আপন ভাই কর্তৃক নিরুদ্দেশ পাঠিয়ে দেয়া রফিকুলের দায়িত্ব নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ভরণপোষণের দায়িত্ব না নিয়ে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে নিরুদ্দেশ পাঠিয়ে দেয়া নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের শিশু রফিকুলের দায়িত্ব নিতে চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আজ ফেসবুকে ব্যারিস্টার সুমন এক লাইভে এসে এ কথা বলেন। একই সাথে রফিকুলের সন্ধান দিতে নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ইউএনও সহ স্থানীয় লোকজনের প্রতি আবদার জানিয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমে রফিকুল সম্পর্কে একাধিক নিউজ প্রতিবেদন হওয়ার পরে বিষয়টি নজরে আসে ব্যারিস্টার সুমনের।

এরপর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আজ থেকে দুই দিন আগে রাজবাড়ীতে রফিকুল নামে একটি ছেলেকে পাওয়া গেছে যাকে তার ভাই ভাবী ভরণপোষণের দায়িত্ব না দিয়ে নিরুদ্দেশ ভাবে নওগা থেকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে। এখন রাজবাড়ী থেকে হয়তো তাকে আবার নওগাঁয় পাঠানো হবে। আমি এই ভিডিওর মধ্য দিয়ে বলতে চাই যে, আমি ওই ছেলের সকল দায়িত্ব নিতে চাই।

তিনি আহবান জানিয়ে বলেন – আমার ফলোয়ার তালিকার নওগাঁবাসী, নওগাঁর ইউএনওসহ নওগাঁর ডিসি সাহেবের উদ্দেশ্যে বলছি তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এই রফিকুলের দায়িত্ব আমি নিতে চাই। আমি জানি না যে এরকমভাবে কত মানুষের দায়িত্ব নিতে হবে তবে আমার সামর্থ্য যতদিন পর্যন্ত আছে আমি এরকম দায়িত্ব নিতে চাই। বলেন ব্যারিস্টার সুমন।

তিনি আরও বলেন – আমি আজকে বলতে চাই এখানে আপনারা যারা নওগাঁর মানুষ আছেন রানীনগর উপজেলার যারা আছেন, কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তারা যদি ওই ছেলেটার কোন ব্যবস্থা করতে না পারেন তাহলে আমাকে একটু কল করবেন। আমি অবশ্যই রফিকুলের দায়িত্ব নিতে চাই কারণ আমি মনে করি তার ভাই-ভাবি যদিও তাকে ছেড়ে দিছে তবে বাংলাদেশে এখনো অনেক ভাই-ভাবি  আছে যারা ভাইয়ের মত করে এই ছেলেটার দায়িত্ব নিতে চায়।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন – আমি ছেলেটিকে শিক্ষিত করতে চাই। আমি মনে করি ও একদিন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রফিকুল সম্পর্কে জানা গেছে – ভুক্তভোগী শিশু রফিকুল ইসলামের বাড়ী নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত বাদেশ মন্ডলের ছেলে। গত শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে তাকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যায়। তাকে তার ভাই-ভাবি নিরুদ্দেশভাবে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে।

১০ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিরুদ্দেশ পাঠিয়ে দেয়ার সময় তার ভাই-ভাবি তাকে বলে দিয়েছে ‘আমরা তোকে আর রাখব না, তোর মন যেখানে যেতে চায় চলে যাবি’।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক এসএম হেলাল খন্দকার শিশুটিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে নিয়ে যান।

শিশু রফিকুল জানান, তার বয়স ১০ বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা-মা প্রায় এক বছর আগে মারা যান। তাদের মৃত্যুর পর থেকে একমাত্র আপন ভাই রফিকুলের কাছে থাকতো সে। তার ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করেন এবং নওগাঁর রানীনগরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। হঠাৎ শনিবার তার ভাই-ভাবি তাকে আর রাখতে পারবে না বলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেন।

মন্তব্য করুন