বেফাক চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের চরমোনাই মাদরাসা সফর

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২১

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার সর্বোচ্চ শিক্ষা সংস্থা আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান ও বেফাকের মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ মাদ্রাসায়’ গিয়েছেন।

আজ রবিবার (৩১ জানুয়ারী) পূর্ব নির্ধারিত এক সফরকে কেন্দ্র করে তারা চরমোনাই মরহুম পীর মাওলানা ফজলুল করীম রহ. এর স্মৃতিধন্য এ প্রতিষ্ঠানে যান।

বরিশাল থেকে যাত্রা করে দুপুর ১ টা ২০ মিনিটের দিকে তারা চরমোনাই মাদরাসায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

সেখান থেকে তারা দ্বীপজেলা ভোলার গোরস্থান মাদরাসায় বেফাকের একটি প্রোগ্রামে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।

সূত্রমতে চরমোনাই মাদরাসায় পৌঁছে জোহরের নামাজ আদায় করে মাদরাসার ছাত্রদেরকে জামিয়ার মসজিদে বসে নসিহত করেছেন শায়খে যাত্রাবাড়ী, মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান। ‘তিনি ছাত্রদের প্রতি সুন্নতি জীবন গড়ার এবং পড়ালেখায় গভীর মনযোগী হওয়ার আহবান করেছেন। ইলমের সাথে সাথে আমলের দিকে গভীর মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।’

আলোচনায় বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন – ‘শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং ভারত উপমহাদেশসহ সারা পৃথিবীতে যারা হকের কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো দেওবন্দী ওলামায়ে কেরামগণ। চরমোনাই কওমিয়া মাদ্রাসা দেওবন্দের সিলসিলা অনুযায়ী পরিচালিত এবং বেফাকের সাথে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির জন্য চরমোনাই মরহুম পীর সৈয়দ ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহী এবং সৈয়দ ফজলুল করিম রহমাতুল্লাহ আলাইহী বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানেও যারা প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর অগ্রগতির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করছি এবং এই প্রতিষ্ঠানটি যাতে আরো বেশি এগিয়ে যেতে পারে সেই দোয়া করছি।’

প্রসঙ্গত : চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ মাদ্রাসাটি বরিশালের অন্যতম একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে একইসাথে আলিয়া মাদ্রাসা কওমী মাদ্রাসা এবং মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে। চরমোনাই কওমিয়া মাদ্রাসা বরিশালের সর্ববৃহৎ কওমি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। বেফাক অন্তর্ভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ হাজারের মত ছাত্র রয়েছে। এছাড়াও চরমোনাই কওমি মহিলা মাদ্রাসাটি বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মহিলা মাদ্রাসার মধ্যে অন্যতম। প্রায় দুই হাজার ছাত্রী রয়েছে মহিলা মাদরাসায়।

চরমোনাই মরহুম পীর সৈয়দ ইসহাক রহ. সর্বপ্রথম চরমোনাইতে চরমোনাই আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর চরমোনাই মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করিম রহ. কওমিয়া শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বর্তমান চরমোনাইয়ের পীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ রেজাউল করিম এবং সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম দুই সহোদরের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রূপ নিয়েছে। শুধু বরিশাল বিভাগেই নয় বরং বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ।

মন্তব্য করুন