কারাগারে নারীসঙ্গ; আল্লাহর ওয়াস্তে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বললেন সুমন

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

সম্প্রতি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর বন্দি হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত জিএম তুষার আহমেদকে কারাগারে নারী সঙ্গীর ব্যবস্থা দেওয়া হয়ে। কারাগারে নারীসঙ্গ পাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আজ রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে লাইভে এসে সায়েদুল হক সুমন বলেন, আগে জানতাম জেলখানায় নারী ব্যতীত সব পাওয়া যায়। এখন বাংলাদেশের অবস্থা এমন জায়গায় চলে গেছে যে, জেলে নারীসঙ্গও পাওয়া যায়। শুধু একবার নারীসঙ্গ পাওয়ার জন্য তুষার কয়েক লাখ টাকাও খরচ করেছেন বলে উল্লেখ করেনে সুমন।

সুমন বলেন,  জেল হল এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে মানুষের চারিত্রিক উন্নতি হওয়ার কথা। আপনার আগেই জানতেন যে, জেলখানায় যেসব আইজিপি ছিল, তাদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এখনও কি বুঝতে বাকি নেই যে, এদের টাকা কীভাবে আসে!

তিনি বলেন, আমি নিজেই দেখলাম রত্না রায়ের একটা রিপোর্ট। কাকে কী পরিমান টাকা দেওয়া হয়েছে। যদি সেখানে রত্না নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। আমি আরও আশ্চর্য হয়েছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটা বক্তব্য দেখে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য আসার পরও কেন তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা সাসপেন্ড হবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন এমন একটি রিপোর্ট দেখতে পাচ্ছি না যে, তাদেরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে কবে সাসপেন্ড করা হল এবং তাদের ব্যাপারে পার্মানেন্টলি কি ব্যবস্থা নেওয়া হল। এটা যদি মানুষের সামনে না আসে তাহলে সরকারি কর্মকর্তারা অপরাধ করে যাবেন আর তাদেরকে শুধু সাসপেন্ড করা হবে তাহলে তো দুর্নীতিকারীদের অসুবিধা নেই।

সুমন বলেন, সরকারের কাছে আমার বক্তব্য হল, এখন অন্ততপক্ষে ভাবার সময় হয়েছে। আমাদের জেলখানাগুলো আর জেলখানা নেই। এগুলো শোধনাগার নেই। এখন জেলে গেলে আরও বড় অপরাধী হয়ে বের হয়। শুধু কাসিমপুর কারাগার নয়, বাংলাদেশেল সব কারাগারগুলোর একই অবস্থা।

তিনি বলেন, সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার আছে। সীমালঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ কোনদিন মাফ করেন না। তাই সীমালঙ্ঘন করার আগেই বলছি এমন ব্যবস্থা নেন যাতে কারাগারে আর যাই হোক কখনও যেন নারীসঙ্গ পাওয়ার মতো ঘটনা না ঘটে।

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর বন্দি হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত জিএম তুষার আহমেদকে কারাগারে নারী সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বোরবার প্রত্যাহার করা হয়েছে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-১ এর সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ। এনিয়ে মোট পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রথমে প্রত্যাহারকৃতরা হলেন- কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান। কারা অধিদপ্তরের দেওয়া গত ১৮ জানুয়ারির এক আদেশনামায় দেখা গেছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ থেকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন