্ণাঢ্য র‌্যালি
২. মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
৩. মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
৪. অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতা প্রদান
৫. অনাথ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ
৬. কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
৭. ক্যাম্পাস পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান
৮. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেয়ালিকা প্রকাশ
৯. রচনা, কুইজ, বিতর্ক, বক্তৃতা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
১০. ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি
১১. শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ
১২. বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।

ছাত্রশিবির কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে প্রেরিত প্রেসবার্তায় জানানো হয়েছে – বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, জাতিকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে জালিমের কবল থেকে দেশকে স্বাধীন করে জাতির বীর সন্তানেরা। কিন্তু রক্তের দাগ শুকানোর আগেই স্বদেশী আদর্শহীন নেতৃত্বের কবলে পড়ে দেশের সাধারন মানুষ দুর্নীতি ও দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে শুরু করে। দেশকে পরিণত করেছিল তলাবিহীন ঝুড়িতে। মেধা, নৈতিকতা হারিয়ে ছাত্ররা গা ভাসিয়ে দেয় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদকের সয়লাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল না শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। এমন প্রেক্ষাপটে বিশৃঙ্খল ও দিশেহারা ছাত্রসমাজকে পথ দেখাতে আলোর মশাল নিয়ে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিকাশ এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৭৭ এর ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবির তার লক্ষ্য উদ্দেশ্যে অটল অবিচল থেকে এগিয়ে চলেছে। তবে এ যাত্রার প্রতিটি পরতে পরতে ছাত্রশিবিরকে ত্যাগ- কুরবানীর নজরানা পেশ করতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত অপশক্তি কর্তৃক খুন, গুম, নির্যাতন, গ্রেপ্তার, জেলসহ সিমাহীন জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। নেতাকর্মীরা ঈমানী দৃঢ়তা, সাহস ও ধৈর্য দিয়ে সকল প্রতিকূলতা মোবাবেলা করে আসছে। কিন্তু ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে একচুল পরিমাণ পিছু হটেনি সংগঠন। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে কুরআনকে বুকে ধারণ ও বাতিলের মোকাবেলা করে আল্লাহর মেহেরবানীতে এগিয়ে চলছে। ফলে ছাত্রশিবির আজ জাতির আশা-আকাঙ্খার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত প্রতিকূলতার পরেও এই কাফেলা আজ লাখো ছাত্রদের পদভারে মুখোরিত। ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রায় শুধু ছাত্রসমাজ নয় বরং দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশা পূরণে ছিল, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আছে এবং থাকবে ইনশা-আল্লাহ।

 

অন্যদিকে সেক্রেটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক যুবায়ের হাসান রাজন, তথ্য ও স্পোর্টস সম্পাদক ফখরুল আলম সিফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি পরবর্তি সমাবেশে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরে তরুণ সমাজকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে ছাত্রশিবির প্রতিটি জনপদে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। তরুণদের মাঝে ঘুণেধরা সমাজ পরিবর্তনের একটি স্বপ্ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আজকের সমাজকে পরিবর্তন করে প্রত্যাশিত সোনালি সমাজ তৈরির জন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। যারা সমাজের সকল অন্ধকারকে পরিবর্তন করে আলো প্রজ্জলিত করবে। এ লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে চলেছি। আজকের এই দিনেও আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করছি। ছাত্রশিবিরের পথ চলায় দেশবাসীকে আমাদের পাশে থাকতে আহবান জানাচ্ছি।

  • এছাড়াও দেশের যে সব এলাকায় বিশেষভাবে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচী পালিত হয়েছে সেগুলো হলো –

ঢাকা মহানগর উত্তর : কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রাজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। সকাল সাড়ে ৮টায় শাহজাদপুর বিশ^রোড থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় মহানগর সভাপতি ডা. মাহমুদ মুরাদ, সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঢাকা মহানগর পশ্চিম : ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা। সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মিরপুর-১ নম্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় মহানগরী সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সেক্রেটারিসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নারায়নগঞ্জ মহানগর : নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে ছাত্রশিবির নারায়নগঞ্জ মহানগর শাখা। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে নগরীর চাষাড়া এলাকায় র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এসময় শাখা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর মহানগর : প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগর শাখা। সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাক-ময়মসহিংহ মহাসড়কে র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এসময় মহানগর সভাপতি জহির উদ্দিন, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট মহানগর : ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর শাখা। সকাল ৯টায় নগরীর বন্দর বাজার থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি নয়াসড়ক পয়েন্ট এ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সঞ্জালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এসময় মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর মহানগর : প্রতিষ্ঠা বার্ষিকতে ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা, সকাল ৯টায় শাখা সভাপতি শাহাবু্িদ্দন সরকারের নেতৃত্বে নগরীতে র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এসময় শাখা সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী মহানগর : ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় র‌্যালিটি দাশপুকুর মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর সভাপতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ : নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা। সকাল ৮টায় শাখা সভাপতির নেতৃত্বে নগরীতে র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এতে শাখা সেক্রেটারিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করে।

