সংসদে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও নাস্তিক নির্মূল কমিটি প্রতিহতের দাবি

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও নাস্তিক নির্মূল কমিটি প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি জানান।

ফিরোজ রশীদ বলেছেন, আমাদের কিছু সংগঠন আছে অনেকে ভুঁইফোড়। একটি সংগঠন আছে নাস্তিক নির্মূল কমিটি আর একটি সংগঠন হচ্ছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এই নির্মূল করার ক্ষমতা এদের কে দিয়েছে। তুমি কে লোককে নির্মূল করার। আমাদের দেশে কোর্ট-কাচারী আছে না? অনেক বিচার করেছে এই সরকার।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে ঘাতকদের বিচার হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তুমি কেন নির্মূল করতে চাও, তোমরা নির্মূল করার কারা। তোমরা নিজেরা পুলিশ পাহারায় থেকে ধান্দাবাজি করছো। এদের প্রতিহত করা দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো এই সমস্ত সংগঠনগুলো বন্ধ করুন যাতে কেউ নির্মূল করতে না পারে। কিসের নির্মূল কমিটি। এটা সমাজের একটা কালচার হয়ে গেছে।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, উন্নয়নের প্রথম ভিত রচনা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু মনে করতেন পরাধীন দেশে কখনো উন্নয়ন করা সম্ভব না। তাই তিনি সর্বপ্রথম বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। এরশাদ সাহেবের আমলে গ্রাম বাংলায় অভুতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে সর্বত্র। দুঃখ লাগে সরকারের সর্বক্ষেত্রে সাফল্য কৃতিত্বের পেছনে জাতীয় পার্টির একটা ভূমিকা আছে কিন্তু আওয়ামী লীগের কোন নেতা কোনদিন একবারও নাম উচ্চারণ করে না। আমরা তো হাজার বলি এই সরকারের এই কাজ হয়েছে। আমাদের তো কার্পণ্য নেই তাদের কেন এতো কার্পণ্য রাজনীতিতে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সাল নির্বাচনের আগে জননেত্রী বলেছিল যে ধ্বংসযোগ্য চলছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যদি জাতীয় পার্টি না আসত নির্বাচন হত না, নির্বাচন না হলে সরকার হতো না। সরকার না হলে উন্নয়ন হতো না সংবিধান থাকত না গণতন্ত্র থাকত না। সব তছনছ হয়ে যেত ধ্বংস হয়ে যেত। জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই নির্বাচনে এসেছিল। জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে উন্নয়নে বিশ্বাস করে।

নিজ দলের এমপিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত সংসদ। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছি এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের কারো কারো বক্তব্যে বোঝা যায় না আমরা কোন দলের সংসদ সদস্য। কোন কোন সংসদ সদস্য একবারও জাতীয় পার্টির নাম উচ্চারণ করে নাই। আমাদের নেতা এইচএম এরশাদ সাহেবের নাম উচ্চারণ করে নাই। অথচ তারা আমাদের দলের সংসদ সদস্য। আমাদের মনোনয়ন নিয়ে সংসদে আছেন।

অর্থনৈতিক খাতে লুটপাট হচ্ছে তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলো একদম দুর্বল এবং নড়বড়ে এবং দুর্নীতি নির্ভর করেছে। ব্যাংকিং সেক্টর হাজার হাজার কোটি নিয়ে মানুষ বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। এই ব্যাংকের পরিচালক ওই ব্যাংক থেকে নেয় ওই ব্যাংকের পরিচালক এই ব্যাংক থেকে নেয়। যখন একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকে আত্মীয় স্বজনের অভাব হয় না। শালা সমন্ধি তার শালা তার শশুর বাড়ি এরা সবাই ঝাপিয়ে পড়ে ব্যাংক থেকে লোন নেবার জন্য। লোন পেয়েও তো যাচ্ছে। এই টাকা কোথায় যায় মনিটরিং হচ্ছে না।

এর আগে ২০২০ সালের ১০ আগস্টে ভুয়া দলিল করে ধানমণ্ডিতে বাড়ি আত্মসাতের মামলায় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতে দুদকের উপ-পরিচালক মো জাহাঙ্গীর আলম এ চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।

চার্জশিটে বলা হয়, ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার প্লট নম্বর ৭০ (পুরাতন) ১০ (নতুন), রোড নম্বর ২ এর ১ বিঘা সরকারি জমিসহ বাড়িটি আত্মসাৎ করেছেন ফিরোজ রশীদ। ওই বাড়িটি সরকারিভাবে মোহাম্মদ আলীর অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। যা পরবর্তীতে মরহুম মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম আলেয়া মোহাম্মদ আলী, পুত্র সৈয়দ মাহমুদ আলী ও কন্যা সৈয়দা মাহমুদা আলীর বরাবরে হস্তান্তর করা হয়।

মন্তব্য করুন