অটোপাশের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে সরকার: ইশা

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

সরকার ভোটবিহীন নির্বাচনের মত পরীক্ষাবিহীন অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি।

গতকাল ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল করীম আকরাম এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এর সঞ্চালনায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা-২১’র শপথগ্রহণ ও বার্ষিক পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল করীম আকরাম বলেন, করোনা মহামারীর থেকেও ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ। বিশেষ করে করোনার অজুহাতে দীর্ঘ প্রায় দশ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। যা তাদের মানসিক ও শিক্ষাজীবনে এক দীর্ঘ মেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাথে সাথে এসএসসি, এইচএসসিসহ উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের তেমন কোন সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাড়ে ১৩লাখের বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি।

এমনি এক পরিস্থিতিতে সরকার সংসদে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল ২০২১’ ও ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল ২০২১’ পাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অটোপাসের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, অটোপাসের মাধ্যমে কোনভাবেই শিক্ষার্থীদের মেধার যথার্থ মূল্যায়ন হতে পারে না। এমন হটকারি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অবিচারের নামান্তর। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার ভোটবিহীন নির্বাচনের মত পরীক্ষাবিহীন অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি দ্বৈত নীতি। একদিকে করোনার অজুহাতে স্ব-শরীরে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্যদিকে আবাসিক হলগুলো বন্ধ রেখে স্ব-শরীরে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত। এটি নিছক তামাশা বৈ কিছু নয়। যদি স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়া যায় তাহলে স্ব-শরীরে পাঠদান বন্ধ থাকবে কেন?

অনতিবিলম্বে সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বাস্তবমূখী সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। এজন্য প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমহল, অভিবাবক সমাজের সাথে আলোচনা করে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ পূর্বক কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে জোর দাবী জানান তিনি।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম শোয়াইব, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইউসুফ আহমাদ মানসুর, প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম হুসাইন, প্রচার ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক নূরুল বশর আজিজী, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক সুলাইমান দেওয়ান সাকিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী, কওমি মাদরাসা সম্পাদক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যবৃন্দ।

মন্তব্য করুন