ফরিদপুর শহর : কেন্দ্রীয় আইন ও ফাউন্ডেশন সম্পাদক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মহাসড়কে র‌্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে ছাত্রশিবির ফরিদপুর শহর শাখা। এসময় শাখা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর শহর : ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির দিনাজপুর শহর শাখা। সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক আবু নাহিদের নেতৃত্বে র‌্যালিটি ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে শুরু হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শাখা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর শহর : শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজনের মাধ্যমে ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর শাখা। সকাল ৯টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র নতুন বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে চায়াবানি গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ। এতে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর শহর শাখার সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাবেক সভাপতি ইসমাইল খান, শহরে সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

লক্ষ্মীপুর শহর : নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির লক্ষ্মীপুর শহর শাখা। সকাল ১০টায় শহর সভাপতির নেতৃত্বে র‌্যালিটি লক্ষীপুর-ঢাকা মহাসড়কে শুরুহয়ে মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় শহর সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজার শহর : ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মৌলভীবাজারে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করেছে মৌলভীবাজার শহর শাখা। সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের কুসুমবাগ এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পশ্চিম বাজার পয়েন্টে সমাবেশ মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার শহর সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের। এসময় শহর সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা : ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কক্সবাজার মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির কক্সবাজার জেলা শাখা। সকাল ১০টায় শাখা সভাপতির মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে র‌্যালি করে নেতাকর্মীরা। এসময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হবিগঞ্জ জেলা : ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ছাত্রশিবির হবিগঞ্জ জেলা শাখা। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্পোর্টস সম্পাদ আবু সালেহ আকরাম। এসময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাগেরহাট জেলা : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ছাত্রশিবির বাগেরহাট জেলা শাখা। সকাল ৭.৩০ টায় ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে র‌্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি মাহফুজুল্লাহ মিরাজ ও জেলা সেক্রেটারি আরিফ শেখ সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নারায়নগঞ্জ জেলা : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রশিবির নারায়নগঞ্জ জেলা শাখ্ াসকাল ৯টায় জেলা সভাপতির নেতৃত্বে র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাগুড়া জেলা  : ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রশিবির মাগুড়া জেলা শাখা। এতে শাখা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

দিনাজপুর জেলা উত্তর : ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করে ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তর শাখা। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এ র‌্যালিতে জেলা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে।

যশোর জেলা পূর্ব : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ করে ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখা। সকাল ৮টায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে র‌্যালি ও সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা।

ছাতক উপজেলা : মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে ছাত্রশিবির ছাতক উপজেলা শাখা। এসময় উপজেলা সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও জেলায় র‌্যালি ও কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলাম ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির : গৌরব ও মর্যাদার ৪৪ বছর’ শিরোনামে একটি বিশেষ দলীয় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছেন।

ক্রোড়পত্র :

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আল্লাহর জমিনে সকল প্রকার জুলুম ও নির্যাতনের মূলোচ্ছেদ করে আল কুরআন ও আল-হাসিদের আলোকে ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়ের সৌধের উপর এক আদর্শ ইসলামী সমাজ বিনির্মানের মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুকরিয়া মহান রব্বুল আলামিনের প্রতি, যিনি আমাদেরকে তাঁর রহমতের চাদরে আচ্ছাদিত করে রেখেছেন। দরূদ সেই মানবতার দিশারী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের প্রতি, যিনি শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে ইসলামের জন্য শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের রুহের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি।

