চলে গেলেন মিশরের বিখ্যাত আলেমা ও দ্বীনের দাঈ

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশিষ্ট দায়ি ও সমাজসেবক ড. আবলা আল কাহলাবি মারা গেছেন। রবিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে করোনা সনাক্তের পর দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে ৭২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। কোরআন, হাদিস ও ফিকহের পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন ড. আবলা। অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার পাশাপাশি মিশরের জনগনের কাছে তাঁর আরেকটি পরিচয় ছিল।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও দারিদ্রপীড়িতদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় তাদের কাছে তিনি ‘মা আবলা’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ড. আবলা ১৯৪৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মিশরের বিখ্যাত শিল্পী মুহাম্মদ আল কাহলাবির মেয়ে ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে তিনি তূলনামূলক ইসলামী আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

১৯৭৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বাবার অনুরোধেই ড. আবলা আল আজহারের ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির ফিকাহ বিভাগের অধ্যাপনা শুর করেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কটি বিভাগে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন। ড. আবলা এ সময় সৌদির রিয়াদে কলেজ অব এডুকেশন ফর গার্লস ও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস কলেজেও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে কলেজ অব এডুকেশনের ইসলামী শরিআহ বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে মাগরিবের পর প্রদত্ত বিশ্বের ভিভিন্ন দেশের নারীদের মজলিসে অংশগ্রহণ শুরু করেন।

এ সময় ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতা ভিত্তিক প্রামাণ্য আলোচনায়ও শুরু করেন যা মুসলিম নারীদের ইসলামী জীবনবিধান সম্পর্কে জ্ঞান আহরণে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। অতঃপর কায়রো ফিরে এসে ড. আবলা তার পিতা মুহাম্মদ আল কাহলাবির মসজিদে নিয়মিত নারীদের জন্য পাঠদান শুরু করেন। কায়রোর বাসাতিন এলাকায় তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থা বিষয়ক জীবনঘনিষ্ঠ পর্যালোচনা শুরু করেন। ড. আবলা মিশরসহ আরব দেশগুলোর বিভিন্ন টিভি প্রোগ্রামে নিয়মিত অংশ নেন।

অসুস্থতার পর তিনি ফেসবুকে লাইভ শো শুরু করেন। তার সর্বশেষ নিয়মিত প্রোগ্রাম ছিল ‘আল বাকিয়াত আস সালিহাত’ তথা চিরস্থায়ী আমল বিষয়ক। ড. আবলা কায়রোর মুকাত্তিম নগরে ‘আল বাকিয়াত আস সালিহাত’ নামে সমাজাসেবামূলক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে এতিম শিশুদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল স্থাপন করেন। এছাড়াও দারুল ইফতা, মসজিদ, মাদরাসাসহ বৃদ্ধদের আশ্রয়কেন্দ্র ও আলঝাইমার রোগাক্রান্ত বৃদ্ধদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রেসহ সুবিশাল কমপ্লেক্স গড়ে তুলেন তিনি। আল জাজিরা ,কায়রো টাইমস ও গলফ নিউজ।

মন্তব্য করুন