কমলাকে নিয়ে আশার আলো দেখছেন কাশ্মীরবাসী

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। গত ২০ জানুয়ারি তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপর থেকেই ভারত অধ্যুষিত কাশ্মিরিদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, নতুন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কাশ্মীরের অধিকার ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে কমলা হ্যারিস ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘু এবং কাশ্মীরের অধিকারের বিষয়ে দিল্লি সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনা করেছিলেন। তখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নেতা কাশ্মিরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, কাশ্মীরিদের যেন মনে করিয়ে দেয়া হয় যে, তারা বিশ্বে একা নন।

২০১৯ সালের আগস্টে মোদি সরকার কর্তৃক ভারতীয় সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অধিকার বাতিল ও এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার কয়েকদিন পর তৎকালীন সিনেটর কমলা হ্যারিসের কাছ থেকে এ মন্তব্য এসেছিল। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভূমিকা এবং কাশ্মিরি বংশোদ্ভূত নারী সামিরা ফাজিল ও আয়েশা শাহকে বাইডেন প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করায় অঞ্চলটিতে পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীনগরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক গওহর গিলানি আরব নিউজকে বলেন, কাশ্মীর প্রসঙ্গে কমলা হ্যারিস বেশ খোলামেলাভাবেই কথা বলেছেন। তাই তার ক্ষমতায় আসা আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। যখন মোদির বন্ধু ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজিত হয়, তখনই এটিকে নিজেদের প্রতিকী জয় হিসেবে ধরে নেয় কাশ্মীরিরা। তারা এটাও বিশ্বাস করে যে, নতুন মার্কিন প্রশাসন নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কথা বলবে এবং কাশ্মিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এই বিরোধের রাজনৈতিক সমাধানের কারণে খুব বেশি আন্দোলন হবে না বলেই মনে করি। শ্রীনগরভিত্তিক আইনজীবী দিবা আশরাফও পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে কাশ্মির ইস্যু সমাধানের ক্ষেত্রে কিছুটা আশা দেখছেন।

তিনি বলেন, উভয় দেশই অঞ্চলটিকে পুরোপুরি নিজেদের বলে দাবি করে এবং কিছুটা অংশে শাসন করে। তবে নতুন মার্কিন প্রশাসন আসায় আমাদের মধ্যে এখন কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট বাইডেন সবার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন এবং তিনি আইনক্ষেত্রের লোক হওয়ায় এ ইস্যুতে ভালোভাবে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন। তিনি কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য উভয় দেশকে চাপ দিতে পারেন।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর সিদ্দিক ওয়াহিদ বলছেন, বাইডেন প্রশাসন কাশ্মীরের প্রতি অনেক বেশি সহনশীল হবে বলেই আশা করি। কারণ, প্রচলিতভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি রিপাবলিকান পার্টির থেকেও গণতন্ত্রকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করে।

মন্তব্য করুন