আলহামদুলিল্লাহ; বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরে পদার্পণ করেছে। চির সবুজের সমারোহে তারুণ্যের উচ্ছল প্রাণবন্যায় ভরপুর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। হৃদয়াবেগের প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে জড়িত স্বপ্নসমেত প্রিয় জন্মভূমি যখনই আক্রান্ত হয়েছে তখনই অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছে সেই তারুণ্য। আর তরুণদের মূল অংশই হলো ছাত্রসমাজ। স্বৈরশাসনের কবল থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছিলো ছাত্রসমাজের দুঃসাহসিক অদম্য ভূমিকার মাধ্যমে। সোনালি অতীত বহনকারী এ ছাত্রসমাজের ইতিহাসের পাতায় যখন কলঙ্কের কালিমা লেপন করছিলো ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষী শাসক মহল, আলোর মশাল হাতে অন্ধকার জয় করতে তখনই যাত্রা শুরু করে হেরার রাজ তোরণের আলোর আকাঙ্ক্ষায় পথ চেয়ে থাকা লাখো তরুণের প্রিয় ঠিকানা, মুক্তির কাফেলা খ্যাত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

জাহিলিয়াতের অবশ্যম্ভাবী চ্যালেঞ্জের মুখে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার যোগ্যতাসম্পন্ন মুসলিম কর্মী গড়ে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলো ছাত্রশিবির। প্রত্যেক ছাত্রকে মন-মানসিকতায় আধুনিক ও একইসাথে মোহনীয় চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তুলতে চেয়েছে শিবির। সৎ, দক্ষ ও আদর্শ কর্মী তৈরিতে ছাত্রশিবির ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ, শিক্ষাশিবির, শিক্ষা বৈঠক, দোয়া ও নফল ইবাদত, গঠনমূলক সমালোচনা, আত্মসমালোচনা, কোরআন তালিম করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমৃদ্ধ প্রকাশনা বিভাগ আধুনিক রুচিসম্মত এবং সামাজিক চাহিদানির্ভর বিভিন্ন প্রকাশনা সামগ্রী প্রকাশ করে থাকে নিয়মিত। সৃজনশীল প্রকাশনায় শিবির সবসময়ই অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। তথ্যবহুল দাওয়াতি কার্যক্রম, উপহার আদান-প্রদান এবং সুস্থ বিনোদন চর্চায় শিবিরের প্রকাশনা সামগ্রী অনন্য। এই প্রকাশনা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে – নববর্ষের চার প্রকারের তথ্যবহুল, গবেষণালব্ধ ও বৈচিত্র্যময় ক্যালেন্ডার; চার প্রকার ডায়েরি; বিভিন্ন বিষয়ে বহু রকমের কার্ড, ভিউকার্ড, স্টিকার, মনোগ্রাম, চাবির রিং ইত্যাদি প্রকাশনা সামগ্রী ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটি অকৃত্রিম সৌন্দর্যের প্রতীক। শিবিরের ক্যালেন্ডার, ডায়েরি দেশ ও বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বিজ্ঞানসামগ্রী প্রকাশনায়ও ছাত্রশিবির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে। দেশে বিজ্ঞানশিক্ষার পশ্চাৎপদতা দূর করার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ করেছে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যার ওপর রেফারেন্স বই ও চার্ট পেপার। এ বইগুলো এসএসসি/দাখিল, এইচএসসি/আলিম ও ডিগ্রির প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনন্য ও অপরিহার্য শিক্ষাসহযোগী উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ, প্রয়োজন এবং একাডেমিক শিক্ষার যথার্থ তথ্য উপকরণ দিয়েই এই Understanding Science Series প্রকাশিত হয়েছে। অপসংস্কৃতির সয়লাব থেকে ছাত্র ও যুবসমাজকে রক্ষা করে তাদেরকে ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে হলেও প্রয়োজন পরিশীলিত সংস্কৃতির আয়োজন। এ প্রয়োজনীয়তা থেকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছাত্রশিবিরের রয়েছে জোড়ালো পদচারণা। একটি দেশের রাজনৈতিক বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিপ্লব। এ দেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে শিবিরের রয়েছে নিজস্ব সাহিত্য সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। জ্ঞানার্জন ও মেধা বিকাশের পাশাপাশি একজন ছাত্রকে মানসিক বিকাশের জন্য এবং তার মধ্যে সহজভাবে ইসলামের জীবনপদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাহিত্য-সংস্কৃতি মানেই অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, পাশ্চাত্য ও ব্রাহ্মণ্যবাদের অন্ধ অনুকরণ – এই ধারণার পরিবর্তন করতে শিবির বদ্ধপরিকর। ইসলামী ছাত্রশিবির সে জন্যই ইসলামী সংস্কৃতির এক বিরাট জগত গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশে ইসলামী সংস্কৃতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং ইসলামী সংস্কৃতির একটি নতুন ধারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় শিবির সদা তৎপর। ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রম ছাত্রশিবিরের মৌলিক কর্মসূচির অংশ। ছাত্রশিবির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা; গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা; দেশ-জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা; সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য রাহবার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রশিবির মেধাবী ছাত্রদেরকে সত্য ও সুন্দরের সহযাত্রী হতে অনুপ্রাণিত করতে মেধাবী সংবর্ধনা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম, গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য স্টাইপেন্ড চালুর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছর সপ্তাহ ও পক্ষকালব্যাপী ‘পরীক্ষায় নকল’, মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এ ছাড়াও বাড়ি থেকে দূরে অবস্থানকারী ছাত্রদেরকে লজিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া, বেতন দানে অক্ষম ছাত্রদেরকে বেতন প্রদান, বই ক্রয়ে সহযোগিতা, ফ্রি কোচিং, বিনামূল্যে প্রশ্নপত্র বিলি, কর্জে হাসানা প্রদান, বিনামূল্যে গরিব-মেধাবী ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, ত্রাণ বিতরণ, ঈদসামগ্রী বিতরণ, ব্লাড ডোনেশন, ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ শিক্ষাকার্যক্রম চালু, কুরআন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। ছাত্রদের একাডেমিক বইয়ের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য শিবির প্রতিষ্ঠা করে থাকে ল্যান্ডিং লাইব্রেরি। শিবির তার কর্মীদেরকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরই তার বই শিবির পরিচালিত ল্যান্ডিং লাইব্রেরিতে বিনামূল্যে প্রদান করতে উৎসাহিত করে। এছাড়াও শিবির বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ক্লাসের বই ল্যান্ডিং লাইব্রেরির জন্য সংগ্রহ করে থাকে। ফেরত দেয়ার শর্তে বই গরিব ও উপযুক্ত ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

