চসিক নির্বাচনে মার্কিন নির্বাচনের চেয়েও বেশি ‘সৌহার্দ্য’ বিরাজ করছে: সিইসি

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২১

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা দাবি করে বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মার্কিন নির্বাচনের চেয়েও বেশি ‘সৌহার্দ্য’ বিরাজ করছে। রবিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চসিক নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই দাবি করেন।

নুরুল হুদা বলেন, চট্টগ্রামে মার্কিন নির্বাচনের চাইতেও বেশি ‘সৌহার্দ্য’ বিরাজ করছে। প্রার্থীদের হাজার সমর্থক রাস্তায় মিছিল করে। কোথাও কোনো সংঘাতের রূপ নেয় না এখানে। নির্বাচন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত যা আছে তা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।

সভাশেষে সাংবাদিকরা মার্কিন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বিষয়টিকে কথার কথা বলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে বলেন, মার্কিনরা নির্বাচন করবে তাদের আইডোলজি অনুযায়ী, আমরা আমাদের নির্বাচন করবো আমাদের আইডোলজি অনুযায়ী। মার্কিনটা আমাদের কি দরকার, এগুলো কথার কথা

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই এবং এর প্রয়োজনীয়তাও বোধ করি না। ইভিএমে যেখানে নির্বাচন হবে, সেখানে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য থাকবে। ভেতরে গিয়ে একজনের ভোট আরেকজনে দেয়া ইভিএমে সম্ভব না।

চসিক নির্বাচনে হত্যা মামলার আসামিরা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, নির্বাচনী বিধিমালায় কারা প্রার্থী হতে পারবে সে সম্পর্কে বলা আছে। তাই কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেই তিনি অপরাধী নন। যদি কেউ শাস্তি পান বা কারাদণ্ড হয় তাহলে তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা আমাদের দায়িত্ব।

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, যদি কোনো ফৌজদারি কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে যারা কোনো ধরনের হয়রানির সঙ্গে সম্পৃক্ত না, তাদের যেন হয়রানি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

এ সময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে সিইসি বলেন, এই অভিযোগ সঠিক না। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে- এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ওয়ারেন্ট আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি নিয়ে সিইসি বলেন, শনি বা বৃহস্পতিবার নির্বাচন দিয়ে আমরা আশা করি যে, ছুটি পেয়ে ভোটাররা ভোট দেবেন। কিন্তু দুই-তিনদিনের ছুটি পেয়ে ভোটাররা আর ভোট দিতে যান না। এই কারণে আমরা ছুটির ঘোষণা রাখিনি। আমরা এখন মাঝখানে (ভোটের দিন) রাখি। এখন আমরা বলছি যারা বিভিন্ন অফিস আদালতে কর্মরত থাকবেন তাদের যেন ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এ সময় তিনি জানান, নির্বাচনের দিন ট্রাক ও মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে মাস ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (গণপরিবহন) চালু থাকবে।

মন্তব্য করুন