বৃক্ষরোপন ও জাতীয় পতাকা উড়িয়ে অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু

প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের পতাকা উড়িয়ে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। রাম মন্দিরের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অযোধ্যার ধান্নিপুর গ্রামে পাঁচ একরের প্লটে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) ট্রাস্টের সদস্যরা এই নির্মাণের কাজ করবেন।

ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) যে নকশা প্রকাশ করেছিল তা অনুসারে, মসজিদটি বাবরি মসজিদের মতো আকারের হবে। কিন্তু অন্যান্য মসজিদের তুলনায় এর কাঠামোর আকার অনেকটাই আলাদা।

মঙ্গলবার সকালেই নির্মাণস্থলে হাজির হন আইআইসিএফ ট্রাস্টের প্রধান জাফর আহমেদ ফারুকি ও অন্য সদস্যরা। সকাল পৌনে ৯টায় পতাকা উড়িয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফারুকি।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারুকি বলেন, ‘নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট চলে এলে এবং মসজিদের নকশা অনুমোদন পেলেই পাকাপাকিভাবে নির্মাণকাজ শুরু করব।’ মসজিদ নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গেছে। সবাইকে আহ্বান করা হয়েছে মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ দান করতে। অনেকেই এরই মধ্যে অর্থ দান করেছেন বলে জানান ফারুকি।

প্রসঙ্গত, বাবরি মসজিদের বদলে অযোধ্যায় নির্মিত মসজিদ কমপ্লেক্সটি ১৮৫৭ সালের ইংরেজবিরোধী প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা মৌলভি আহমদুল্লাহ শাহকে উৎসর্গ করা হবে। ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের সূত্রে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে।

ভারতের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নির্মিতব্য মসজিদ কমপ্লেক্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দো-ইসলামিক কালচালার ফাউন্ডেশনের (আইআইসিএফ) মহাসচিব আখতার হুসাইন বলেন, ‘অযোধ্যার মসজিদ প্রকল্পটি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা মৌলভি আহমদুল্লাহ শাহকে উৎসর্গের বিষয়টি ট্রাস্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে আমাদেরকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা আলোচনা করে এ বিষয়ে ঘোষণা দেব।’ অযোধ্যার মসজিদ কমপ্লেক্সটি সামাজিক ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে থাকবে। আর তাই কমপ্লেক্সটি শাহের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে। তিনি ভারতের ভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল নিদর্শন ও ইসলামের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।

মন্তব্য করুন