শিবিরের প্রতিবাদ সুশৃঙ্খল ও কাঠামোবদ্ধ। আল্লাহর মেহেরবানীতে ছাত্রশিবির নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত। শিবির নিজেরা মারামারি করেছে এমন নজির নেই। এখানে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ভালোবাসা, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয়। জন্মলগ্ন থেকে ছাত্রশিবিরের আছে গতিশীল নেতৃত্ব। বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন, সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়নসহ তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়। নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভারসাম্য ইসলামী সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ছাত্রশিবির মজলুমের পক্ষ নিয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকেছে প্রতিবাদমুখর। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বসনিয়া- হার্জেগোভিনার জনপদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে শিবির আয়োজন করেছে সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা। ১৯৯১ সালে ইরাক আক্রমণের পর বাংলাদেশের সর্বপ্রথম প্রতিবাদকারী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। টুইন টাওয়ারে হামলা এবং প্রতিক্রিয়া আফগানিস্তান ও ইরাকে আগ্রাসী আমেরিকার নির্লজ্জ আক্রমণে নারী-শিশু ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে মিছিল-সমাবেশ পোস্টারিং করেছে ছাত্রশিবির। ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে রাজপথে মিছিল ও প্রতিবাদ জারি রেখেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

অসংখ্য মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন আজ শুধুই ছাত্রশিবিরকে কেন্দ্র করে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রতিটি জনপদ, নদী-খাল-বিল, উপত্যকায় আজ ছাত্রশিবিরের জয়গান – ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনার তীরে আমরা শিবির গড়েছি’। বাংলাদেশের বৃহত্তম সুসংগঠিত ছাত্রসংগঠন – বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

৪৪ বছরের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ৪৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিবির আজ একটি আলোকিত ও বিকশিত সংগঠন। ইসলামবিরোধী শক্তির হাজারো বাধা-বিপত্তি, ক্ষমতাসীনদের ক্রমাগত নির্যাতন নিষ্পেষণ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্রিয়াশীল, সৃজনশীল ও জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ছাত্ররাজনীতিতে শিবির ইতিবাচক, গঠনমূলক ও সুষ্ঠু ধারার ছাত্ররাজনীতির প্রবর্তক। সর্বোপরি ইসলামী ছাত্রশিবির একটি একক ও অনন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোনো প্রতিক্রিয়াশীল, ষড়যন্ত্রকারী ও দমনমূলক কার্যক্রম এই সংগঠনের অগ্রগতিকে রুখতে পারেনি এবং পারবেও না ইনশা-আল্লাহ। ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্র-জনতার মনের গহিনে স্থান করে নিয়েছে আন্তরিক ভালোবাসায়।

ছাত্রশিবিরে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহির চেতনা থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও দায়িত্ব পালনে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের কাছে জবাবদিহি করার ব্যবস্থা আছে। সংগঠনের জনশক্তি, সম্পদ, সংগঠনের মর্যাদা ইত্যাদি আমানত। সে আমানতের খেয়ানত যেন না হয় সে জন্য দায়িত্বশীলগণও জবাবদিহির চেতনা নিয়েই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ইসলামী ছাত্রশিবির ৪৪ বছরের পথ পরিক্রমায় তাদের কথা রেখেছে। সত্য ও সুন্দরের পক্ষে জীবন উৎসর্গ করেছে তার নেতাকর্মীরা। দুনিয়ার লোভ-লালসার কাছে তারা নিজেদের জলাঞ্জলি না দিয়ে পাহাড়সম বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যেতে তারা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা শুধুমাত্র দুনিয়ার ভোগের সাগরে নিজেদের ভাসিয়ে না দিয়ে দুনিয়াকে আখেরাতের পরীক্ষালয় হিসেবে গ্রহণ করে সকল রক্তচক্ষুকে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। সরকার ও ইসলাম বিদ্বেষীরা যদি বুঝতে সক্ষম হতো ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তরালের অভাবনীয় দ্যুতিময় কল্যাণ ও সমৃদ্ধি- তাহলে তারা তাদের ঘৃণ্যতম পথ পরিহার করে এর পৃষ্ঠপোষণ করত। কিন্তু যারা অন্ধ, বধির, যারা ক্ষমতার স্পর্শে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য তাদের কাছে পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনই আসল জীবন। এরা পুঁজিবাদী ভোগের সাগরে ভাসতে পারলেই জীবনকে সফল ও সার্থক করা যায় বলে ধারণা করে। তাদের জন্য এ ক্ষণস্থায়ী জীবনের চাইতে প্রিয় আর কী হতে পারে? তাই তারা পৃথিবীতে মৃত্যুশঙ্কায় মরার আগে বহুবার মরে। এককথায় এরা যেন জীবন্ত লাশ। তারা জীবনকে ভোগ করার চেষ্টা করলেও প্রকৃতপক্ষে এরা জীবনকে উপভোগ করতে পারে না। প্রকৃত উপভোগ্য জীবন হলো প্রশান্তিময় আত্মার জীবন, যা শুধু বস্তু দিয়ে উপভোগ করা যায় না।

দেশকে যখন ফেইল স্টেট, ধর্ষণের রাজ্য, তলাবিহীন ঝুড়ি, মাঝিবিহীন তরী, দুর্নীতি এবং জুয়া ও ক্যাসিনোর আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে উন্নত দেশের কর্তাব্যক্তিরা আক্ষেপ করেন; আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তিরাও হীনমন্যতায় ভোগেন; তখন আমরা বলতে পারি, এমন নিরাশার করালগ্রাস থেকে উম্মাহকে রক্ষার তাগিদে কিছু সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ছাত্রশিবির। যারা দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়ার কাছে পরাস্ত হওয়ার নয়, বরং দুনিয়া তাদের কাছে পরাস্ত হবে ইনশাআল্লাহ। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরে সম্মুখে এগিয়ে চলছে সফলতার পথে।

প্রসঙ্গত : উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (যা শিবির নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন। এই দলটির পূর্বতন নাম ছিল পাকিস্তান ছাত্র সংঘ। ১৯৭১ এর পূর্বে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংস্থার নাম ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘ। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার দায় এ দলটির ছাত্রসংগঠনটির উপরও রয়েছে। যে কারণে ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর ১৯৭৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির” নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৭ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শিবির প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডিত মীর কাশেম আলী এবং প্রতিষ্ঠাকালিন দলটির সদস্য ছিলো মাত্র ছয় জন।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে আরও জানা যায় – এ ছাত্র সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাদের দায়ে দন্ডিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধংসাত্বক আন্দোলনের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হয়।  ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অধিভুক্ত ‘ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর স্টাডি অব টেরোরিজম অ্যান্ড রেসপন্স টু টেরোরিজমের’ তৈরি ফাইলে ছাত্র শিবিরকে একটি ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয় যে এটির সাথে পৃথিবীর বৃহৎ জঙ্গী সংগঠনসমূহের সম্পর্ক রয়েছে। তবে ছাত্রশিবির এ অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে।

সম্পাদনা ও বিন্যাস : হাছিব আর রহমান।

মন্তব্য করুন